অনুষ্ঠানের শুরুতেই, পরিবেশন করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো কিন্তু বর্তমান, অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী সংস্কৃতি। উৎসব আয়োজনে প্রাধান্য পায় গোল্ডকোস্টের 'বিচ কালচার'। ঐতিহ্যবাহী কুইন্স ব্যাটন হস্তান্তর করেন শ্যালি পিয়ারসন।

এবারের শ্লোগান ‘স্বপ্নকে ছড়িয়ে দাও’। বাংলাদেশসহ এ আসরে অংশ নিয়েছে কমনওয়েলথভুক্ত ৭১টি দেশের ৬ হাজার ছয়শ অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা। উদ্বোধনী প্যারেডে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মার্ক নউলেস এবং বাংলাদেশের শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি জাতীয় পতাকা বহন করেন।

আসরের মূল আয়োজক গোল্ডকোস্ট হলেও ব্রিসবেন, কেয়ার্নস ও টাউন্সভিলেতেও অনুষ্ঠিত হবে কয়েকটি ডিসিপ্লিন। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে সর্বাধিক ২৩টি ডিসিপ্লিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের প্রতিযোগিতা। থাকছে ৭টি প্যারা স্পোর্টস। ২৭৫টি স্বর্ণপদক জয়ে লড়বেন ক্রীড়াবিদরা।
গেমসে সর্বাধিক স্বর্ণ জেতার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। আগের ২০ আসরের ১১ বারই পদক তালিকায় শীর্ষে ছিল ক্যাঙ্গারুরা। ১৯৯৪ সালে কানাডা গেমসে রেকর্ড ৮৭টি স্বর্ণ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

সাঁতার, বক্সিং, শুটিং, ভারোত্তলন, কুস্তি ও অ্যাথলেটিক্সে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। গেলো চার আসরের মত এবারও শুটিং পদক জয়ের আশা দেখছে বাংলাদেশ। প্রথম দিন সাঁতারে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবারি শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের কমনওয়েলথ গেমস মিশন। ১৯৭৮ সাল থেকে অংশ নিলেও, কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য আসে ১৯৯০ সালে অকল্যান্ডে।

এদিকে, গত ক'দিন ধরেই বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে উৎসবমুখুর পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন গোল্ডকোস্ট প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কমুনিটির পক্ষ থেকে গেমসে অংশ নেয়া বাংলাদেশ দলকে সম্বর্ধনা দেয়ার পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সোসাইটি গোল্ডকোস্টের সাধারণ সম্পাদক, তারেক সাইফুল্লাহ।

এমনিতেই পর্যটন শহর বলে খ্যাতি আছে গোল্ডকোস্টের। তারওপর বিশাল এই ক্রীড়াযজ্ঞ; সৌহার্দ-সম্প্রীতির বর্ণিল এই আয়োজনকে স্মরণীয় রাখতে কোন খুঁত রাখছে না অস্ট্রেলিয়া। কুইন্সল্যান্ড রাজ্যজুড়ে দেখা মিলবে এবারের আসরের মাসকট ‘বরবি’।
