ক্যানবেরা
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বহু ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে পালিত হয় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
এসময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার আল্লামা সিদ্দীকী বলেন, পৃথিবীর সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের ভাষা এখন ঝুঁকির সম্মুখীন। গত দুই শতাব্দীতে প্রায় দু’হাজার ভাষা বিলুপ্ত হয়েছে। যেকোন ভাষার প্রতিটি শব্দ গভীর মর্মার্থ বহন করে। ভাষা হলো প্রতিটি জাতির সংস্কৃতি, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে ধরে রাখার মাধ্যম। যেকোন ভাষা বিলোপ হলে মানুষের অতীত স্মৃতি, সংগ্রামের ইতিহাস এবং আবিষ্কৃত নতুন প্রযুক্তিসহ সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক হারিয়ে যায়।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার বিশ্বের প্রতিটি ভাষা সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্ভীক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন তিনি।
রাজধানী ক্যানবেরায় প্রভাত ফেরীসহ বাংলাদেশ হাইকমিশনের এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন এসিটি সরকারের পরিবেশ মন্ত্রী রেবেকা ভাসারতি, বহুসংস্কৃতি বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী পিটার কেইন, অস্ট্রেলিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. সিসো প্রামানোসহ কূটনৈতিক, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের প্রতিনিধি, অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীগণ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
অংশগ্রহণকারীরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় ভাষা শহীদদের স্মরণে ০১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া এসিটি সরকারের পরিবেশ মন্ত্রী, ছায়ামন্ত্রী এবং অস্টেলিয়ায় ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।
সকাল ৮.০০ টায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন। এ সময় দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।
সন্ধ্যায় দেড় শতাধিক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশীর অংশগ্রহণে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হাইকমিশনারসহ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা শেষে ভাষা শহীদদের স্মরণে ও বাংলাদেশকে উপজীব্য করে স্থানীয় বাংলাদেশী শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া নিজ নিজ ধর্মমত ও প্রথা মোতাবেক ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে মৌন প্রার্থনা এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

বিনম্র শ্রদ্ধা এবং ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, সিডনিতে মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সিডনি মিশন বিস্তারিত কর্মসূচীর আয়োজন করে। Source: Supplied / Bangladesh Consulate General, Sydney
উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে সিডনির বাংলাদেশ কনস্যুলেটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
বিনম্র শ্রদ্ধা এবং ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, সিডনিতে মহান শহীদ দিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সিডনি মিশন বিস্তারিত কর্মসূচীর আয়োজন করে।
দিবসের শুরুতে কনসাল জেনারেল পতাকা অর্ধনমিতকরণের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রমের সূচনা করেন। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ ও মহান ভাষা আন্দোলনে শহীদগণের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি ও উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অপরাহ্নে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, সিডনিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসে বসবাসরত প্রবাসীগণের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করার পর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, গীতা ও বাইবেল পাঠ করা হয়। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী উপস্থিত দর্শকদের পড়ে শুনানো হয়।
কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যের শুরুতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং ভাষা আন্দোলনে শহীদদের এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে যে সকল বীর সন্তান তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করেন। দিনটির গুরুত্ব এবং তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার বীজ বপন হয়েছিল মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তারই ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

সিডনিতে অবস্থিত ‘একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার’ পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার মাধ্যমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়। Source: Supplied / Bangladesh Consulate General, Sydney
সিডনিতে অবস্থিত ‘একুশে একাডেমী অস্ট্রেলিয়ার’ পরিবেশনায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়। পরিশেষে কনসাল মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন এবং কনস্যুলেট কর্তৃক আযোজিত আপ্যায়নে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
Share






