বৈশ্বিক ক্ষুধা ও অপুষ্টির সূচকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এই সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম, ভারত ১০২তম ও পাকিস্তান ৯৪তম। ৭৩তম অবস্থানে থেকে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেপাল।

মানবিক সহায়তা নিয়ে কাজ করে এমন বৈশ্বিক দুটি সংস্থা ১১৭টি দেশ নিয়ে একটি তালিকা প্রণয়ন করেছে। আয়ারল্যান্ড-ভিত্তিক খাদ্য-নিরাপত্তা-বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ ও জার্মান-ভিত্তিক ‘ওয়েলথ হাঙ্গার লাইফ’ বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার ২০১৯ সালের এই সূচক প্রকাশ করে।
অপুষ্টি, ৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজনের শিশু, ৫ বছরের কম বয়সদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশু, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যু – এই চারটি মাপকাঠির উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
গত বছরের চেয়ে দু’ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। গত বছরে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৬তম।

২০১৪ সালে ভারত ছিল ৫৫ নম্বরে। ২০১৭ সালে তা নেমে আসে ১০০ এবং ২০১৮ সালে ১০৩ এ। এবার এক ধাপ উপরে উঠে ১০২ নম্বরে এসেও শেষ রক্ষা হয় নি। সেজন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধীদলীয় নেতারা মোদির ও কেন্দ্রীয় সরকারকে এক হাত নিয়েছে। দক্ষিণের রাজ্য কেরালার অর্থমন্ত্রী থমাস আইসাক টুইট করে জানিয়েছেন, ২০১৯ বিশ্ব ক্ষুধা সূচক প্রকাশিত হয়েছে। ভারতের র্যাঙ্ক আরও নেমে হয়েছে ১০২। প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই অবনমন। ২০১৪ সালে ভারত ছিল ৫৫ নম্বরে। ২০১৭ সালে তা হয় ১০০ এবং এখন এটি নাইজার ও সিয়েরালিওনের সমপর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশ্বে অনাহার থাকার মানুষের সংখ্যাধিক্য এখন ভারতে।
কর্নাটকের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা সিদ্দারামাইয়াও এ নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে টুইট করেন। টুইটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, অনেকেই বিশ্বাস করেন ‘আচ্ছে দিন আয়েগা’। প্রশ্ন হলো সেই দিন কবে আসবে?’
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক ২০১৯ এ সবচেয়ে ভাল অবস্থানে থাকা দেশগুলো হলো: বেলারুস, বসনিয়া, বুলগেরিয়া, চিলি ও কোস্টারিকাসহ ১৭টি দেশ। আর চরম ক্ষুধার মধ্যে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, মধ্য আফ্রিকা, মাদাগাস্কার, ইয়েমেন ও চাদ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে ৬৬তম অবস্থানে থাকা শ্রী লঙ্কা। এরপরে মিয়ানমারের অবস্থান ৬৯তম।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
