কি পয়েন্টস
- নিরাপত্তার নিয়ম-কানুন অনুসরণে ব্যর্থ হলে বড় অংকের জরিমানা দিতে হতে পারে এবং আপনি জীবন-ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।
- মাছ ধরার সময়ে আপনার সাথের কেউ যদি পানিতে ভেসে যায়, সেক্ষেত্রে তাকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিবেন না।
- কুইন্সল্যান্ড, নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরিয়ায় এই গ্রীষ্মে হঠাৎ করে প্রবল বন্যা এবং ব্যাপক ভূমি-ধস দেখা দিতে পারে।
রয়্যাল লাইফ সেভিং ন্যাশনাল ড্রাওনিং রিপোর্ট ২০২০ অনুসারে, অস্ট্রেলিয়ায় পানিতে ডুবে যাওয়া ২৪৮ জনের মাঝে ৮০ শতাংশই পুরুষ।
২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের এই রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, আরও ৫০৪ ব্যক্তির মারাত্মক-নয় এ রকম নিমজ্জিত হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে।
পানিতে ডুবে যাওয়ার বেশিরভাগ ঘটনা সংঘটিত হয় নদীতে এবং খাঁড়িগুলোতে (২১ শতাংশ)। এর পরে রয়েছে সাগরে ও পোতাশ্রয়ে (২০ শতাংশ) এবং সমুদ্র-সৈকতে (১৮ শতাংশ)।
ভিক্টোরিয়ান ফিশারিজ অথরিটির ন্যাটাশার উইলস বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে তিনিটি বড় কার্যক্রম হলো সাঁতার কাটা, নৌকা বাওয়া কিংবা মাছ ধরার সময়ে পড়ে যাওয়া।
তিনি বলেন, বহু-সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সদস্যরা সবসময় পানিতে নিরাপত্তা-বিষয়ক নিয়ম-কানুনগুলো সম্পর্কে জানেন না।
মাছ ধরার ক্ষেত্রে যে নিয়ম-কানুন রয়েছে, এটা জানাটা জরুরি। আর, এগুলো আপনাকে অনুসরণ করতে হবে। না হলে অনেক বড় অংকের জরিমানা দিতে হবে।
ভিক্টোরিয়ান ফিশারিজ অথরিটি ওয়েবসাইটে নিরাপদে মাছ ধরার নিয়ম-কানুন ইংরেজি, সহজ চীনা ভাষায়, ভিয়েতনামী, কোরিয়ান এবং মালয় ভাষায়।

ন্যাটাশার উইলস বলেন, নিরাপত্তা রক্ষার উদ্যোগগুলো অপরিহার্য, কারণ এগুলো জীবন রক্ষা করে।
কমপক্ষে আরও দু’জনকে সাথে নিয়ে মাছ ধরতে যান। যেন আপনারা একে অপরকে দেখে রাখতে পারেন। আর, মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় একটি লাইফ জ্যাকেট পরিধান করুন।
ন্যাটাশার উইলস পরামর্শ দেন, মাছ ধরার স্থান বাঁছার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় চিন্তা করুন এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে কোন দিক দিয়ে চলে যাবেন সেটা ভেবে রাখুন।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, মাছ ধরার সময়ে আপনার সঙ্গে থাকা কেউ যদি পানিতে ভেসে যায়, সেক্ষেত্রে আপনি (তাকে বাঁচানোর জন্য) পানিতে ঝাঁপ দিবেন না।
বহু লোক তাদের সাঁতারের দক্ষতার প্রতি অতিরিক্ত আস্থা রাখেন। বহু লোকের ডুবে যাওয়ার ঘটনা আমরা জানি যে, তারা অন্য কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ডুবে যান।
ন্যাটাশার উইলস বলেন, ঐ রকম পরিস্থিতিতে আপনি যা ভাল করতে পারেন তা হলো একটি রশি কিংবা ভেসে থাকে এ রকম কোনো কিছু পানিতে ডুবে যাওয়া লোকটির প্রতি ছুড়ে দিন এবং সাহায্যের জন্য 000 কিংবা 112 নম্বরে আপনার মোবাইল ফোন থেকে কল করুন।

জুলফি হায়দারি আট বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন।
গত তিন বছর ধরে তিনি স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস (এস-ই-এস) এর সঙ্গে ভিক্টোরিয়ার গ্রেটার ড্যানডিনং ইউনিটে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন।
অতএব, এস-ই-এস এর সঙ্গে আমরা প্রায় সবকিছুই করি। যেমন, গ্রাউন্ড সাপোর্ট, মানুষকে উদ্ধার করা, বন্যা, ঝড়-ঝঞ্ঝা … অগ্নিকাণ্ডে ছাড়া বাকি সবকিছুতে।
তিনি বলেন, এস-ই-এস এর বহু স্বেচ্ছাসেবী এসেছেন বহু-সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে এবং তারা বহু ভাষায় কথা বলতে পারেন।
আমি চারটি পর্যন্ত ভাষায় কথা বলতে পারি। আমাদের কর্মীদের মাঝে কিংবা ইউনিটে সুনিশ্চিতভাবেই এ রকম কাউকে পাওয়া যাবে, যিনি সত্যিকার অর্থেই এ রকম পরিস্থিতিতে কাজে আসবেন।

ব্যুরোর হেড অফ অপারেশনাল ক্লাইমেট সার্ভিসেস ড. অ্যান্ড্রিউ ওয়াটকিন্স বলেন, এ বছর ভূমি আর্দ্র থাকবে। জোয়ার-ভাটা এবং আবহাওয়া সম্পর্কে জানার জন্য আবহাওয়া দপ্তরের ওয়েবসাইটটি দেখতে বলেন তিনি।
কুইন্সল্যান্ড, নিউ সাউথ ওয়েলস এবং ভিক্টোরিয়ার জন্য বন্যার ঝুঁকি সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি থাকবে।
হঠাৎ করে ভয়াবহ বন্যা হওয়ার বিষয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। গত গ্রীষ্মে যে-সব অঞ্চলে অনেক বেশি বুশফায়ার হয়েছে সেসব স্থানের ব্যাপক ভূমি-ক্ষয় নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।
তাই, সেসব বুশফায়ার হওয়া এলাকাগুলোতে আমরা হঠাৎ করে ভয়াবহ বন্যা হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আর, সেসব স্থানে ভূমি-ক্ষয় এবং ভূমি-ধসের ঘটনাও ঘটতে পারে।
জুলফি হায়দারি বলেন, বন্যার সময়ে মানুষ প্রায়ই নির্বোধের মতো আচরণ করে বিপদে পড়ে।
মানুষ বোঝে না যে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালানো উচিত নয়। কারণ, এটা নিরাপদ নয়।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জুলফি হায়দারি বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়ার বহু ঘটনা ঠেকানো সম্ভব।
সাগর অনেক বিপদ-সঙ্কুল। আপনি যদি সাঁতার না জানেন তাহলে পানি থেকে দূরে থাকুন।
সমুদ্র স্রোত ও আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে ব্যুরো অফ মিটিওরোলজি-র ওয়েবসাইটটি দেখুন।
মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার পরামর্শ পেতে ভিক্টোরিয়ান ফিশারিজ অথরিটি-র ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন।
বিনামূল্যে অনুবাদ ও দোভাষীর সহায়তা পেতে ভিজিট করুন TIS National ওয়েবসাইট।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.





