ভিক্টোরিয়ায় একটি মিট প্রসেসিং প্লান্টে করোনাভাইরাসের প্রাদূর্ভাব দেখা দিয়েছে। সেখানকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬২ ব্যক্তি এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যটির ব্রুকলিনের সিডার মিটস প্লান্ট-এ বৃহস্পতিবার সকালে আরও ১৩টি নতুন কেস শনাক্ত করেছে ভিক্টোরিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ।
ফুটসক্রেইতে ডৌটাগালা এজড কেয়ার সেন্টারের একজন কর্মীও এতে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি কসাইখানাটির একজন কর্মীর ঘনিষ্ট সংস্পর্শে এসেছিলেন। এ ছাড়া, Bacchus Marsh এর গ্রান্ট লজ এজড কেয়ার-এর একজন কর্মী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে গত শনিবার নিশ্চিত করা হয়।

এই নার্সিং হোম দুটিই বন্ধ করা হয়েছে। এদিকে, রাজ্য সরকার ইতোপূর্বে দাবি করেছিল যে, তারা যথাযথভাবে এই মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ হয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে ভিক্টোরিয়া সরকারের ভূমিকার পক্ষ নিয়ে প্রিমিয়ার ড্যান অ্যান্ড্রুজ বৃহস্পতিবার রিপোর্টারদেরকে বলেন,
“কীভাবে মহামারীর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তার একটি আদর্শ নমুনা ছিল এটি।”
“এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।”
এপ্রিলের ২ তারিখে সেখানে যে ব্যক্তির দেহে এটি শনাক্ত করা হয়, তিনি বলেন, সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে তারা আর কাজে যান নি। তাই, তাদের কর্মক্ষেত্র আর নাজুক এলাকা হিসেবে গণ্য করা হয় নি।
এরপর ২৪ এপ্রিল সেই কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দ্বিতীয় একটি কেস শনাক্ত করা হয়। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তৃতীয় ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলে।
ফেডারাল এগ্রিকালচার মিনিস্টার ডেভিড লিটলপ্রাউড তদন্ত করছেন যে, কমনওয়েলথ কর্মকর্তারা যারা এই কসাইখানাটি পরিদর্শন করেছেন, তারাও এত সংক্রমিত হয়েছেন কিনা।
সিডার মিটস এখন বন্ধ করা হয়েছে। প্রফেসর সাটন মনে করছেন এর মাধ্যমে আগামী পক্ষকালের মধ্যে আরও কিছু নতুন কেস পাওয়া যাবে।
এই চিফ হেলথ অফিসার বলেন, এই প্রাদূর্ভাবের ফলে বোঝা যাচ্ছে যে, এই ভাইরাসটির বিরুদ্ধে সংগ্রাম এখনও শেষ হয়ে যায় নি। তবে, ১১ মে এর পর ভিক্টোরিয়াতে নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করা হবে।
এদিকে, প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ-এর সমালোচনায় মুখর হয়েছে ভিক্টোরিয়ার বিরোধী দল। তারা বলছে, এই কসাইখানাটিতে করোনাভাইরাসের প্রাদূর্ভাবের বিষয়টি ভিক্টোরিয়ার “নিজেদের রুবি প্রিন্সেস”।
হেলথ মিনিস্টার জেনি মিকাকোস এভাবে তুলনা করার বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রাদূর্ভাবের বিরুদ্ধে পাবলিক হেলত টিম চমৎকার কাজ করেছে।
রুবি প্রিন্সেস ভাইরাস ক্লাস্টারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে অন্তত ২০ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে ৬০০ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

অস্ট্রেলিয়ার জনগণকে অবশ্যই পরস্পরের মাঝে কমপক্ষে ১.৫ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জন-সমাগমের সীমা সম্পর্কে জানতে আপনার রাজ্যের নিষেধাজ্ঞাগুলো দেখুন।
অস্ট্রেলিয়া জুড়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা এখন ব্যাপকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে। আপনার মাঝে যদি সর্দি-কাশির (কোল্ড কিংবা ফ্লু) লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে আপনার ডাক্তারকে কল করে কিংবা করোনাভাইরাস হেলথ ইনফরমেশন হটলাইন, 1800 020 080 নম্বরে কল করে টেস্টের ব্যবস্থা করুন।

আপনার মোবাইল ফোনের অ্যাপ স্টোর থেকে ফেডারাল সরকারের করোনাভাইরাস ট্রেসিং অ্যাপ COVIDSafe ডাউনলোড করা যাবে।
আপনার যদি শ্বাস-কষ্ট কিংবা মেডিকেল ইমার্জেন্সি দেখা দেয়, তাহলে 000 নম্বরে কল করুন।
আপনার ভাষায় কোভিড-১৯ এর সর্বশেষ আপডেট জানাতে এসবিএস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ৬৩ টি ভাষায় এ বিষয়ক সংবাদ ও তথ্য পাবেন। ভিজিট করুন: sbs.com.au/coronavirus.

বাংলায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বিষয়ক আমাদের সর্বশেষ আপডেটের জন্য ভিজিট করুন:
https://www.sbs.com.au/language/bangla/coronavirus-updates
অস্ট্রেলিয়ার এবং বাকি বিশ্বের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর হাল নাগাদ খবর

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
