হাইলাইটস
- সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের কয়লাঘাট বিল্ডিং-এ আগুন লাগে।
- চার জন দমকল-কর্মীসহ নয় জনের মৃত্যু।
- মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে পূর্ব রেলের দফতরের মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার রাত ১১:১৫ নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতোমধ্যে মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লাখ টাকার আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা করেছেন তিনি। দিয়েছেন মৃতদের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতিও।
স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের নিউ কয়লাঘাট বিল্ডিংয়ে সোমবার সন্ধ্যার বিধ্বংসী আগুনের পরে কলকাতা পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র জানিয়েছেন, মৃতদের মধ্যে রেলের ডেপুটি চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার পার্থসারথি মণ্ডল, দমকলের চার কর্মী, পুলিশের এক অফিসার এবং আরপিএফ-এর এক জন রয়েছেন। সকলকে রাত পর্যন্ত শনাক্ত করা যায় নি।

রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, রেলের অনেক পুরনো ভবন। ভয়াবহ দুর্ঘটনা, আগুন নেভাতে আসা সাত জনের দেহ তখনও অবধি পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এখনও দু’জনের খোঁজ চলছে বলে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন। মৃতরা লিফটে করে উঠতে গিয়েছিলেন। সেখানেই আগুন বিদ্যুতের ঝলকের মতো পুড়িয়ে দিয়েছে। খুবই দুঃখজনক, মৃতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপুরণ ছাড়াও পরিবারের এক জনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। সকলেই খুব লড়াই করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, তিনি রাতে দমকল ও পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে ১৩ তলায় উঠে নিজে মৃতদেহ দেখে এসেছেন। তাঁর কথায়, লিফটে উঠে ১৩ তলায় পৌঁছে লিফটের দরজা খোলার পরে আগুনে ঝলসে প্রায় পুড়ে যান তাঁরা। উপরে উঠে দেখেন, লিফটের মধ্যেই পাঁচ জনের দেহ পড়ে রয়েছে। বাইরে পড়েছিল আরও দু’জনের দেহ। পোশাক দেখে বোঝা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে চার জন দমকলকর্মী। এ ছাড়াও এক জন আরপিএফ এবং এক জন হেয়ার স্ট্রিট থানার এএসআই। এক জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় নি।

সোমবার দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু সাংবাদিকদের বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ৬টা ১০ মিনিটে আগুন লেগেছিল। ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরা রেলকর্মী বলে জানা গিয়েছে। আগুন লাগে স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের দফতরে। ১৩ তলায় আগুন লাগায় ল্যাডার আনতে হয় দমকলকে। রাতের দিকে খবর আসে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। তা নিশ্চিত করেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। সূত্রের খবর, দমকল কর্মীরা লিফটে করে ওপরে উঠছিলেন। যে মুহূর্তে লিফট খোলেন তাঁরা, আগুনের লেলিহান শিখায় ঝলসে যান তাঁরা। তা এতটাই ভয়াবহ, দেহ শনাক্ত করতেও সমস্যা হচ্ছিল। তাঁরা অনুমান করতে পারেন নি, অন্যদিকের আগুন এপাশে চলে এসেছে।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
