সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি নিয়ে গত মাসে শিক্ষার্থীদের-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ প্রাণঘাতী রূপ নেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছে।
অস্থিরতার ফলে সারাদেশে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় এবং কর্তৃপক্ষ এক পর্যায়ে শুট-অন-সাইট কারফিউ জারি করে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে অন্তত ১১,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলে সারাদেশে গত শনিবার থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, এর ধারাবাহিকতায় গতকাল রোববার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।

রাজধানী ঢাকার একজন শিক্ষার্থী আঁখি আফরোজ রোববারের পরিস্থিতি সম্পর্কে দাবী করেন যে, তিনি পাঁচজনের মৃতদেহ দেখতে পেয়েছেন।
"ছেলেদেরকে কারো কারো মাথায় গুলি করা হয়েছে, কারো মুখ থেকে জিহ্বা বের হয়ে এসেছে বা কারো উড়ে গেছে। আমি ভাবতেও পারি না আমার নিজের দেশের লোকদের মধ্যে এই যুদ্ধ দেখতে হবে। একের পর এক মৃতদেহ আসছে, আমরা এখন কী করব? সবাই ওদের জন্য প্রার্থনা করছে।"
জুলাই মাসে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অন্তত ২৮০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সরকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের-নেতৃত্বাধীন প্রথমে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তাতে পুলিশ ও সরকারের সমর্থক ছাত্রলীগ বাধা দিলে এটি সহিংসতায় রূপ নেয়।
বিক্ষোভকারীরা এর পর থেকে ডজন খানেক সরকারি ভবনের সদর দফতরে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং সরকার ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং সারাদেশে কারফিউ জারি করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ চেয়ে এক দফার দাবি
বিক্ষোভ দমনে সরকারের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করার জন্য ব্যাপকভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
দক্ষিণ এশীয় জাতির প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মানুষের এই ৭৬ বছর বয়সী নেতা 'স্বৈরাচারী' তকমা পেয়েছেন।
হাসিনা - যিনি সত্যিকার অর্থে কোন বিরোধিতা ছাড়াই জানুয়ারির নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পঞ্চম মেয়াদে জয়ী হয়েছেন - বলেছেন ছাত্ররা "তাদের সময় নষ্ট করছে"।
কোটা পদ্ধতির বিরোধিতাকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলেছে যে সরকারি সেক্টরের চাকরিতে নিয়োগের এই স্কিমটি হাসিনার ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অনুগতদের জন্য ব্যবহার করা হয়।
সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে
গতকাল রোববার সরকার সমর্থকদের সঙ্গে কয়েক লাখ বাংলাদেশি বিক্ষোভকারীর আবার সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ বলছে, নিহত প্রায় ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ১৪ জন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।
এদিকে হাসিনাকে কঠোর তিরস্কার করে প্রভাবশালী প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া সরকারকে রাস্তা থেকে সেনা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং "ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের" নিন্দা জানিয়েছেন।
এর আগে বর্তমান সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন যে সশস্ত্র বাহিনী "সর্বদা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে"। তবে তার মন্তব্যে কোন বিশদ বিবরণ ছিল না।
দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলনের নেতারা তাদের সমর্থকদের আজ সোমবার রাজধানী ঢাকায় একটি "চূড়ান্ত প্রতিবাদ" মিছিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে। হ্যাঁ, আমরা আমাদের প্লাটফর্ম বিস্তৃত করছি। এসবিএস সাউথ এশিয়ান, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য।
এসবিএস বাংলা টিউন করুন এসবিএস অন ডিমান্ডে সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায়। দক্ষিণ এশীয় অন্যান্য ভাষায় সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো সরাসরি শুনতেও অন ডিমান্ডে টিউন করুন।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুনএসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো
ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
