প্রায় এক দশক আগে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে বাংলাদেশ জিতেছিল ১৮ টি স্বর্ণ। সেটাই ছিল এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্জন। বাংলাদেশের বাইরে ‘৯৫ সালের মাদ্রাজ গেমসের সাত স্বর্ণ পদক ছিল সর্বোচ্চ। এশিয়ার অলিম্পিক খ্যাত এসএ গেমসের ১৩ তম আসর শুরু হয় ১ ডিসেম্বর নেপালে। ২৭টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশ ২৫টিতে অংশ নেয় । বাংলাদেশের ৬২১ জন অ্যাথলেট এবারের আসরে অংশ নেয়। মোট পদক জয়ে বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও সোনা জয়ে পিছিয়ে পড়েছে । পাকিস্তান জিতেছে ৩১টি সোনা।২০১০ সালের ঢাকা গেমসে ১৫৮টি সোনার লড়াইয়ে ১৮টি জিতে বাংলাদেশ হয়েছিল তৃতীয়। অতীতের চেয়ে এবার পদক সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
৩১৭ টি সোনা, সমান সংখ্যক ৩১৭ টি রুপা এবং ৪৮১ টি ব্রোঞ্জ মিলিয়ে ১১১৫ টি পদকের জন্য লড়াই করেছেন ৭ দেশের ২৭১৫ জন ক্রীড়াবিদ। স্বাগতিক নেপাল এবং শ্রীলঙ্কা ও ভারতের পরেই অংশগ্রহণ সংখ্যায় ছিল বাংলাদেশ ৪৭০ জন ক্রীড়াবিদসহ প্রায় ৬০০ জনের বিশাল বহর।অন্যদিকে ২৬৬ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে পাকিস্তান সাফল্যর বিবেচনায় রয়েছে বাংলাদেশের ওপরে। বাংলাদেশ এক আরচারি থেকে ১০টি সোনার পদক না এলে বড় লজ্জায় পড়তে হতো ৪৭০ জন ক্রীড়াবিদসহ প্রায় ৬০০ জনের বাংলাদেশের বিশাল বহরকে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্জন আরচারি ইভেন্টে। মোট ১০টির মধ্যে ১০টিতেই স্বর্ণপদক জিতে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশের আরচাররা।অন্যদিকে পুরুষ ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট, মেয়েদের ফেন্সিং, পুরুষ ভারোত্তোলন, নারী ভারোত্তোলন, তায়কোয়োন্দো থেকে একটি করে সোনা জিতেছে বাংলাদেশ। কারাতে থেকে তিনটি সোনা জিতে বাংলাদেশ। আর আগের ৮ আসরে ২২টি সোনার পদক জেতা শুটাররা এবার ফিরেছে সোনা ছাড়াই। ১৯৯১ সালে ৩টি সোনার পদক দিয়ে যাত্রা শুরু করা শুটিং গতবারও পেয়েছে একটি স্বর্ণ। কিন্তু এবার চরমভাবে হতাশ করেছেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী, শাকিল আহমেদ খানরা। ২০১৬ গৌহাটি-শিলং গেমসে ২টি সোনার পদক জেতা সাঁতারুরা এবার পায়নি কোনো সোনার পদক । গতবারের জেতা রুপার পদক হারিয়েছে হ্যান্ডবলের মেয়েরা। আর ছেলেরা ফিরছে একেবারেই শূন্য হাতে। ব্যাডমিন্টনে এবার বাংলাদেশের অর্জন মাত্র ১টি ব্রোঞ্জ।
স্কোয়াশ ,ভলিবল, বিচ ভলিবল, বাস্কেটবল, বাস্কেটবল থ্রি অন থ্রি, টেনিস, সাইক্লিং এ পদক শূন্য ছিল বাংলাদেশ । ভলিবল ও বাস্কেটবলে ব্রোঞ্জের সুযোগ থাকলেও সে সুযোগ নষ্ট করেছে। ছেলেদের ফুটবলে তৃতীয়বারের মতো স্বর্ণপদক জয়ের সুযোগ ছিল। যাচ্ছেতাই ভাবে ফুটবল খেলে সে সুযোগ হারানো ফুটবলারদের ব্রোঞ্জপদক নিয়ে সন্তু ষ্ট থাকতে হচ্ছে।আরচারি মান বাঁচিয়েছে বাংলাদেশের। আগের চার আসরে সোনা জিততে না পারা তীরন্দাজরা পুরো সাফল্য এনে দিয়েছে। সোনা জয়ের হিসেবে কারাতের অবস্থান দ্বিতীয়। ক্রিকেটে ২০১০ সালে জেতা সোনা ধরে রেখেছে ছেলেদের ক্রিকেট দল। আর প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত মেয়েদের ক্রিকেটেও সেরা হয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। গত আসরে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণপদকজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এবারও সেরা হয়েছে ওজন শ্রেণি পাল্টে। এছাড়া জিয়ারুল ইসলাম ভারোত্তোলন থেকে এনে দেন বাংলাদেশকে আরেকটি সেরা সাফল্য। প্রত্যাশার বাইরে থেকেও বাংলাদেশকে দুটি সোনার পদক এনে দিয়েছেন তায়কোয়ান্দোকা দীপু চাকমা এবং ফেন্সিংয়ের ফাতেমা মুজীব।
‘মাদার অব গেমস’ খ্যাত অ্যাথলেটিক্সের ২৩টি ইভেন্টে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি একটি করে রুপা ও ব্রোঞ্জ। হাই জাম্পে মাহফুজুর রহমান রুপা এবং লং জাম্পে আল আমীন ব্রোঞ্জ জিতেছেন। ট্র্যাক ইভেন্টগুলোতে পুরোপুরি হতাশ করেছেন বাংলাদেশের দৌড়বিদরা। গতবার রিলেতে জেতা দু’টি ব্রোঞ্জও এবার হারিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডিতে ছেলে ও মেয়েদের ইভেন্টে চতুর্থ হয়ে পেয়েছে ব্রোঞ্জপদক। এই প্রথমবারের মতো নেপালের কাছেও নতিস্বীকার করেছে এক সময় বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিশালী দেশ বিবেচিত হওয়া বাংলাদেশ।
