মুসলিমদের দাফন করার জন্য ৫টি কবরস্থান আছে সিডনিতে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় কবরস্থান রুকউড। প্রায় সাড়ে নয় একর জায়গায় এখন পর্যন্ত ৬ হাজার মুসলিমকে দাফন করা হয়েছে এ কবরস্থানে।
শিগগিরি শেষ হয়ে যাবে রুকউড কবরস্থানে মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা। রিভারস্টোন কবরস্থানেও বাকি আছে মাত্র ৫০টি কবরের জায়গা, যেখানে এরিমধ্যে দাফন করা হয়েছে ১২৫০ জন মুসলিমকে।

এসবিএস বাংলা ফেইসবুক পেইজ।
এমন অবস্থায় গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন রিভারস্টোন মুসলিম কবরস্থান বোর্ডের চেয়ারম্যান কাজী খালেকুজ্জামান আলী। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এই বাংলাদেশি ১৯৮০ সালে আরও কয়েকজন মুসলমানের সহায়তায় রুকউড কবরস্থানে মুসলিমদের জন্য জায়গা করে নিয়েছিলেন।
"ভীষণ দুশ্চিন্তা হচ্ছিল যে, আমরা কোথায় যাব? কাউন্সিল জমি দিচ্ছে না! সরকার জায়গা বরাদ্ধ করছে না," বলেছেন কাজী আলী।

মুসলিমদের এমন সংকট মুহূর্তে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সিডনির ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীরা। কেম্পস ক্রিক ক্যাথলিক কবরস্থান থেকে দেয়া হচ্ছে ৫ একর জায়গা। ৩০ মে অর্থাৎ রমজান মাসেই এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন, পিটার ও’মিয়ারা এবং কাজী খালেকুজ্জামান আলী।
"মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে জড়িত হতে পেরে আমরা গর্বিত। আন্তধর্মীয় সহযোগিতার এ সম্পর্ক দীর্ঘ করতে আমরা উম্মুখ," বলেছেন পিটার ও’মিয়ারা।
"আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান যারা কবর দেওয়ায় বিশ্বাসী, তাদের কবরের জায়গার জন্য আমাদের আছে যথেষ্ট জমি।"

ক্যাথলিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কাজী আলী বলেন, "এর ফলে আগামী কয়েক প্রজন্মকে আর এই নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।"
এখানে মুসলিমদেরকে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক দাফন করা হবে। ক্রিসমাস এবং ঈদের দিনসহ বছরের কোন সময়ই দাফন বন্ধ থাকবে না বলেও জানান তিনি।
"অন্য কবরস্থানগুলোর তুলনায় কেম্পস ক্রিকে দাফন খরচ কম পরবে। শিশু এবং সর্বহারাদের বিনা পয়সায় দাফন করা হবে।"

কেম্পস ক্রিকে মুসলিমদের কবরস্থান তৈরিতে খরচ পরবে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলার। প্রতি কবরের জন্য ৬ হাজার ৭০০ ডলার ও দ্বৈত কবরের জন্য ৭ হাজার ৪৪১ ডলার দিতে হবে। তিন বছর মেয়াদী কিস্তিতেও কবরের জায়গা কেনার সুযোগ আছে কেম্পস ক্রিক কবরস্থানে।
আর কিছুদিন পর থেকেই কেম্পস ক্রিক কবরস্থানে মুসলিমদের দাফন করা যাবে বলে জানিয়েছেন কাজী খালেকুজ্জামান আলী।


