বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম খুনি রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেম উদ্দিনকে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনায় তার ডেরা থেকে আটক করা হয়েছে বলে একটি খবর প্রচারিত হয়েছে। তবে তার সরকারি স্বীকৃতি মেলে নি।পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপারিন্টেন্ডেট অফ পুলিশ তরুণ হালদার জানিয়েছেন, এমন কোন ঘটনা তাঁর এলাকায় ঘটে নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে গ্রেপ্তারের খবর প্রচারিত হওয়ার পর রবিবার রাত ২ টা পর্যন্ত ঠাকুরনগর এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ডাক্তার সমীর দত্ত ওরফে মোসলেম উদ্দিনের কোন হদিস মেলে নি। সমীর দত্ত জানুয়ারি মাসে মারা গেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।এর আগে একটা সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর এলাকায় ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া থাকছিল মোসলেম উদ্দিন।তবে এবার মোসলেম উদ্দিন ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে আটক হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।২০১৮ সালে সে বাংলাদেশে গিয়ে পরিবারের সাথে কয়েকদিন ছিল বলেও দাবি করা হয়।
সোমবার আনন্দবাজার পত্রিকা “মুজিবের আর এক খুনিও কি এই বঙ্গে?”-- এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।এতে ভারতীয় গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় তিনি আটক হতে পারেন বলে সূত্রে দাবি করা হয়েছে।ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আব্দুল মাজেদের মতো পরিচয় ভাঁড়িয়ে শেখ মুজিবের আর এক খুনিও দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্রের। মাজেদকে জেরা করে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার বিষয়ে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। ভারতের গোয়েন্দাদের সহযোগিতায় রিসালদার (বরখাস্ত) মোসলেম উদ্দিন নামে এই প্রাক্তন সেনা অফিসারকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় তার ডেরা থেকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল। আবার অন্য একটি সূত্রের খবর, মাজেদ আটক হওয়া মাত্রই নিজের মৃত্যু-সংবাদ ছড়িয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে মোসলেম উদ্দিন।

আনন্দবাজারে লেখা হয়েছে, ভারতের গোয়েন্দাদের একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, লকডাউনের সময় এ দেশ থেকে মোসলেহ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হতে পারে বলে ঢাকা বিষয়টি ভারতের গোয়েন্দাদের জানায়। ভারতীয় গোয়েন্দারা এই খুনিকে কার্যত তাড়িয়ে সীমান্তের কোনও একটি অরক্ষিত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে সরকারিভাবে কিছুই স্বীকার করা হয় নি।পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ পুলিশ জেলার সুপারিন্টেন্ডেট অফ পুলিশ তরুণ হালদার জানিয়েছেন, এমন কোন ঘটনা তাঁর এলাকায় হয় নি।
জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনী ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হবার পর গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে মোসলেম উদ্দিন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানায়।এরপর গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়লে তিনি নিখোঁজ হন। উত্তর চব্বিশ পরগনার ঠাকুরনগর রেলস্টেশন এলাকায় অপরিচিত কিছু লোকজনের সঙ্গে তাকে শেষ দেখা গিয়েছিলো বলে দাবি করা হয়েছে।
একটা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন মোসলেম উদ্দিন গোবরডাঙ্গার ঠাকুরনগর এলাকার চাঁদপাড়া রোডের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। এই এলাকায় ডাক্তার দত্ত নামে পরিচিত ছিলেন এবং ইউনানী ফার্মাসী নামে একটি আয়ুর্বেদ ও হোমিও চিকিৎসা করতেন। ঠাকুরনগর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মের পিছনে একটি বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল।ওই এলাকায় প্রায় ৪০ বছর ধরে বসবাস করছিলেন মোসলেম উদ্দিন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
