নিউ সাউথ ওয়েলসে আগামী ১১ মে থেকে স্কুলগুলো খুলে দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে এক দিন স্কুলে যাবে শিক্ষার্থীরা। আর, জুলাইয়ের শেষ ভাগে তারা পরিপূর্ণভাবে স্কুলে যাওয়া শুরু করবে।
মঙ্গলবার প্রিমিয়ার গ্লাডিস বেরেজিক্লিয়ান বলেন, পাবলিক, ক্যাথোলিক এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্কুলগুলো এই পরিকল্পনার সঙ্গে একমত হয়েছে। করোনাভাইরাসের এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে স্কুলগুলো বর্তমানে খোলা আছে। তবে, শিক্ষার্থীদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, ঘরে থেকে পড়াশোনা করতে।
বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো জারি থাকবে টার্ম-২ এর প্রথম দুই সপ্তাহ পর্যন্ত এবং ১১ মে থেকে শিক্ষার্থীদেরকে সপ্তাহে এক দিন স্কুলে আসতে হবে।
ক্যাম্পাসে একই সময়ে এক চতুর্থাংশের বেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে না।
জুলাইয়ের শেষ ভাগে টার্ম-৩ শুরু হবে। তখন পরিপূর্ণভাবে স্কুল চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
মিজ বেরেজিক্লিয়ান মঙ্গলবার রিপোর্টারদেরকে বলেন,
“সাধারণ পরিস্থিতিতে শিশুরা যেভাবে স্কুলে যায়, এটা কী সে রকমই হবে? না, এটা সে রকম হবে না।”
“আমরা এটা নিশ্চিত করেছি যে, আমরা এই সময়টিতে শুধুমাত্র আমাদের অনলাইন সামর্থ্য গড়ে তুলি নি, বরং আমরা (এর পাশাপাশি) এটা নিশ্চিত করেছি যে, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান এবং অন্যান্য যাবতীয় জিনিস-পত্র আছে, যেগুলো থাকলে স্কুল কমিউনিটি নিরাপদ বোধ করে।”

যেখানে যেখানে দরকার স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য দেহের তাপমাত্রা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্যও ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউ সাউথ ওয়েলসে মঙ্গলবার কোভিড-১৯ এর ছয়টি নতুন কেস শনাক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে এ রাজ্যে কেস সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯৬৯ এ। এদের মধ্যে ২১ জন ইনটেনসিভ কেয়ারে আছেন।
টানা দু’দিন ছয়টি করে নতুন কেস শনাক্ত হলো।
মিজ বেরেজিক্লিয়ান বলেন,
“কেস সংখ্যা হ্রাস পাওয়ারে ক্ষেত্রে আমরা একটি সুনির্দিষ্ট প্রবণতা লক্ষ করছি। তবে, আমি আরও জোর দিতে চাই যে, কখনও কখনও গুটিকয়েক ব্যক্তির ভুল কাজের জন্য যাবতীয় কঠোর পরিশ্রম বিনষ্ট হয়ে যায়।”
চিফ হেলথ অফিসার ড. কেরি চ্যান্ট বলেন, এই রাজ্যে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কমপক্ষে ১৭৫০ ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করেছে।
ওয়েস্টার্ন সিডনিতে একটি নার্সিং হোমে ৪২ ব্যক্তি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে সংক্রমণ ঠেকানোই এখন নিউ সাউথ ওয়েলস হেলথ অথরিটিজ-এর লক্ষ্য।
ক্যাডেন্স-এর নিউমার্চ হাউজ নার্সিং হোমে ৯৪ বছর বয়সী দ্বিতীয় আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর সোমবার নিশ্চিত করেছে নিউ সাউথ ওয়েলস হেলথ।
নিউমার্চ হাউজে প্রায় ১০০ ব্যক্তি বাস করেন। সোমবার রাত পর্যন্ত সেখানকার ২৮ জন বাসিন্দা এবং ১৪ জন কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে কঠোর আইসোলেশন ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।
এর আগের দিন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেখানকার ৯৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দার মৃত্যু ঘটে।
এ নিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলসে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৩০ ব্যক্তির মৃত্যু হলো।
সামান্য উপসর্গ নিয়ে এক কর্মী নিউমার্চ হাউজে একটানা ছয় দিন কাজ করেন। ড. চ্যান্ট তাই সতর্ক করে বলেন যে, যাদের মাঝে সামান্য লক্ষণও দেখা যাবে, তাদের কাজে যাওয়া উচিত হবে না এবং তাদেরকে কোভিড-১৯ টেস্ট করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ানদেরকে অবশ্যই পরস্পরের মাঝে কমপক্ষে ১.৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্যদের সঙ্গে হলে দু’জনের বেশি একত্রিত হওয়া যাবে না।
আপনি যদি মনে করেন যে, আপনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাহলে আপনার ডাক্তারকে কল করুন। ডাক্তারের কাছে যাবেন না। আপনি ন্যাশনাল করোনাভাইরাস হেলথ ইনফরমেশন হটলাইনেও কল করতে পারেন এই নম্বরে: 1800 020 080

আপনার যদি শ্বাস-কষ্ট কিংবা মেডিকেল ইমার্জেন্সি দেখা দেয়, তাহলে 000 নম্বরে কল করুন।
আপনার ভাষায় কোভিড-১৯ এর সর্বশেষ আপডেট জানাতে এসবিএস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ৬৩ টি ভাষায় এ বিষয়ক সংবাদ ও তথ্য পাবেন। ভিজিট করুন: sbs.com.au/coronavirus.

বাংলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বিষয়ক আমাদের সর্বশেষ আপডেটের জন্য ভিজিট করুন:
https://www.sbs.com.au/language/bangla/coronavirus-updates
অস্ট্রেলিয়ার এবং বাকি বিশ্বের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর হাল নাগাদ খবর

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
