প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজি তাঁর প্রথম জাতীয় ভাষণে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট “অনিশ্চিত সময়ে” অস্ট্রেলিয়ানদের “নিজ নিজ দায়িত্ব পালন” করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিন মিনিটের এই ভাষণটি আগে থেকেই রেকর্ড করা হয়েছিল এবং বুধবার (ক্যানবেরা সময়) সন্ধ্যা ৭টায় সারা দেশে সম্প্রচার করা হয়, যে সময় হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার অর্থনৈতিক প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে।
লক্ষ্য করার মত বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত হওয়ার ঘটনাকে “সংকট” বলতে অস্বীকার করেছেন। যদিও এই পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে এবং লোকজন আতঙ্কিত হয়ে কিনছে বলে স্থানীয়ভাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি দেখুন:
আলবানিজি (জাতির উদ্দেশে ভাষণের) এই বিরল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রচলিত রীতি ভেঙেছেন, যা সাধারণত ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণের মতো বড় জাতীয় সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে ব্যবহৃত হয়।
তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বলেন, “আমার প্রিয় অস্ট্রেলিয়ানরা, স্বভাবগতভাবে আমরা আশাবাদী একটি দেশ। কিন্তু আমি বুঝতে পারি, এই মুহূর্তে ইতিবাচক থাকা কঠিন।”
“মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না।
“কিন্তু এর প্রভাব হিসেবে সব অস্ট্রেলিয়ানকেই বেশি দাম দিতে হচ্ছে।”
এই ভাষণে কোনো নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়নি; বরং আগের কয়েক দিনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে সোমবার ন্যাশনাল ক্যাবিনেটের গৃহীত ন্যাশনাল ফিওল সিকিউরিটি প্ল্যান, প্রতি লিটারে ২৬.৩ সেন্ট জ্বালানি আবগারি কর তিন মাসের জন্য কমানো, এবং ট্রাক চালকদের জন্য ভারী যানবাহনের সড়ক ব্যবহার ফি কমানো।
তিনি অস্ট্রেলিয়ানদের ইস্টারের ছুটিতে ভ্রমণে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন, তবে সম্ভব হলে জ্বালানি সাশ্রয় করতে এবং সামনে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় “নিজ নিজ দায়িত্ব পালন” করতে পরামর্শ দেন।
আলবানিজি বলেন, “যদি আপনি ভ্রমণে বের হন, প্রয়োজনের বেশি জ্বালানি নেবেন না, যে পরিমান সাধারণত নেন তেমনই নিন। আপনার কমিউনিটির অন্যদের কথা ভাবুন, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের কর্মীদের কথা।”
“এবং আগামী সপ্তাহগুলোতে যদি সম্ভব হয়, কাজে যাওয়ার জন্য ট্রেন, বাস বা ট্রাম ব্যবহার করুন।”
তিনি স্বীকার করেছেন যে অর্থনৈতিক ধাক্কা “কয়েক মাস ধরে চলবে”।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে “আমরা একসাথে পরবর্তী পদক্ষেপ সমন্বয় করতে পারি,”এ কথা বললেও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এসবিএস নিউজকে এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রিসভার সূত্র জানিয়েছে, আপাতত জ্বালানি ব্যবহারে কোনো বাধ্যতামূলক সীমাবদ্ধতা আসছে না; বরং স্বেচ্ছায় সাশ্রয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যদিও পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির।
সংকটজনক সময়ের জন্য সংরক্ষিত এই বিরল ভাষণ দেয়া হয়ে থাকে
এই ভাষণটি আগের কয়েকটি জাতীয় ভাষণের তুলনায় ভিন্ন, যেমন সর্বশেষ ২০২০ সালের মার্চে কোভিড-১৯ মহামারির শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের ভাষণ।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড এভাবে স্টোলেন জেনারেশনসের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
২০০৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ঘোষণা করেন যে অস্ট্রেলিয়া ইরাক যুদ্ধে যোগ দেবে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া চার ধাপের জাতীয় জ্বালানি সরবরাহ পরিকল্পনার দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে, এবং সরকার আশ্বস্ত করে যাচ্ছে যে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে, যদিও চাহিদা বেড়ে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আলবানিজি বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ও সম্ভাব্য মন্দা নিয়ে আরও প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
এই লিঙ্কে ক্লিক করে নতুন এসবিএস রেডিও অ্যাপ ডাউনলোড করুন
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI
