স্পনসর প্যারেন্ট (টেম্পোরারি) ভিসা (সাবক্লাস ৮৭০) চালু করা হচ্ছে ১ জুলাই ২০১৯ থেকে। অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ডেভিড কোলম্যান গত ১ মার্চ ২০১৯ এ ঘোষণা করেন।
এই অস্থায়ী ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের মা-বাবাকে ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসতে পারবেন। দ্বিতীয় বার আরও পাঁচ বছরের জন্য ভিসা নবায়ন করা যাবে। তবে, নবায়নের আগে কমপক্ষে ৯০ দিন অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থাকতে হবে।
৩ বছর পর্যন্ত ভিসার জন্য ফিজ ৫ হাজার ডলার এবং ৫ বছর পর্যন্ত ভিসার জন্য ফিজ লাগবে ১০ হাজার ডলার। ভিসা ফিজ দুই কিস্তিতে দেওয়া যাবে, প্রথমে ভিসা আবেদনের সময়ে এবং পরবর্তীতে ভিসা মঞ্জুর হওয়ার আগে।
এতো উঁচু হারের ভিসা ফিজ নির্ধারণ করায় অনেকেই সরকারের সমালোচনা করেছেন। হোম অ্যাফেয়ার্স-এর ওয়েবসাইটে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে: বাবা-মায়েরা দীর্ঘ দিন অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামোর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, তাদের বেশিরভাগই আয়কর দেবেন না। এছাড়া, তারা একটানা ৫ বছর (নবায়ন করা হলে ১০ বছর) অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করতে পারবেন। বিদ্যমান ভিসার নিয়ম অনুযায়ী তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর পর অস্ট্রেলিয়ার বাইরে যেতে হবে না। ফলে প্লেন ভাড়া বেঁচে যাবে।

যে-সব বাবা-মায়ের জন্মগত, দত্তক বা সৎ সন্তান অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক কিংবা স্থায়ী অভিবাসী কিংবা নিউজিল্যান্ডের যোগ্য নাগরিক, শুধুমাত্র তারাই বাবা-মাকে স্পনসর করতে পারবেন।
এই ভিসার বার্ষিক কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগ প্রতিবছর (১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত) সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ভিসা মঞ্জুর করবে।
দু’টি ধাপে এই ভিসার আবেদন সম্পন্ন হবে। প্রথমে সন্তানকে স্পনসর হওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। স্পনসরশিপের আবেদন গ্রহণ করা শুরু হবে ১৭ এপ্রিল ২০১৯ থেকে। স্পনসরশিপ আবেদনের ফিজ ৪২০ ডলার।
যারা বাবা-মাকে স্পনসর করতে চান তাদেরকে বাবা-মায়ের ফাইনান্সিয়াল গ্যারান্টর হতে হবে এবং তাদের পেছনে মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির ক্ষেত্রে সরকারের যে খরচ হবে সেসবও পরিশোধ করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপে, সন্তানের স্পনসরশিপের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর মূল আবেদনকারী মা-বাবারা আবেদন করতে পারবেন। এটি শুরু হবে ১ জুলাই ২০১৯ থেকে। স্পনসরশিপ আবেদন মঞ্জুর হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে মূল ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
এই ভিসার বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা
এটি অস্থায়ী ভিসা। এতে স্থায়ী অভিবাসনের কোনো পাথওয়ে রাখা হয় নি।
এই ভিসাধারীরা অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করার অনুমতি পাবেন না।
ভিসার মেয়াদকালে একাধিকবার ভ্রমণ করা যাবে।
যারা ইতোমধ্যে প্যারেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করেছেন এবং ভিসা-সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন, ভিসা প্রক্রিয়াকরণের এই সময়টিতে তারা এই ভিসার মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে অস্ট্রেলিয়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন এবং তাদের ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনির সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
