ভারতে ওমিক্রন বিএফ.৭-এর প্রথম আক্রান্তের খোঁজ মেলে অক্টোবর মাসে। গুজরাতের বায়োটেকনলজি রিসার্চ সেন্টারে ধরা পড়ে ওই উপরূপ (সাব-ভ্যারিয়েন্ট)। এর পরে গুজরাতেই আরও এক আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ছাড়া, ওড়িশায় এক জনের দেহে মেলে করোনার নতুন উপরূপের হদিস।
ভারতজুড়ে সতর্কতা জারি
ভিড় জায়গায় মাস্ক পরার ও বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। চিন, আমেরিকা, জাপান, ব্রাজিলের করোনা পরিস্থিতিকে নজরে রেখে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।
বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, করোনা এখনও শেষ হয়নি। চিন, আমেরিকার মত দেশে করোনা পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞদের ও আধিকারিকদের সাথে খতিয়ে দেখা হয়েছে বৈঠকে। পাশাপাশি, সকলকে সতর্ক থাকার ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বৈঠক শেষে নীতি আয়োগের সদস্য ভিকে পল বাইরে হোক বা ভেতরে ভিড় জায়গায় সকলকে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। দেশে মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বুস্টার ডোজ নিয়েছে।
বাকি সকলকে বুস্টার ডোজ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, করোনা প্রকোপ কমার পর চলতি বছরে মাস্ক পরার অভ্যাস কমেছে সাধারণ মানুষের।
কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বৈঠকে আবার সেই পুরোনো চিত্র উঠে এসেছে। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য সহ সকল আধিকারিককে মাস্ক পড়তে দেখা গিয়েছে। জাপান, আমেরিকা, কোরিয়া, ব্রাজিল ও চিনে আচমকা করোনা বাড়বাড়ন্ত দেখে ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলোকে সতর্ক করেছে কেন্দ্র।
এদিকে, দেশের রাজ্যগুলোকে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ সব রাজ্যকে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুতগামী করতে বলেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ইনসাকগতে করোনা ভাইরাসের কোনো নতুন সন্ধান পেলেই সেই নমুনা পাঠাতে বলা হয়েছে রাজ্যগুলোকে।

এর মধ্যে আবার,কোভিড সংক্রমণের প্রেক্ষিতে কংগ্রেসের 'ভারত জোড়ো' যাত্রা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই মর্মে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলটকে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য়।
চিঠিতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভারত জোড়ো যাত্রায় মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবহার সহ করোনার সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। শুধুমাত্র কোভিডের টিকাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই যাতে এই যাত্রায় শামিল হন, তা নিশ্চিত করতে হবে সংগঠকদের।
এরপরেই লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেছেন, তিনি বিজেপির থেকে জানতে চান যে, গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি কোভিড বিধি পালন করেছিলেন। তাঁর মনে হয়, রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা পছন্দ হয়নি মনসুখ মাণ্ডব্য়র। কিন্তু মানুষের ওই যাত্রা পছন্দ হয়েছে এবং তাতে যোগ দিচ্ছেন। মানুষের নজর ঘোরানোর কাজে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শীতের শুরুতে পূর্বাঞ্চলে আবহাওয়ার বদলকে সঙ্গী করেই কম-বেশি প্রতিটি ঘরে বাসা বাঁধছে জ্বর। কখনও ভাইরাল, কখনও বা মশাবাহিত, আবার কখনও জ্বরের কারণ জানতে রীতিমতো বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।
ঠিক কোন কারণে ঘরে ঘরে বাসা বাঁধছে জ্বর? জ্বর সম্পর্কে কোন কোন তথ্য সাধারণ মানুষের জানা উচিত? এখন এই জ্বরের সমস্যা প্রতিটি ঘরে ঘরে।
যদিও এই জ্বরকে দুই ভাগে ভাগ করে নিচ্ছেন অনেক ডাক্তার। যে কোনও জ্বরের প্রাথমিক ও মূল উপসর্গ হল গা গরম ও মাথা ব্যথা।
জ্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগীর যদি সর্দি, কাশি, হাঁচি, গলা ব্যথা ইত্যাদি থাকে, তা হলে বুঝতে হবে ভাইরাস শ্বাসযন্ত্র বা শ্বাসনালি আক্রমণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মূলত কোভিড, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ফ্লু ইত্যাদি বিভিন্ন জ্বর, যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট ভাইরাসের কারণেই হয়।
লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে এই ইনফ্লুয়েঞ্জার আক্রমণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা কোনও কোনও ক্ষেত্রে কোভিডের থেকে অনেক বেশি। অর্থাৎ কোভিডে যত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তার থেকেও অনেক অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরে। এই ইনফ্লুয়েঞ্জারই একটি প্রতিরূপ হল, সোয়াইন ফ্লু।চিকিৎসাশাস্ত্রের পরিভাষায় এনওয়ানএইচওয়ান।
বলা হচ্ছে, এই সোয়াইন ফ্লু ছোঁয়াচে। ফলে বহু মানুষ এর থেকে আক্রান্ত হয়েছেন। উপসর্গগুলি হল ব্যপক জ্বর, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কাশি ইত্যাদি। বলা হচ্ছে, এই জ্বরের ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টি ভাইরাল ওষুধেই এই জ্বর সারতে পারে।
তবে অবহেলা করলে সমস্যা জটিল হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনও রোগীর জ্বর হলেও সর্দি, কাশি কিছুই থাকে না।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই জ্বরগুলির ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত।এর মধ্যে রয়েছে, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, ডেঙ্গি ইত্যাদি। এই সময়ে ডেঙ্গি এবং টাইফয়েডের প্রচুর ঘটনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তাই সাবধান থাকাটা ভীষণ দরকার।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে ৭ টা পর্যন্ত। রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে










