প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে পরে কথা বলার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গত দু মাস ধরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।পশ্চিমবঙ্গে সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
শনিবার বিকালে মিনিট ১৫ বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবন থেকে বেরিয়ে বলেছেন, বৈঠকে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর অতিথি। এটা মনে হয়েছে বলে বলছেন। তিনি এখনো জাতীয় নাগরিকপঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, কোনও মানুষই যেন দেশ থেকে বাদ না যায়। কারোর ওপরে যেন কোনওরকম অত্যাচার না হয়। মানুষে মানুষে বৈষম্য না হয়, এটা দেখতে হবে।
এর মধ্যেই, শুক্রবার দেশজুড়ে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু করার নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে ওই আইন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, ক্যা (সিএএ) ও এনআরসি নিয়ে আরও একবার ভাবনাচিন্তা করুন, প্রত্যাহার করুক কেন্দ্রীয় সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, রাজ্য এসেছেন একাধিক কর্মসূচি নিয়ে, এখনই কথা বলবেন না। সুযোগ হলে দিল্লিতে কথা বলে নেবেন।

এদিকে, সরকারের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাগাতার কর্মসূচি নিয়েছেন। এর মধ্যে রাজ্যে ২ দিনের সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। শনিবার বিকেলে রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ করেছে বিরোধী বাম-কংগ্রেস। সিপিএমের নেতা মহম্মদ সেলিম কটাক্ষ করেছেন, মোদী-মমতা তো আডবাণীর স্কুলে একসঙ্গে পড়তেন। মমতা, ক্যা ক্যা ছিঃ ছিঃ বলেছিলেন, এখন বলবেন আসলে কাছাকাছি বলতে চেয়েছিলেন।
কলকাতার রাজভবনে মিনিট ১৫ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে আসলে তাঁর সঙ্গে দেখা করাটা সাংবিধানিক দায়িত্ব। সেটাই পালন করেছেন। এর পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক দাবিদাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।পাশাপাশি, জাতীয় নাগরিক পঞ্জী বা এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা, সিএএ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশের নাগরিক সকলে, তাই নাগরিকত্ব এই ভাবে কাড়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আবেদন করেছেন অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার যেন সিএএ ও এনআরসি প্রত্যাহার করে তাঁর দাবিও জানিয়েছেন।
আর, বিরোধীদের জবাব দিয়ে বৈঠকের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এটা সাংবিধানিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রীরা।রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ২৮ হাজার কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। প্রতিবছর ৫৪ হাজার কোটি টাকা শোধ করতে হয়। বুলবুলের ৭ হাজার কোটি টাকা বাকি আছে। ওই টাকাটা আমাদের প্রাপ্য। রাজ্যের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী, তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন, সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখে রাজ্যকে জানাবেন।

এর আগে, শহরজুড়ে প্রবল বিক্ষোভের মধ্যে শনিবার দুদিনের সফরে কলকাতা পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ কলকাতা বিমান বন্দরে বিশেষ বিমানে করে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিমান বন্দরে তাঁকে গোলাপ দিয়ে স্বাগত জানান রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই পরিস্থিতিতে শহর জুড়ে চলেছে কালো পতাকা হাতে, বেলুন নিয়ে মোদী বিরোধী প্রতিবাদ। প্রতিবাদীদের কন্ঠে ছিল একটাই স্লোগান, গো ব্যাক মোদী। বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীর বিমান অবতরণের পর বাইরে স্লোগান ও বিক্ষোভে ফেটে পরেন প্রতিবাদীরা। বিমান বন্দরের দিকে প্রতিবাদীরা যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা। যার জেরে শুরু হয় প্রবল ধস্তাধস্তি উত্তেজনা। এরই জেরে বিমান বন্দর সংলগ্ন ভিআইপি রোডে বসে অবরোধ শুরু করেন বাম প্রতিবাদীরা। এরপরই রেসকোর্সে প্রধানমন্ত্রীর চপার পৌঁছানোর পর, গাড়িতে সড়ক পথে রাজভবনের দিকে রওনা হওয়ার সময়ে ফের একবার কালো পতাকা হাতে নিয়ে সঙ্গে গো ব্যাক স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সরব হয় প্রতিবাদীরা।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
