কেন্দ্রের সঙ্গে মুখ্যসচিবদের বৈঠকের পর এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সতর্কতা অবলম্বনে ইতমধ্যেই দেশের মোট ৭৫টি জায়গায় লকডাউন ঘোষণা হয়েছে।যদিও পেট্রোপণ্য যেমন ডিজেল,কেরোসিন,ন্যাপথা,পচনশীল খাদ্যদ্রব্য,ওষুধের দোকান,প্যাথলজি ল্যাবের মতো অত্যবশ্যকীয় পরিষেবা পাবে সাধারণ মানুষ।অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল, চিকিৎসা ব্যবস্থা লকডাউনের আওতার বাইরে।সবজি বাজার, মুদিখানা,গ্যাসের দোকান,ওষুধের দোকান,মাছ বাজার, সরকারি বাস।
এর মধ্যেই লকডাউন নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয় এমনই বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।ইতিমধ্যেই করোনা সংক্রমণ রুখতে আন্তঃরাজ্য বাস যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে রাজ্য সরকার।২১ তারিখ মধ্যরাত থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভিন রাজ্য থেকে পশ্চিমবঙ্গে কোনও যাত্রীবাহী বাস আসবে না এবং যাবে না। পরিবহন দফতরের এই নির্দেশ প্রতিটি জেলার জেলাশাসক, পুলিস সুপার, রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট অফিসারদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরেই জানানো হয়েছিল রেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে রেলপরিষেবা, চলবে না মেট্রোও।মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই নিয়ম।সব দূরপাল্লার মেল,এক্সপ্রেস,প্যাসেঞ্জার ট্রেন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল রেলওয়ে বোর্ড।ফলে কার্যত আশিংক লক ডাউনের পথে দেশ।শহর ও শহরতলি থেকে কোনও ট্রেন ছাড়বে না।বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে মেট্রো পরিষেবাও।সোমবার থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে না মেট্রো রেলও।তবে, অত্যাবশকীয় পণ্য পরিবহণের জন্য শুধুমাত্র চালু থাকবে মালগাড়ি।

অন্যদিকে,জনতা কারফিউয়ের সমর্থনে রবিবার দেশবাসী বাড়িতে থাকায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।মানুষের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন, কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে একজোট হয়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।মানুষের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে রবিবার পরপর ট্যুইট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন,ভারতের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা এ ক্ষেত্রে একসঙ্গে আছি। কোবিড নাইনটিন-এর বিরুদ্ধে আমরা একজোট হয়ে লড়াই করব। জনতা কারফিউতে রাস্তাঘাট কতটা ফাঁকা রয়েছে তা বোঝাতে একটি রিট্যুইটও করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।রবিবার বাড়িতে থাকার জন্য প্রচার চালিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যে চেষ্টা চালিয়েছেন,তাকেও কুর্নিশ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।এই সময়টায় পরিবারের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটানো,টিভি দেখা,ভালো খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর মধ্যেই করোনাভাইরাসে আরও একজনের মৃত্যু হল,এ বারে গুজরাট।এই নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৯।সুরাটে রবিবার মৃত্যু হয়েছে ওই করোনা আক্রান্ত রোগীর। করোনায় প্রথম মৃত্যু হল গুজরাটে।ভাদোদরার হাসপাতালে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধারও মৃত্যু হয়েছে।তাঁর কোভিড-১৯ টেস্টের রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি।কাজেই তিনিও করোনার কারণেই মারা গিয়েছেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।রবিবার আরও দু জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। মৃতদের মধ্যে একজন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা।তাঁর বয়স ৬৩ বছর।তিনি ২১ মার্চ থেকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।এই নিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।অন্যজন রাজস্থানের,তাঁর বয়স ৫৬ বছর।তিনি ইতালির পর্যটক। রাজস্থানে তাঁর মৃত্যু হয়।শনিবার রাতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিহারে মৃত্যু হয়েছে একজনের।মৃতের নাম সইফ আলি,তাঁর বয়স ৩৮ বছর।এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিহারে মৃত্যু হয়েছে।
এর আগে জার্মানি থেকে ফেরা ৭০ বছরের পাঞ্জাবের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়।তিনি জার্মানি থেকে ইতালি হয়ে ভারতে ফিরেছিলেন তিনি।পঞ্জাবের নওয়ানশহরের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তাঁর।প্রচণ্ড বুকে ব্যাথার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।তাঁর শরীর থেকে যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, তাতে মিলেছে করোনা ভাইরাস।এর আগে কর্নাটক, দিল্লি, মহারাষ্ট্রে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
