ক্রীড়ামোদীদের আশা ছিল ভারত-পাকিস্তান জম্পেশ ফাইনাল দেখার। কিন্তু, বিধিবাম, সেটি ঘটে নি। পাকিস্তানের স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে ফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যানের বিচারে ফাইনালে ভারত ফেভারিট। এর আগে এশিয়া কাপে সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। এর বিপরীতে, তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রথমবার ২০১২ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে।
বাংলাদেশে ও ভারত এশিয়া কাপে ১১ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ১০টিতে জিতেছে ভারত এবং একটিতে বাংলাদেশ।

খেলোয়াড়দের ইনজুরির চোটে বাংলাদেশ দল তাদের পুরো সামর্থ্য ঢেলে দিতে পারছে না। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুর দিকেই ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তামিম। পরে স্ক্যান করে ধরা পড়ে আঙুলে চিড়। আর পুরোনো পাঁজরের চোট মাথাচাড়া দেওয়ায় মুশফিকুর রহিমকে খেলতে হচ্ছে বুকে টেপ পেঁচিয়ে। তারপরও তাদের রয়েছে বেশ কয়েকজন মেধাবী মুখ, যারা আজকে জ্বলে উঠলে বাংলাদেশেও বাঘের গর্জন শোনা যাবে।

চোটের কারণে খেলতে পারছেন না শাকিব আল হাসান। এদিকে ভারতীয় দলের অন্যতম অস্ত্র, এই মুহূর্তে বিশ্ব সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি বিশ্রাম নিয়েছে এশিয়া কাপে। তার অনুপস্থিতি বোঝা যাবে না যদি রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান তাদের সেরাটুকু ঢেলে দিতে পারে। এই মুহূর্তে দারুণ ফর্মে রয়েছেন রোহিত শর্মা।

ধোনির বিধ্বংসী ব্যাটিং ত্রাস ছড়াতে পারে। আর, বোলিং স্কোয়াডেও ফিরছেন জসপ্রীত বুমরাহ, ভুবনেশ্বর কুমার এবং যজুবেন্দ্র চাহাল।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অলিখিত সেমিফাইনালে ৩৭ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সুপার ফোরের সেই ম্যাচটি জিতেই ফাইনালে এসেছে বাংলাদেশ। এতে ৯৯ রানের একটি ইনিংস খেলেছেন মুশফিকুর রহিম।
শুরুতে ব্যাট করে ৪৮.৫ ওভারে ২৩৯ রান করে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে ৫০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে ২০২ রান করে পাকিস্তান। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি ছিল বাংলাদেশের টানা চতুর্থ জয়।

বিশেষত ফিল্ডিং-এ বাংলাদেশ দলের উন্নতি চোখে পড়ার মতো। অধিনায়ক মাশরাফির অসাধারণ ক্যাচটির কথা উল্লেখ করতেই হবে। এই জয়ে বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আজ রাতে মাঠে এর প্রতিফলন ঘটলে শিরোপা তাদের ঘরেই যাবে তা বলা যায় নিঃসন্দেহে।
বীরেন্দর শেবাগ এক টুইট বার্তায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। তিনি লিখেছেন,
‘বাংলাদেশ জিতেছে পাঁচ “ম” “মুশফিক”, “মিঠুন”, “মোস্তাফিজ”, “মাহমুদউল্লাহ” আর “মেহেদী”–র দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। তাঁদের অভিনন্দন।’
শেবাগ আরও লিখেছেন,
‘ক্রিকেটে এখন আন্ডারডগ বলে কিছু নেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা যেটি চায়, সেটিই যে হবে এমন কোনো কথা নেই। অনেকেই তো এশিয়া কাপের ফাইনালটা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হোক—এটা চেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ নিজেদের দিনে এক অর্থে দুর্দান্তই।’
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
