এর আগেও অমিতসহ বিজেপি নেতৃত্ব একাধিক বার প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান থেকে আসা সেসব দেশের সংখ্যালঘুদেরই ভারতে শরণার্থী হিসেবে গ্রাহ্য করা হবে। যার থেকে স্পষ্ট, ওই দেশগুলিতে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের মানুষদের অর্থাৎ মুসলিমদের এদেশে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার।
রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এনআরসি বক্তব্যের পর পরই মুর্শিদাবাদের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা খারিজ করে দিয়েছেন।তাঁর স্পষ্ট কথা, পশ্চিমবঙ্গে নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) হবে না। একটা লোককেও পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত করতে দেবেন না। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে প্রশাসনিক সভায় যোগ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেখানে এনআরসি প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এনআরসি নিয়ে কেউ কেউ মিথ্যা ছড়াচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, বাইরের কারোর কথা বিশ্বাস করা উচিত হবে না, নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) হবে না। প্রত্যেকেই এ দেশের নাগরিক। একটা লোককেও বিতাড়িত করতে দেবেন না।

সংসদের চলতি অধিবেশনে রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। তার আগে রাজ্যসভায় এনআরসি-র প্রসঙ্গে আলোচনা শুরু হলে স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন,পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রিস্টান এবং পার্সি শরণার্থীদেরই নাগরিকত্ব পাওয়া উচিত। তাঁদের ভারতের নাগরিক করে তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রয়োজন।
কিন্তু হিন্দু, খ্রিস্টান-সহ বাকিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বললেও, শাহ কেন মুসলিমদের এড়িয়ে গেলেন, তা জানতে চান এনসিপি সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন। জবাবে অমিত শাহ বলেছেন, এনআরসি এবং নাগরিক সংশোধনী বিলের মধ্যে গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।
"এনআরসি তৈরির ক্ষেত্রে কোনও ধর্মকে নিশানা করা হয়নি।সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতেই সব কিছু হয়েছে।ধর্মীয় বিশ্বাস যাই হোক না কেন, দেশের সব নাগরিকেরই নাম নথিভুক্ত হবে এনআরসি তালিকায়। দেশের সর্বত্র এনআরসি হবে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। সকলকে এনআরসি-র আওতায় আনতেই এই প্রক্রিয়া।"
কারণ হিসাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানে ওই সব শরণার্থীরা নির্যাতিত। তবে, ফের অসমে কেন এনআরসি হবে, অমিত শাহের কথা, সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নিয়মে অসমে এনআরসি হয়। কিন্তু দেশজুড়ে যখন এনআরসি চলবে, সেই নিয়ম অসমেও কার্যকর হবে। তবে, ফের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বার্তা, কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের এ নিয়ে চিন্তার কারণ নেই।

অসমে নাগরিক পঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই ১৯ লক্ষের বেশি মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। কিন্তু ফরেনার্স ট্রাইবুনালে তাঁরা আবেদন করতে পারে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর কথায়, তালিকায় নাম বাদ গেলে ফরেনার্স ট্রাইবুনালে যাওয়ার অধিকার রয়েছে প্রত্যেকের।
অসমের বিভিন্ন প্রান্তে এই ট্রাইবুনাল গড়ে তোলা হবে। কারও সামর্থ্য না থাকলে, অসম সরকার তাঁর আইনজীবীর খরচ বহন করবে। উল্লেখ্য ,২০১৬ সালে লোকসভায় নাগরিক সংশোধনী বিল পেশ করে প্রথম নরেন্দ্র মোদী সরকার। পরে বিরোধীদের আপত্তিতে তা সংসদীয় যৌথ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। এ বছর জানুয়ারি মাসে তা নিয়ে রিপোর্ট জমা দেয় ওই কমিটি। তার পর তা লোকসভায় গৃহীত হয় এবং ৮ জানুয়ারি পাশ হয়ে যায়, কিন্তু রাজ্যসভায় এখনও পাশ হয়নি নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি।
