করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ছড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি ভিক্টোরিয়া রাজ্যে স্টেট অফ ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চিফ হেলথ অফিসারকে এ রকম ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে যা ইতোপূর্বে কখনও ব্যবহৃত হয় নি।
ভিক্টোরিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি মিডিয়া রিলিজে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশ থেকে আগত সকল ভ্রমণকারীকে ১৪ দিনের জন্য আইসোলেশনে পাঠানোর জন্য এবং পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির জন-সমাগম বাতিল করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে চিফ হেলথ অফিসারকে।
১৬ মার্চ, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে এই জরুরি অবস্থা কার্যকর করা হয়েছে এবং এটি প্রাথমিকভাবে ৪ সপ্তাহ, আগামী ১৩ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। তবে, এরপরও এটি বজায় রাখা হতে পারে বলেছেন প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ।

জরুরি অবস্থায় অথরাইজড অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চিফ হেলথ অফিসারের নির্দেশনা অনুসারে জন-স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দরকার হলে লোকজনকে আটক করতে পারবেন, চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, কোনো স্থানে লোকজনের প্রবেশে বাধা দিতে পারবেন এবং জনস্বার্থে এ ধরনের বিভিন্ন যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
জরুরি অবস্থা জারির পর চিফ হেলথ অফিসার প্রথম নির্দেশনায় অপ্রয়োজনীয় জন-সমাগম নিষিদ্ধ করেন। এতে পাঁচ শতাধিক লোকের জন-সমাগম, যেমন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, কনফারেন্স ইত্যাদি বাতিল করা হয়। তবে, প্রয়োজনীয় লোক-সমাগমের অনুমতি রয়েছে। যেমন, গণ-পরিবহন, খাদ্য-পণ্যের বাজার এবং কর্মক্ষেত্র এই নির্দেশের বাইরে থাকবে।
টেফ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন খোলা থাকবে। তবে, তাদেরকে বলা হয়েছে জন-সমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে। যেমন, পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে অ্যাসেমব্লি বা লেকচারের আয়োজন করা যাবে না।
এই পর্যায়ে যে-সব স্থানে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির চলাচল ও আনাগোনা দেখা যায়, যেমন, ফেডারেশন স্কোয়ার কিংবা বোর্ক স্ট্রিট মল-এ, এগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।
তবে, ভবিষ্যতে দরকার হলে জনস্বার্থে কোনো সাবার্ব পুরোপুরিভাবে কোয়ারেন্টিন করা হবে। এভাবে, দরকার হলে কোনো ব্যবসা কিংবা পেশার উপরও এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হবে।
বেশিরভাগ ভিক্টোরিয়ানই এসব নির্দেশনা স্বেচ্ছায় অনুসরণ করছেন। তবে, কেউ যদি এগুলো পালনে ব্যর্থ হন সেক্ষেত্রে অবস্থা ভেদে কোনো ব্যক্তিকে ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ১০০,০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ একটি স্টেটমেন্টে বলেন,
“কোনো ভুল করবেন না। আগামি কয়েক সপ্তাহ এবং মাস সবার জন্য অনেক কঠিন হবে। তবে, ভিক্টোরিয়ানদের সুরক্ষার জন্য যা করা প্রয়োজন আমরা তা-ই করছি।”
মিনিস্টার ফর হেলথ জেনি মিকাকোস বলেন,
“চিফ হেলথ অফিসারের ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জন-স্বাস্থ্য আরও ভালভাবে সুরক্ষিত করা যাবে এবং আমাদের হাসপাতাল, জিপি এবং অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিগুলো আরও ভালভাবে (এর বিরুদ্ধে) সংগ্রাম করতে পারবে।”
জন-সমাগম করার অনুমতির জন্য যোগাযোগ করুন DHHS অ্যাডভাইস লাইনে, ফোন করুন 1800 675 398 নম্বরে।
করোনাভাইরাসের লক্ষণ, ফেডারাল সরকারের ওয়েবসাইট অনুসারে, হাল্কা অসুস্থ্যতা থেকে নিওমোনিয়ার মতো হতে পারে। এ ছাড়া জ্বর, কাশি, গলায় প্রদাহ, অবসাদ এবং শ্বাস-কষ্টও দেখা দিতে পারে।
মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, যে-সব ব্যক্তি সম্প্রতি বিদেশ ভ্রমণ করে এসেছেন কিংবা সুনিশ্চিতভাবে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এসেছেন এবং গত ১৪ দিনে তার শরীরে এর লক্ষণ দেখা দিয়েছে, তাদেরকে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আপনি যদি মনে করেন যে, আপনি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাহলে আপনার ডাক্তারকে কল করুন। ডাক্তারের কাছে যাবেন না। আপনি ন্যাশনাল করোনাভাইরাস হেলথ ইনফরমেশন হটলাইনেও কল করতে পারেন এই নম্বরে: 1800 020 080
আপনার যদি শ্বাস-কষ্ট কিংবা মেডিকেল ইমার্জেন্সি দেখা দেয়, তাহলে 000 নম্বরে কল করুন।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
