মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কার্টুন প্রকাশ করার অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বাংলাদেশে। সোমবার সেখানে অন্তত ৫০,০০০ লোক অংশ নিয়েছে ফ্রান্স-বিরোধী প্রতিবাদ কর্মসূচিতে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ ঢাকার বায়তুল মোকাররম থেকে একটি মিছিল শুরু হয় এবং ফরাসি দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে এটিকে আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আনুমানিক ৫০ হাজার লোক অংশ নিয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। আয়োজকরা অবশ্য দাবি করে বলছে যে, এতে লাখো লোকের সমাগম হয়েছে। ফরাসি পণ্য পরিহার করার আহ্বান জানানো হয় এতে।
প্রতিবাদকারীরা জোরালো কণ্ঠে আওয়াজ তোলে “বিশ্বনবীর অপমান সইবে নারে মুসলমান” এবং তারা ফরাসি নেতার একটি কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে দেয়।

ফ্রান্সে স্কুল-শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাট্টি তার ক্লাসে শিক্ষার্থীদেরকে মহানবী (সা.)-এর একটি কার্টুন প্রদর্শন করে। এর জের ধরে গত মাসে তাকে হত্যা করা হয়। এ সম্পর্কে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ মন্তব্য করেন, যে-সব আইনে ব্লাসফেমাস ক্যারিকেচার করার অনমোদন রয়েছে সেগুলো কখনই প্রত্যাহার করবে না ফ্রান্স। এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় মুসলিম বিশ্বে।
গত সপ্তাহে বাংলাদেশে ফ্রান্স-বিরোধী বড় ধরনের তৃতীয় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম। ১৬ কোটি মানুষের দেশটিতে এটি একটি অন্যতম বড় প্রগতিবাদী (র্যাডিকাল) ইসলামী দল।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকার বাইরে থেকেও বহু লোক আসে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মিস্টার ম্যাখোঁর বিরুদ্ধে নিন্দা-প্রস্তাব আনতে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি বলেন,
“ব্যবসায়ীদের প্রতি আমি বলছি, ফরাসি পণ্য ফেলে দিন। জাতিসঙ্ঘের প্রতি আমি আহ্বান জানাই, ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।”
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
