ওমিক্রন নিয়ে অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসাধারীদের জন্য সীমান্ত পুনরায় খোলা দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হলো

মরিসন সরকার দক্ষ কর্মী, আন্তর্জাতিক ছাত্র এবং অন্যান্য ভিসাধারীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার সীমান্ত পুনরায় চালু করতে বিলম্ব করছে কারণ তারা ওমিক্রন করোনভাইরাস ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করেছে।

Passengers in an usually quiet baggage arrivals area at Sydney Domestic Airport, Friday, March 20, 2020.

A file photo of the baggage arrivals area at Sydney Domestic Airport. Source: AAP

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল বুধবার থেকে ভিসাধারীদের জন্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত খুলে দেয়ার যে কথা ছিল, তা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, কারণ সরকার COVID-19-এর নতুন ওমিক্রন করোনভাইরাস ভ্যারিয়েন্ট আরও জানতে চায়।

চিফ মেডিক্যাল অফিসার পল কেলির পরামর্শে সোমবার রাতে ঘোষণা করা এই পদক্ষেপটি অস্ট্রেলিয়ার স্কিল মাইগ্র্যান্ট এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ভিসাধারীদের পাশাপাশি হিউম্যানিটারিয়ান, ওয়ার্কিং হলিডে, এবং অস্থায়ী পারিবারিক ভিসা ধারীদের জন্য ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়েছে।

জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ভ্রমণকারীদের জন্য পুনরায় খোলার বিষয়টিও ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিরতি দেওয়া হবে।

সরকারের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়,"এই সাময়িক বিরতি অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টটি আরও ভালভাবে বোঝার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে এবং কিছু বিষয় জানতে সাহায্য করবে, যেমন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা, অসুস্থতার পরিসর, এতে আরও হালকা লক্ষণ দেখা দিতে পারে কিনা এবং সংক্রমণের মাত্রা কি হবে ইত্যাদি।"

Australia's Chief Medical Officer Paul Kelly.
Australia's Chief Medical Officer Paul Kelly. Source: AAP

প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে আরও আলোচনার জন্য মঙ্গলবার জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন।

সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "অস্ট্রেলীয়রা নিশ্চিত হতে পারে যে আমরা কোভিড এবং এর উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থানে আছি।"

“আমরা চিকিত্সা বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে যথার্থ এবং কার্যকর প্রমাণ-ভিত্তিক পদক্ষেপ নেব। এটি নিশ্চিত করবে যে আমরা যাতে নিরাপদে সবকিছু খুলতে পারি, এবং তা যাতে অব্যাহত রাখতে পারি কারণ আমরা ভাইরাসের সাথে বাঁচতে শিখছি।"

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্স ইতিমধ্যে ট্রানজিটে থাকা লোকদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তাদের এখতিয়ার অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে, তবে তারা রাজ্য-ভেদে আইসোলেশন নিয়ম মেনে সিদ্ধান্ত নেবে।

নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরিয়াতে সমস্ত আন্তর্জাতিক আগমনকারীদের অবশ্যই ৭২ ঘন্টার জন্য বাড়িতে আইসোলেশন বা বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। অন্যান্য রাজ্যে, ১৪ দিনের ম্যানেজড-কোয়ারেন্টিন প্রয়োজন হবে, এবং ভ্রমণকারী সংখ্যার নির্দিষ্ট সীমা বা ক্যাপের নিয়ম আছে।

গত উইকেন্ডে সরকার দক্ষিণ আফ্রিকাসহ দক্ষিণ অঞ্চলের নয়টি দেশের অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ব্যতীত ভ্রমণকারীদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে সাময়িক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়, যদিও সেশেলসকে এখন সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওমিক্রন COVID-19 রূপের তীব্রতা নিয়ে অব্যাহত অনিশ্চয়তার মধ্যে হেলথ মিনিস্টার গ্রেগ হান্ট অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক সীমানা ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনরায় খোলার বিলম্বকে "বিরতি" হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

মিঃ হান্ট মঙ্গলবার বলেছিলেন যে এই বিলম্ব স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে আরও মূল্যায়ন করার জন্য সময় দেবে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা প্রচুর সতর্কতার সাথে এটি করছি, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হল যে এটি একটি উদীয়মান ভ্যারিয়েন্ট, এটি একটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য ভ্যারিয়েন্ট।"

"এই সিদ্ধান্ত ভ্যারিয়ান্টটি সম্পর্কে অনুমান থেকে করা হয়েছে, আমরা ১৫ ডিসেম্বর থেকে আবার আন্তর্জাতিক আগমনের অনুমতি দেয়া হবে, তবে সেটা হবে চিকিত্সা পরামর্শ অনুযায়ী।"

এদিকে ডাব্লুএইচও বলেছে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সামগ্রিক বৈশ্বিক ঝুঁকি 'খুব বেশি।'

আগামীকাল বুধবার থেকে প্রায় ২০০,০০০ দক্ষ কর্মী এবং শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাতে শুরু করবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু সেই সময়রেখাটি এখন পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং কমপক্ষে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাতে ফেডারেল মন্ত্রিসভার জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের পরে পুনরায় খোলার বিলম্বের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কারেন অ্যান্ড্রুজ বলেছেন যে সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের উপর এই বিলম্বের প্রভাব সম্পর্কে "তীব্রভাবে সচেতন"।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের সীমান্ত খুলে দেব তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করব।"

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের পাঁচটি নতুন কেস সনাক্ত করেছে।

চিফ মেডিকেল অফিসার প্রফেসর পল কেলি বলেছেন যে এই কেসগুলি "খুব হালকা লক্ষনের", তবে ভ্যারিয়ান্টটি মূল্যায়ন করা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা জানি এটি সংক্রমণযোগ্য। তবে আমরা এখনও ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে জানি না। আমরা এর তীব্রতা সম্পর্কে জানি না এবং এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিবেদন রয়েছে।"

তিনি বলছিলেন যে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ "খুব সক্রিয়ভাবে" পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে এবং সরাসরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে কাজ করছে।

এদিকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টকে আংশিকভাবে ধনী দেশগুলো দ্বারা সৃষ্ট ভ্যাকসিনের বৈষম্যের জন্য দায়ী করা হয়েছে

এদিকে লেবার পার্টির এনডিআইএস মুখপাত্র বিল শর্টেন বলেন, ওমিক্রন স্ট্রেন একটি কার্যকর কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

"আমি মনে করি না যে ৭২ ঘন্টা যথেষ্ট এবং যদি আমরা আরও কঠোর বিধিনিষেধ না রাখতে চাই, তাহলে কোয়ারেন্টিন হবে আমাদের ফ্রন্ট-লাইন ডিফেন্স," তিনি এবিসি টিভিকে বলেন।

গত ২৪ ঘন্টায় ভিক্টোরিয়া ৯১৮টি নতুন COVID-19 কেস এবং আরও ছয়জনের মৃত্যু এবং NSW ১৭৯টি অতিরিক্ত সংক্রমণ রিপোর্ট করেছে।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK

আরও দেখুন:


Share

4 min read

Published

Updated

By Evan Young, Eden Gillespie

Presented by Shahan Alam

Source: SBS News




Share this with family and friends


Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now