অস্ট্রেলিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনে ব্রিসবেনে বন্দি মুসলিম আশ্রয়প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেছেন যে তারা গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সার্টিফাইড হালাল খাবার পাচ্ছেন না।
স্বাস্থ্যগত কারণে একশোরও বেশি এই পুরুষ আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের নাউরু এবং পাপুয়া নিউ গিনি থেকে সরিয়ে ক্যাঙ্গারু পয়েন্ট হোটেলে নেয়া হয়েছে। যারা হোটেলে বন্দি তাদের মধ্যে অনেক ব্যক্তি মুসলিম এবং তারা হালাল খাবার খান।
ইরানিয়ান বন্দি আমিন আফ্র্যাভি বলেন, "গবেষণা এবং তদন্ত করে আমরা দেখেছি সেরকো (Serco) যে খাবার দেয় তা হালাল নয়, এবং ব্রিসবেনে আসার শুরু থেকেই এমন হয়ে আসছে।"

বন্দি আশ্রয়প্রার্থীরা গার্ডদের হালাল সার্টিফিকেশন দেখাতে চ্যালেঞ্জ করেন এবং সেরকোকে যারা খাবার সরবরাহ করে তাদের সাথে যোগাযোগ করে জেনেছেন যে ওই খাবার হালাল সার্টিফাইড নয়।
তবে সেরকো বন্দিদের নিশ্চিত করেছে যে বর্তমান এবং আগের সরবরাহকারীরা 'হালাল সার্টিফাইড ছিল না' কিন্তু তারা 'মাংস কিনেছে হালাল সার্টিফাইড সরবরাহকারীদের' কাছ থেকে।
হোম এফেয়ার্সের সাথে সেরকোর চুক্তিতে আছে যে 'বন্দিদের ইসলামী বিশ্বাসের সাথে মিল রেখে হালাল খাবার দিতে হবে যা হতে হবে হালাল সার্টিফাইড কোন সংস্থা দ্বারা স্বীকৃত।"
সেরকো এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করে এবং হোম এফেয়ার্সে যোগাযোগ করতে বলে। হোম এফেয়ার্স এসবিএস নিউজকে এক বিবৃতিতে জানায় যে "চুক্তির বিষয়গুলো মানা হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।"
তবে ডিপার্টমেন্ট এই পর্যবেক্ষণে কোন নিয়মভঙ্গ করা হয়েছে কিনা তা উল্লেখ করে নি।
প্রধান হালাল সার্টিফিকেশন প্রদানকারী সংগঠন ইসলামিক কাউন্সিল অফ কুইন্সল্যান্ডের মুখপাত্র আলী কাদরী বলেন, "আমার মনে হচ্ছে তারা চুক্তির বিশেষ ধারাগুলো অনুসরণ করছে না, কারণ ওই দুই উৎস কোম্পানি হালাল সার্টিফাইড নয়।"
"তাই এটা প্রাসঙ্গিক নয় ওই কোম্পানিগুলো কোথা থেকে খাবার আনছে, তারা কি প্রক্রিয়া গ্রহণ করছে, তাদের খাবারের উপাদান কি এ বিষয়ে নিশ্চিত কোন তথ্য নেই।"
"আমরা তাদের কোন অপরাধ ছাড়াই আটকে রেখেছি অনেকদিন ধরে যা তাদের প্রতি ভীষণ অবিচার, এখন যদি তাদের খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী খাবারটাও না দেই তাহলেতো এটা সত্যিই ভয়ংকর এবং মানসিক নির্যাতন।"

এসাইলাম সীকার্স রিসোর্স সেন্টারের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পাচ্ছেন বন্দিরা, তারা এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে।
এই সংস্থার কেস ওয়ার্কার নিনা ফিল্ড বলেন, "তারা মনে করছে এটা তাদের অধিকারের চরম লঙ্ঘন, এবং চরম প্রতারণা। এই অভিযোগের মূল কথা হচ্ছে এর মাধ্যমে তাদের ধর্ম পালনের অধিকার লংঘিত হয়েছে।"
"অনেক বন্দিদের মধ্যে ভীষণ মানসিক ও শারীরিক সমস্যা আছে, তাদের অস্ট্রেলিয়াতে নিয়ে আসা হয়েছে কারণ তাদের নাউরু বা পাপুয়া নিউ গিনিতে চিকিৎসা দেয়া যাচ্ছিলো না। তাই এর ওপর এই সংকট তাদের সার্বিক মানসিক ও শারীরিক অবস্থার জন্য ভালো নয়।"
মিজ ফিল্ড জোর দিয়ে বলেন, থার্ড পার্টি ক্যাটারারদের থেকেও বন্দিরা সেরকো এবং হোম এফেয়ার্সের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট।
তিনি বলেন,"বিষয়টা ক্যাটারারদের জন্য অতটা প্রযোজ্য নয়, এটা আসলে সেরকো এবং এবিএফের দায়িত্বের বিষয়।"
মিঃ আফ্র্যাভি বলেন, এই ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ার পর তিনি অল্প খেয়ে বেঁচে আছেন।
তিনি বলেন, "শুধু ভাত আর দই খেয়ে আমি অনেক ওজন হারিয়েছি, এবং আমি এখন ৫৫ কেজি মাত্র। আমি ক্লান্ত, দুর্বল, আমার মাথা ঘুরতে থাকে এবং মাথা ব্যাথা হয়। আমার কোন উপায় নেই।"

সাম্প্রতিককালে ক্যাঙ্গারু পয়েন্ট হোটেলের ভিতর ও বাইরে যে প্রতিবাদ হয় তাতে এই সমস্ত অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারের বিষয়টি সকলের নজরে আসে। এগুলোকে হোম এফেয়ার্স 'বিকল্প ডিটেনশন স্থান' বলে উল্লেখ করে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদকারীরা ক্যাঙ্গারু পয়েন্ট হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করে, তাদের সাথে প্ল্যাকার্ড হাতে বন্দিরাও তাদের ব্যালকনি থেকে যোগ দেয় - এই বালকনিই তাদের একমাত্র বাইরে বিচরণের জায়গা।
২০১৩ সালে প্রণীত অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ইমিগ্রেশন পলিসি অনুযায়ী যারা অস্ট্রেলিয়াতে নৌকায় করে আসবে তাদের স্থায়ীভাবে থাকতে দেয়া হবে না, এমনকি তারা প্রকৃত শরণার্থী বলে প্রমাণিত হলেও।
অস্ট্রেলিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনার এড সানটো এর আগে জোরের সাথে বলেছেন যে যেসব শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থী চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসবে তাদের যাতে আটকে রাখা না হয়, "যদিনা কারো বিষয়ে বড়ো ধরণের নিরাপত্তার শংকা থাকে"।
আরো পড়ুনঃ





