নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি ইংলিশ স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মিসেস হাবার্ট নামের এক স্কটিশ ভদ্রমহিলার কাছে গানের হাতেখড়ি মাকসুদের। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই, ১৯৭৩-৭৪ সালে বন্ধুরা মিলে গড়ে তুলেন শৌখিন ব্যান্ড ‘ফিয়াস্কো’। স্টেজ পারফর্ম করেছেন মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার ‘আর্লি বার্ড’ ব্যান্ডের হয়ে্ও। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে যোগ দেন 'ফিডব্যাকে'। যেখান থেকে বাংলা গানের ভান্ডারে আসে অনেক কালজয়ী গান।
এখন যাদের বয়স চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ, তারা দেখেছেন বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের সেই সোনালি দিন। বড় হয়েছেন মাকসুদের জনপ্রিয় সব গান শুনে। পরবর্তীতে ফিডব্যাক ছেড়ে যাওয়া, বাউল সঙ্গীতের ফিউশনসহ আরো অনেক বিষয় নিয়ে এসবিএস বাংলার সাথে কথা বলেছেন মাকসুদ। একটি কনসার্টে অংশ নিতে এই মুহুর্তে সিডনি আছেন মাকসুদ ও তার দল।

২০১৩ সালেও সিডনি এসেছিলেন। এ্যাডিলেইড দিয়ে শুরু করেছেন আপনার এবারের অস্ট্রেলিয়া সফর, কেমন লাগছে?
ওই বছরের শোটাও ভালো ছিল; যদিও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছিলাম। এবার অনেক রিল্যাক্স। এ্যাডিলেইডে আমার প্রথম শো। খুবই ভালো লেগেছে। দর্শকরা খুবই প্রাণবন্ত ছিল। অনেক ঘোরাঘুরি করেছি।
সিডনিতে নতুন কিছু দিচ্ছেন কি এবার?
আমি নতুন করে আসছি আবার... (হাসি)। পাঁচ বছর আগের ব্যান্ডটা এখন অনেক পরিপক্ক। সবসময় মিউজিকে নতুন কিছু দেয়ার চেষ্টাই থাকে। ডিজিটাল যুগের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আমরা সঙ্গীত পরিবেশনা করি। আশা করি নতুন কিছু দিতে পারব।
অন্য প্রসঙ্গে যদি বলি, আপনি নেই বলে ফিডব্যাককে প্রাণহীন মনে হয়। এটা কি আপনাকে কষ্ট দেয়?
আসলে ২১ বছর হয়েছে ফিডব্যাক ছেড়ে দিয়েছি। ওদের সাথে আমার ডিভোর্স বা সেপারেশন হয় নাই, জাস্ট চলে আসছি। মানুষের মুখেও শুনি হতাশার কথা। এখন আর আনন্দ, বেদনা বা কষ্ট লাগে না।
কিন্তু এটাকে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নেয়া যায় না?
ফিরে যাবো বলেতো চলে আসি নাই। আমি নতুন ব্যান্ড করব বলেই আসছি। আপনি যে কথা বলছেন, এ অফারতো আসতে হবে ফিডব্যাক থেকে। আমিতো বলতে পারি না! দ্বিতীয়ত, আমার সাথে যারা ২১ বছর গান করেছে তারা কি করবে? তাদের সাথে আমি এত বড় একটা বেঈমানি করব কি করে? আমার ৪১ বছরের মিউজিক্যাল ক্যারিয়ারের ২০ বছর ফিডব্যাকে আর ২১ বছর এদের সাথে আমি কাটিয়ে দিয়েছি। আমার জন্য এটা অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত হবে।
ফিডব্যাক এবং মাকসুদ একই মনে করে দর্শক- শ্রোতারা...
এরকম অনেকেই বলে। আমি যদি ওটা নিয়ে পড়ে থাকতাম তবে আজ যেখানে আছি এই পর্যন্ত আসতে পারতাম না। ২১ বছরে কিন্তু আমার অনেক অর্জন, ৩-৪টা এ্যালবাম আছে। অনেক আন্তর্জাতিক শো আছে।

লালনের সাথে আপনার সম্পর্ক অনেক পুরোনো। কতটা প্রভাব আছে আপনার জীবনে?
৮৮ থেকে এই পথে আছি। বয়স বাড়ছে কমিটমেন্টের জায়গাও বাড়ছে। আগে যা বোঝতাম তার থেকে এখন আরো ভালো করে বোঝার চেষ্টা করি। নতুন নতুন তত্ত্ব আসছে। সাধকদের মধ্যেতো আমার বন্ধুর অভাব নেই। বাউল মিউজিক হলো 'রুট রকস'। এটা বাংলাদেশের আসল রক মিউজিক।
বাউল মিউজিকের সাথে পোশাকের কোন সম্পর্ক আছে কিনা?
পোশাকটা আমি পরিকল্পনা করে কিছু করি না। আমার ভালোলাগা থেকেই করি। ইংরেজিতে একটি কথা আছে—আপনি কী পোশাক পরছেন, সেটি নয়; বরং স্বয়ং আপনিই ফ্যাশন।
শেষ প্রশ্ন। রবীন্দ্র সঙ্গীত নিয়ে আরো কাজ করবেন কিনা?
রবীন্দ্র সঙ্গীত করব না এটা কিন্তু বলি নাই। এখন রবীন্দ্রনাথকে ডিজিটাল যুগে আমি কিভাবে উপস্থাপন করব? সেই তবলা, হারমোনিয়াম, ডুগডুগি দিয়ে হবে না। রবীন্দ্রনাথসহ আরো অনেক বড় সাধকদের নিয়েই কাজ করছি। পুরোপুরি রবীন্দ্র ফিক্সেশন আমার নেই, লালন ফিক্সেশন আছে।

আগামী শনিবার সিডনিতে মাকসুদ ও তার দলের সাথে একই মঞ্চে গাইবে চিরকুট ব্যান্ড। সাথে থাকবেন ডিজে রাহাত। পরবর্তীতে মেলবোর্নে আরেকটি শোতে অংশ নিবেন তারা।