বাংলাদেশের কক্সবাজারে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার অধীনে কাজ করেন সিডনির সুজান ওয়াহগো।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা মুসলমানরা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয় শিবিরে পরিণত হয় কক্সবাজার। সেখানে আনুমাণিক ৮৫০ হাজার শরণার্থী অবস্থান করছেন।

এ বছরের মার্চ মাস থেকে সেখানে রয়েছেন মিজ ওয়াহগো। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক কিংবা মানব-সৃষ্ট, সব ধরনের দুর্যোগের ক্ষেত্রেই মানবিক সাহায্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য সরবরাহ করার দায়িত্ব পালন করছেন মিজ ওয়াহগো। খাদ্য বিতরণের ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ভাউচার প্রদানের বন্দোবস্ত করার ক্ষেত্রে সহায়তা করছেন তিনি।
বর্তমানে ৪০০ হাজার শরণার্থী ভাউচার সিস্টেম ব্যবহার করছেন। এ বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৬৫০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তারা।
মিজ ওয়াহগো এর আগে সার্বিয়া, মালাবি এবং ফিজিতেও কাজ করেছেন। তার পূর্ব-অভিজ্ঞতা এক্ষেত্রে তার সহায়ক হয়েছে, বলেন তিনি।

মেলবোর্নের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ক্যামিলা ব্যাশেই ইউএনএইচসিআর-এর সঙ্গে বাংলাদেশে কাজ করছেন। শরণার্থী শিবিরে পানি সংরক্ষণের জন্য ওয়াটার রিজার্ভয়ার ডিজাইন করার কাজ করছে তিনি। খরার মওসুমে শরণার্থীরা যেন পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ পায় সেজন্যই এ উদ্যোগ।
পার্থের পেট্রা লেটার প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্প্রতি ১২ মাস কাজ করে ঘরে ফিরেছেন। সেখানে তিনি ফিজিতে অবস্থান করেন এবং ইন্টারন্যাশনাল প্লানড প্যারেন্টহুড ফাউন্ডেশনের জন্য কাজ করেন।

ফ্রন্টলাইন হেলথ ওয়ার্কারদের জন্য সেখানে তিনি একটি ট্রেইনিং প্যাকেজের ডিজাইন করেন। পূর্ণবয়স্ক নারী ও কিশোরীদের মধ্যে যারা দুর্যোগের সময়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে এই ট্রেইনিং প্যাকেজ।
নিউ সাউথ ওয়েলস সেন্ট্রাল ওয়েস্টের অরেঞ্জ অঞ্চলের কার্লি লিয়ার্সন ইবোলা সঙ্কটের সময়ে লাইবেরিয়াতে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, তার প্রিয় স্মৃতি হলো একজন লাইবেরিয়ান পুরুষকে সহায়তা করার স্মৃতি। ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে যেসব শিশুর বাবা-মা মারা গেছেন তাদের জন্য ক্রিসমাস পার্টির আয়োজন করতে চেয়েছিলেন সেই ব্যক্তি।

আগ্রহীদের বিভিন্ন মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন এই চার নারী।
সুজান ওয়াহগো বলেন, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা লাভ করা যায়।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
