মাত্র ১১ বছর বয়সে শরণার্থী হয়ে শাওনা ইমারু যখন অস্ট্রেলিয়ায় আসেন তখন তার ধারণাই ছিল না, দেশটি কোথায় - এখন সেই অস্ট্রেলিয়াই এখন তার স্থায়ী বাসস্থান, এই দেশের প্রাপ্ত সুযোগগুলো ব্যবহার করেই আজ তিনি সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন।
এসবিএস নিউজকে তিনি বলেন, “আমার সেসময় ধারণাই ছিল না আমরা কোথায় যাচ্ছি, কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবেই জানতাম আমি এমন এক জায়গায় যাচ্ছি যেখানে আমার ভবিষ্যৎ আছে, আমার সুযোগ আছে অনেক কিছু করার।"
তানজানিয়ার একটি শরণার্থী ক্যাম্পে জন্ম নেয়া শাওনা স্বপ্ন দেখতেন যে তিনি অন্যদের সাহায্য করবেন।
"আমি সব সময়েই মিডওয়াইফদের পছন্দ করতাম।"
"আমি নার্স হতে চেয়েছিলাম, বা মিডওয়াইফ হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা সম্ভব ছিল না, কারণ রেফিউজি ক্যাম্পে বড়ো হওয়া মেয়েদের ১৬,১৭ বা ১৮ বছর বয়সেই বিয়ে হয়ে যায়। "
কিন্তু অস্ট্রেলিয়া তাকে তার স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছিল। অস্ট্রেলিয়ায় এসে প্রথমে ইংলিশ না জানার কারণে সাময়িক অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে তিনি তা কাটিয়ে উঠেন।
এক সময় তিনি নার্সিং এবং এজড কেয়ারকে পেশা হিসেবে নেন, এবং এডেলেইড হসপিটালে কাজ পেয়ে যান। তিনি হাই স্কুলে পড়া অবস্থাতেই হেলথ সার্ভিসেসে সার্টিফিকেট থ্রী সম্পন্ন করেন।
এই পেশা গ্রহণ করে তিনি কমুনিটির জন্য যেমন কিছু করতে পারছেন, তেমনি কর্মসংস্থানের চিন্তাও করতে হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে এম্প্লয়মেন্ট মিনিস্টার মাইকেলিয়া ক্যাশ বলেন, ভোকেশনাল এডুকেশন এন্ড ট্রেনিং বা VET দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কোভিড ১৯ পরবর্তী অর্থনীতিতে সরকারের চিন্তায় 'শিক্ষার পাশাপাশি উপার্জনের' বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।
তিনি এসবিএস নিউজকে বলেন, "গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ৪.২ মিলিয়ন শিক্ষার্থী ভোকেশনাল শিক্ষায় ভর্তি হয়, অন্যদিকে ইউনিভার্সিটিগুলোতে ভর্তি হয় মাত্র এক মিলিয়ন।"
এসবিএস নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায় যে যে ১২টি পেশা সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন তার ১১টির জন্য প্রয়োজন VET পাথওয়ে। শুধু তাই নয় ৫০টি উচ্চ বেতনের চাকরির মধ্যে ৩১টির জন্যও প্রয়োজন VET পাথওয়ে।
অস্ট্রেলিয়ায় সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন ১২টি পেশা হচ্ছে:
১. চাইল্ড কেয়ার
২. রিটেল সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট
৩. রিসেপশনিস্ট
৪. ট্রাক ড্রাইভার
৫. ম্যানেজার
৬. সেলস রেপ্রেজেন্টেটিভ
৭. ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট
৮. মেটাল ফ্যাব্রিকেটরস এন্ড ওয়েল্ডার্স
৯. রেজিস্টার্ড নার্স
১০. এজড এন্ড ডিসএবল কেয়ারার
১১. মেটাল ফিটার এন্ড মেশিনিস্ট
১২. মোটর মেকানিক

উগান্ডা থেকে আগত অ্যাসিস্ট্যান্ট নার্স জেইন আলিয়ার মা-বাবা প্রথমে নিশ্চিত ছিলেন না তাকে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি না করানোটা ঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কিনা।
কমুনিটির সবাই যখন তাকে ইউনি'তে পড়তে যেতে বলতো তিনি তখন বুঝতে পারতেন না তারা কতটুকু বুঝে এই উপদেশ দিচ্ছেন। তাই তার জন্য VET কোর্স গ্রহণ করা ছিল একটা চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে ডেন্টাল নার্স হিসেবে কর্মরত আলিয়া এখন আকাংখ্যা করছেন মেডিসিনে ক্যারিয়ার গড়তে।
আরো পড়ুন:
