বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো। ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন সৈয়দ আশরাফ।
আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশে না থেকেও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার নিয়ে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। তবে শপথ নেওয়ার জন্য সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে তার একটি চিঠি জমা দেয়া হয়।
মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সৈয়দ আশরাফ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মুজিব বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৭ সালে যখন বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা চলছিল, যা কিনা ওয়ান ইলেভেন নামে পরিচিত, তখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন কারাগারে বন্দি। দলের এ সংকটকালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী শীলা ইসলাম লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন। ২৩ অক্টোবর ২০১৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে রীমা ইসলাম।
