COVID 19-এর সময়ে প্রিয়জনদের মৃত্যু: যেভাবে আমাদের শোকের প্রকাশ পরিবর্তিত হলো

বৈশ্বিক ভাইরাসজনিত সংকটে যারা প্রিয়জনদের হারিয়েছেন তারা অনেক সময় ঠিকমত তাদের প্রিয়জনদের শেষবিদায়টুকুও দিতে পারেন না। COVID 19 বিধিনিষেধের এই সময়ে মানুষের শোক প্রকাশ কিভাবে পরিবর্তিত হলো তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন।

Grieving man

Source: Getty Images

হাইলাইটস
  • GriefLine বলছে মানুষ তাদের প্রিয়জনদের ঠিকমত শেষবিদায় জানাতে না পারলে তাদের শোকের প্রকাশ দীর্ঘায়িত করতে পারে  
  • সৎকারকারীরা বলছেন সৎকারের সময় সমাগম ছোট হলেও সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় আচারগুলো মূলত একই থাকে 
  • অনলাইনে সৎকার মানুষকে দূর থেকেও পরস্পরকে আরো কাছে নিচ্ছে 

 

গ্রীফলাইনের প্রধান এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট সারাহ গডফ্রের মতে প্রিয়জনদের শেষবিদায় দেয়া এতো কঠিন আর কখনো হয়নি।  

গ্রীফলাইন শোকার্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রচুর কল পাচ্ছে, তারা COVID 19 রেস্ট্রিকশনের মধ্যে তাদের প্রিয়জনদের হারানোর ব্যাপারটি মেনে নিতে পারছে না।  

তারা অনেকে বুঝতে পারছেন না শোকের এই সময়ে কি করে একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়াবেন, যেমনটি তারা আগে করতেন, এখন যা এখন করোনাভাইরাস মহামারীতে স্থবির হয়ে পড়েছে। 

গডফ্রে বলেন এই বিচ্ছিন্নতার সময়ে তাদের পাশে সহানুভূতি জানাবার কেউ থাকে না।

Tea light candles
Source: Getty Images

অস্ট্রেলীয়া, নিউজিল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরে InvoCare সৎকার সেবা দিয়ে থাকে।  

সংস্থাটির অস্ট্রেলিয়ার এক্সেকিউটিভ জেনারেল ম্যানেজার লীন গালুসি বলেন বর্ডার রেস্ট্রিকশনের কারণে অনেক ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজন সৎকার অনুষ্ঠানে আসতে পারেন না।  

ফিউনারেল হোমগুলো ভাইরাস সংকটে নতুন করে পরিবেশ তৈরী করছে যাতে শোক অনুষ্ঠানে আগতদের সুবিধা হয়।  

গালুসি এমন একটি উদাহরণ দিয়ে গিয়ে বলেন এক এশিয়ান পরিবার তাদের বন্ধুদের তাদের নামসহ হলুদ ফুল পাঠাতে অনুরোধ করে।  

ওই ফুলগুলো চ্যাপেলে তাদের সীটে রাখা ছিল যেখানে শোক অনুষ্ঠানে আগতরা বসেন।  

যারা লকডাউন শেষে বর্ডার পেরিয়ে আসতে পারেন তাদের শোকার্ত আত্মীয়রা অনেকদিন পর দেখতে পান।  

Funeral
Source: Getty Images/RubberBall Production

যখন বর্ডার রেস্ট্রিকশন আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, গডফ্রে পরামর্শ দেন তখন আপনাকে দেখতে হবে আপনি কি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যখন আপনার প্রিয়জন মৃত্যুপথযাত্রী অথবা আপনি সেখানে উপস্থিত হতে পারছেন না।  

বিভিন্ন স্টেট এবং টেরিটোরিতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যও COVID 19-এর কারণে বদলে ফেলতে হয়েছে। 

মেডিক্যাল এনথ্রোপোলজিস্ট এবং ন্যাশনাল এজিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সোশ্যাল জেরোন্টোলজির ডিরেক্টর ডঃ বিয়াঙ্কা ব্রিজনাথ বলেন, এই বিষয়টি বহুভাষিক পরিবারগুলোর জন্য খুবই কষ্টদায়ক, কারণ তারা এটিকে সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং আচার মনে করে।  

গালুসি বলেন ফিউনারেল সার্ভিসগুলোকে তাদের শোক অনুষ্ঠানে লোকসংখ্যা কমাতে হচ্ছে, অনেক সময়ে একাধিক প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হয় যাতে মৃত আত্মীয়দের সাথে তারা বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন। 

মেলবোর্ন রেস্ট্রিকশনের সাথে মিল রেখে সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধূপ-প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয় বৌদ্ধ এবং তাও এশিয়ান পরিবারগুলোর জন্য, এতে তারা তাদের সৎকার অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা লাভ করে।  

গালুসি বলেন, ব্যক্তিগত সমাবেশের ক্ষেত্রে কুইন্সল্যান্ডের প্যাসিফিক আইল্যান্ডের একটি পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তারা একটি ফুড ট্রাক ভাড়া করবে, এতে আগতরা বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য খাবারের বক্স পাবে অনুষ্ঠানে সাধারণত যে খাবার পরিবেশন করা হয় তার পরিবর্তে। 

ডঃ ব্রিজনাথ বলেন বিভিন্ন দেশে থাকা পরিবারগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শোক অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করছে।  

গালুসি বলেন, ফিউনারেল অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার নতুন নয়, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের শোকার্ত সদস্যরা এভাবেও অংশ নেয়।  

তিনি মনে করেন এ ধরণের অনলাইন ফিউনারেল সার্ভিস করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরেও অব্যাহত থাকবে।  

কিন্তু গডফ্রে বলেন গ্রীফলাইনে যারা কল করেন তাদের ডিজিটাল সংযোগ অনেক সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়, অনেক সময় এধরণের পরিবেশের যে মানবিক স্পর্শ থাকে তা অনুভব করা যায় না। 

Buddhist monk
Source: AAP Image/EPA/NARENDRA SHRESTHA

সম্মিলিতভাবে শোকপ্রকাশ এবং একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করতে না পারায় অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের শোকাবহতা বিলম্বিত হয়, কারণ তারা নিজেদের জীবনেও করোনাভাইরাস-জনিত দুশ্চিন্তা কাজ করে।  

গডফ্রে বলেন, আপনি যদি একা থাকেন তাহলে আপনার প্রিয়জনদের নিয়ে আইটেম দিয়ে গড়া একটি বক্স সামনে রেখে স্মৃতিচারণ করতে পারেন, যা হয়তো আপনার আত্মাকে তার কাছে রাখবে।  

তবে গডফ্রে বলেন একই ব্যবস্থা যে সবার জন্য প্রযোজ্য হবে তা কিন্তু নয়।  

গডফ্রে বলেন আপনার পরিচিত যদি কেউ প্রিয়জন হারান, তার সাথে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না। 

আপনার অনুভূতি প্রকাশ করতে আরো কিছু সৃষ্টিশীল পথ আছে যেমন শোকার্যকে ফুল দিয়ে আসা, লেটার বক্সে একটি কার্ড দেয়া, কিংবা গেইটের কাছে খাবারের একটি প্যাকেট রেখে আসতে পারেন।  

Lighting a candle
Source: Getty Images

প্রিয়জন হারানো শোকার্ত কারো ফ্রী কাউন্সেলিং প্রয়োজন হলে কল করুন GriefLine 

এছাড়া আরো সহায়তা পেতে ভিসিট করুন বিয়ন্ড ব্লু Beyond Blue বা কল করুন ১৩০০ ২২ ৪৬৩৬

আপনার ভাষায় সহায়তা পেতে কল করুন ন্যাশনাল ট্রান্সল্যাটিং এন্ড ইন্টারপ্রেটিং সার্ভিস ১৩ ১৪ ৫০ এই নাম্বারে। 

আরও দেখুনঃ


Share

4 min read

Published

By Amy Chien-Yu Wang

Presented by Shahan Alam




Share this with family and friends


Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now

COVID 19-এর সময়ে প্রিয়জনদের মৃত্যু: যেভাবে আমাদের শোকের প্রকাশ পরিবর্তিত হলো | SBS Bangla