
সুইডিশ বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুদিন ১০ ডিসেম্বর। প্রতিবছরের অক্টোবরে নোবেল পুরস্কারে ঘোষণা করা হলেও মেডেল দেওয়া হয় প্রবর্তকের আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুদিনটি দিনটি স্মরণ করে।নোবেল পুরস্কার গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পোশাকবিধি রয়েছে। পরনে সাদা জামা ও কালো স্যুটেই মেডেল গ্রহণ করতে হয় প্রাপকদের।মাদার তেরেসার পর সেই রীতি ভাঙলেন ২০১৯-এ অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী দম্পতি অভিজিৎ ও এস্থার।ফরাসি বংশদ্ভুত অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলোও স্বামী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেজেছিলেন বাঙালি সাজে । ধুতি-শাড়ি পরে এই দম্পতি সুইডিশ রাজার কাছ থেকে মেডেল গ্রহণ করেছেন।তবে এর আগে তারা নোবেল কমিটির বিশেষ অনুমতি নিয়েই হাজির হয়েছিলেন ওই পোশাকে।নোবেল কমিটি নাম ঘোষণা করল অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, এস্থার ডুফলো ও মাইকেল ক্রেমারের।অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরনে তখন হলুদ পাড়ের সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, সঙ্গে কালো কোট। বাঙালি সাজে নীল শাড়ি পড়ে নোবেল পুরস্কার মঞ্চে হাজির হলেন এস্থার ডুফলো।
সুইডিশ নোবেল কমিটি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য নাম ঘোষণা করল তিন কৃতির। তালিকার প্রথমেই অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম । তাঁর হাতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেন সুইডেনের রাজা। করতালিতে ভরে উঠল রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি হল। প্রথমে পুরস্কার দাতা ও আলফ্রেড নোবেলের মূর্তিতে বো করলেন অভিজিৎ। তারপরই দর্শকদের উদ্দেশ্যে তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ।স্বামী অভিজিতের পরেই ডাক পড়ল অর্থনীতিবিদ এস্থার ডুফলোর। হাসি মুখে মঞ্চের মাঝখানে এগিয়ে গেলেন শাড়ি পরিহিতা এমআইটির অধ্যাপিকা। তাঁর হাতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেন সুইডেনের রাজা। শেষে পুরস্কার গ্রহণ করেন আরেক নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মাইকেল ক্রেমার।
আরসিটি (র্যান্ডমাইজ়ড কন্ট্রোলড ট্রায়াল) নিয়ে মূলত গবেষণা চালাচ্ছেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এস্থার দুফলো। এই গবেষণার সাফল্যেই নোবেল জয় করেছেন তারা। দু’জনেই ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক।ফরাসি-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এস্থার দুফলো বিশ্বের দ্বিতীয় নারী হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন ।তিনি অর্থনীতিতে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ীও।
