মূল বিষয়:
- বর্তমানে সব ভ্যাকসিনেরই কিছু কার্যকারিতা বহাল রয়েছে: ড. নোরেল শেরি
- অস্ট্রেলীয় গবেষক এবং অন্যান্যরা একটি ভ্যারিয়েন্ট-প্রুফ ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছেন
- অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার মিলিয়ন প্রতি কোভিড-১৯ এর কারণে মৃত্যুর হার বেশি
২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ায় কোভিড ভ্যাকসিন দেয়া চালু করার পর প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে।
ফেডারেল সরকার ৮ নভেম্বর ২০২১ এ প্রথম বুস্টার ডোজের প্রস্তাব আনে এবং কয়েক মাস পরে আরও একটি বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করা হয়।
তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যে দেখা গেছে, দুই ডোজ প্রাথমিক টিকা দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে পরবর্তী বুস্টার ডোজের চাহিদা কমে গেছে।
প্রায় ৫৬.৬ শতাংশ অধিবাসী (১৮ বছরের অধিক বয়সী) তৃতীয় ডোজ নিয়েছেন এবং ৩৫.২ শতাংশ (৩০ বছরের অধিক বয়সী) ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত চতুর্থ ডোজ নিয়েছেন।
এখন ফেডারেল সরকার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যারা গত ছয় মাসে কোভিডে আক্রান্ত হয়নি বা কোনো ভ্যাকসিন নেয়নি, তাদের জন্য একটি অতিরিক্ত কোভিড বুস্টার ভ্যাকসিন ঘোষণা করেছে।
কিন্তু মিউটেটিং ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনগুলি কতটা কার্যকর?
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানে প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর থেকে কোভিড ভাইরাসটি ক্রমশ পরিবর্তিত হয়েছে।
এই ভাইরাসের আলফা, বিটা, গামা এবং ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে, তবে অমিক্রন এবং এর সাবভ্যারিয়েন্টগুলি অস্ট্রেলিয়ায় বেশি মৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হয়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ার ওয়ার্ল্ড ইন ডাটা-তে দেখা গেছে গত ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি মিলিয়ন মানুষে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর হার ছিল ৫৫৭, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (৫৮৫) তুলনায় সামান্য কম।
তবে এটি সিঙ্গাপুর (১৪৯), কানাডা (৪০৭), জাপান (৪০৮) এবং যুক্তরাজ্যের (৪৪৮) চেয়ে অনেক বেশি।
ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজিস্ট অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ফিজিশিয়ান ড. নরেল শেরি বলেন, ভাইরাসের বিবর্তনের সাথে সাথে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কিছুটা হ্রাস পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ড. শেরি এসবিএসকে বলেন, "তবে যে কোনও ভ্যাকসিনই একেবারে কোনও ভ্যাকসিন না থাকার চেয়ে শ্রেয়।“
তিনি বলেন, “কখনোই কোভিড-১৯ কে পুরোপুরি এড়ানোর জন্য কোনো ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়নি। তবে তারা অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি ও গুরুতর রোগ থেকে রক্ষা করে।
ড. শেরি বলেন, “ওমিক্রন বুস্টার মূল ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেবে।“
অস্ট্রেলিয়ানদের মূল প্রোটিন-ভিত্তিক ভ্যাকসিনের চেয়ে আপডেটেড এমআরএনএ ভ্যাকসিনগুলি নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে স্বাস্থ্যবিশেজ্ঞরা।
প্রাপ্তবয়স্করা ফাইজারের দুটি বাইভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন বেছে নিতে পারেন যা বিএ.৪/৫ ভ্যারিয়েন্ট এবং অরিজিনাল ভ্যারিয়েন্ট/বিএ.১ কে টার্গেট করে।
আবার মডার্নার বাইভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনটিও তারা বেছে নিতে পারে যা বুস্টার হিসাবে মূল / বিএ .1 কে টার্গেট করে।
অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অন ইমিউনাইজেশন (বা ATAGI) এক বিবৃতিতে বলেছে, "ফাইজারের বাইভ্যালেন্ট বিএ.৪/৫ ভ্যাকসিন গ্রহণকারী ৫৫ বছরের কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ফাইজারের মূল ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের তুলনায় বিএ.৪/৫ ওমিক্রন সাবভ্যারিয়েন্টে বেশি নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি টাইট্রেস তৈরি হয়েছে।“
নতুন বিকিউ.১.১ এবং এক্সবিবি.১ সাবভ্যারিয়েন্টের নিউট্রালাইজেশনও মূল ভ্যাকসিনের চেয়ে বেশি ছিল বলে এতে বলা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেরাপিউটিক গুডস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বর্তমানে মডার্নার বিএ.৪/৫ বুস্টারের মূল্যায়ন করছে।
অস্ট্রেলিয়ার চিফ মেডিকেল অফিসার পল কেলি সম্প্রতি বলেছেন, বর্তমান নীতির প্রাথমিক উদ্দেশ্য হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের রক্ষা করা এবং এ ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন দেয়া খুব জরুরী।
"উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের মডেলিং দেখায় যে ৭০ বছরের বেশি বয়সের মানুষদের জন্য একজনকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বন্ধ করতে ৮০০ জনকে টিকা দিতে হবে। সেই তুলনায় ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের ৯২ হাজার মানুষকে টিকা দিতে হবে,” বলেন অধ্যাপক কেলি।
"এবং যদি তরুণদের কথা ভাবেন, তাহলে প্রতি বছর আরও কম বয়সীদের জন্যে একই ফলাফল পেতে আরও বেশি ভ্যাকসিন দিতে হবে।“
এখন থেকে কি নিয়মিত বুস্টারের দরকার হবে?
অতীতে ATAGI জানিয়েছিল যে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু ভ্যাকসিনের মতো কোভিডের জন্যেও নিয়মিত ডোজ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত যাদের গুরুতর রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, তাদের জন্য।
গারভান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল রিসার্চের অধ্যাপক ক্রিস গুডনাও বলেন, “কোভিড-১৯-এর একটি ভ্যারিয়েন্ট-প্রুফ ভ্যাকসিনের জরুরি প্রয়োজন রয়েছে।“
গারভান ইনস্টিটিউট UNSW RNA ইনস্টিটিউট এবং কারবি ইনস্টিটিউটের সাথে মিলে একটি সার্বজনীন এমআরএনএ কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন তৈরি করেছে, যা প্রতিবার একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট উদ্ভূত হলে বুস্টার আপডেট করার প্রয়োজনীয়তার ইতি টানতে পারে।
অ্যান্টিভাইরাল কি কাজ করবে?
মৌখিক চিকিৎসাকে "গেম চেঞ্জার" হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে গত বছর সেগুলোর ব্যবহার সত্ত্বেও, ৮০০ জন বয়স্ক সেবাকেন্দ্রের বাসিন্দা সহ ২ হাজার ৬০০ এরও বেশি অস্ট্রেলিয়ান মারা গেছেন।
ড. শেরি অবশ্য এখনও তাদেরকে 'গেম চেঞ্জার' বলেই অভিহিত করছেন।
তিনি বলেন, সমস্যাটি আসলে হচ্ছে আরও তাড়াতাড়ি করে এই ঔষধ নেয়া শুরু করার ব্যাপারে। অর্থাৎ যত দ্রুত এই ভাইরাসের টেস্ট করাবে মানুষ, এটা তত বেশি কার্যকর হবে।
কোভিড-১৯ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে মানুষ কম আগ্রহী
কোভিডের লক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অ্যান্টিভাইরাল গ্রহণ করা উচিত।
ড. শেরি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কোভিড পরীক্ষার বিষয়ে সতর্ক হওয়া এবং অ্যান্টিভাইরাল সম্পর্কে তাদের ডাক্তারদের সাথে প্রাথমিকভাবে কথা বলা অপরিহার্য।
দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিভাইরাল
বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী এবং ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি বর্তমান মৌখিক চিকিৎসার ত্রুটিগুলি মোকাবেলায় দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিভাইরাল নিয়ে কাজ করছে।
ফাইজারের দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিভাইরাল নিয়ে কাজ চলছে, অন্যদিকে চীনা সংস্থাগুলি আশাব্যঞ্জক প্রাথমিক গবেষণার সম্পন্ন করে মৌখিক অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা ভিভি 116 নিয়ে কাজ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ হিসেবে সিন্থেটিক অ্যান্টিবডি নিয়ে কাজ করছেন। এ বছরই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার লক্ষ্য নিয়েছে তারা।
এসবিএস অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক এবং বহুভাষী সম্প্রদায়কে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সমস্ত তথ্যের আপডেট সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিরাপদে থাকুন এবং আপনার ভাষায় সর্বশেষ হালনাগাদ জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন SBS করোনাভাইরাস পোর্টাল।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।
