২২ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু হচ্ছে। আগের চেয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী হয়েছে। হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক ২০২০ এর তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৮তম। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৯ম। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বৈত নাগরিকরা এক্ষেত্রে কী রকম সুবিধা-অসুবিধা ভোগ করবেন?

Passports of Bangladesh

বাংলাদেশের পাসপোর্ট। Source: iStockphoto

বাংলাদেশে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট। রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু হচ্ছে।

ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গত রবিবার, ১৯ জানুয়ারি সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এতে তিনি ই-পাসপোর্টের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী এবং উত্তরা পাসপোর্ট অফিস থেকে ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সর্বত্র ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশের জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফটোগ্রাফ নেওয়া হয়েছে।

ডিপিআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ বাসস-কে বলেন, জার্মান কোম্পানি ভেরিদোস জিএমবিএইচ বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট নিয়ে কাজ করছে।

ই-পাসপোর্ট প্রচলিত সাধারণ পাসপোর্টের চেয়ে বেশি নিরাপদ। এতে পাসপোর্টধারীর ব্যক্তিগত তথ্য সম্বলিত একটি ইলেক্ট্রনিক চিপ সংযুক্ত থাকে।

মোট ৩ কোটি পাসপোর্ট প্রদান করা হবে। এর মধ্যে ২ কোটি পাসপোর্ট জার্মানি থেকে তৈরি করে আনা হবে। যারা প্রথমে আবেদন করবেন তারা জার্মানির তৈরি ই-পাসপোর্ট পাবেন। এই পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ ও দশ বছর।

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক ২০২০ এ বাংলাদেশ

আগের চেয়ে বাংলাদেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী হয়েছে। বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক ২০২০ এর তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৮ তম।

ভিসা ছাড়া শুধু পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশ গমনের ওপর জরিপের ভিত্তিতে র‌্যাঙ্কিং করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নাগরিকত্ব ও পরিকল্পনাবিষয়ক সংস্থা হ্যানলি অ্যান্ড পার্টনার্স

ভিসা ছাড়া যাওয়া বলতে বোঝায় ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’। অর্থাৎ অগ্রিম ভিসা না করে শুধু টিকিট কেটে অন্য দেশে চলে যাওয়া।

বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৪১টি দেশে ভ্রমণ সুবিধা পান। দেশগুলো হলো এশিয়ার ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রী লঙ্কা, পূর্ব তিমুর। আফ্রিকার বেনিন, কেপ ভার্দে আইল্যান্ড, কোমোরেস, দি জিবুতি, গাম্বিয়া, ঘানা, কেনিয়া লিসোথো, মাদাগাস্কার, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সিশিলিস, সোমালিয়া, টোগো, উগান্ডা। ওশেনিয়ার কুক আইল্যান্ড ফিজি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউয়ি, সামোয়া, ট্রুভালু, ভানুয়াটু। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বাহামা, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডোমেনিকা, গ্রানাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসারাত, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভেনিস অ্যান্ড গ্রানাডিস, ত্রিনিদাদ ও টোবাকো এবং আমেরিকার বলিভিয়া।

বিশ্বের ১৮৫টি দেশে যেতে ভিসা প্রয়োজন হয় বাংলাদেশী পাসপোর্ট ব্যবহারকারীদের।

গত ৮ জানুয়ারি বুধবার প্রকাশিত এই তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ৯৮ তম স্থানে আছে ইরান, ইরিত্রিয়া ও কঙ্গো (ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক)।

Indian Visa rule
অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দ্বৈত নাগরিকদের ভারতীয় ভিসার জন্য উভয় দেশের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আর ভিসা ইস্যু করা হবে বাংলাদেশী পাসপোর্টে। Source: SBS Bangla

দ্বৈত নাগরিকদের কী হবে?

বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক ২০২০ এর তালিকায় অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৯ম। এই পাসপোর্ট নিয়ে আগাম ভিসা ছাড়া যাওয়া যাবে ১৮৩টি দেশে। তবে, যেসব বাংলাদেশী নাগরিক অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিকত্ব লাভ করেছেন এবং দ্বৈত নাগরিক হিসেবে আছেন তারা অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টের সমস্ত সুবিধা ভোগ করার ক্ষেত্রে একটু জটিল পরিস্থিতিতে পড়বেন।

অস্ট্রেলিয়ান নিয়ম অনুসারে অস্ট্রেলিয়া থেকে বের হতে এবং প্রবেশ করতে অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট অবশ্যই লাগবে। এর বাইরে দ্বৈত নাগরিকরা অন্য পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন। তবে, কোনো কোনো দেশে এ রকম দ্বৈত নাগরিকদের জন্য ভিসার নিয়মে জটিলতা ও কঠোরতা রয়েছে। যেমন, ভারতে।

অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ উভয় দেশের দ্বৈত নাগরিকরা যদি ভারতে ভ্রমণ করতে চান তাহলে ভারতের ভিসার নিয়ম অনুসারে উভয় দেশের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। আর ভিসা ইস্যু করা হবে বাংলাদেশী পাসপোর্টে।

দ্বৈত নাগরিকদের কেউ কেউ বাংলাদেশী পাসপোর্ট নবায়ন করেন না। পাসপোর্ট না থাকাটা নাগরিকত্ব না থাকার প্রমাণ নয়। নাগরিকত্ব ছাড়তে হলে নিয়ম অনুসারে প্রত্যাহার করতে হয়।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.


Share

3 min read

Published

By Sikder Taher Ahmad


Share this with family and friends


Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now