যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নিহত ও বন্দি সাংবাদিকদের বেশ কয়েকজনের নাম স্থান পেয়েছে। এই সাংবাদিকদেরকে ‘গার্ডিয়ান’ বলে অভিহিত করেছে টাইম ম্যাগাজিন।
১৯২৭ সাল থেকে টাইম ম্যাগাজিন পারসন অফ দ্য ইয়ার ঘোষণা করে আসছে। এতে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট, রাজনীতিবিদ, অভিনেতা এবং পরিবেশবিদরা।

২০১৮ সালের তালিকায় রয়েছেন নিহত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেটে তাকে হত্যা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় কলাম লিখতেন তিনি। খাসোগি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচনা করতেন। ইস্তাম্বুলের সৌদি কনসুলেটে গিয়েছিলেন তিনি বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে। টাইম ম্যাগাজিন তাকে সৃজনশীল ভাষ্যকার বলে মন্তব্য করেছে।
অন্যান্য সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের আনাপলিসে ক্যাপিটাল গ্যাজেট কমিউনিকেশন্সের ‘ক্যাপিটাল’ পত্রিকার কার্যালয়ে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত সাংবাদিকরা। গত ১৮ জুলাই এই হামলায় সেখানে কর্মরত চারজন সাংবাদিক এবং একজন সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট নিহত হয়।

এছাড়া, বন্দি সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ও। এরা দু’জন মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা মুসলিম হত্যার প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে কারাদণ্ড পেয়েছেন। গত সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে স্টেট সিকিউরিটি অ্যাক্ট ভঙ্গের দায়ে তাদেরকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উত্তর রাখাইন অঞ্চলের ইন ডিন গ্রামে ১০ জন রোহিঙ্গার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারা অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন।

আর, ফিলিপিন্সের একটি নিউজ ওয়েবসাইটের প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া রেসার নামও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১২ সালে সিএনএন-এর এই সাবেক সাংবাদিক র্যাপলার নামের ওয়েবসাইটটি প্রতিষ্ঠা করেন। সাইটটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য সুখ্যাতি লাভ করে। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রডরিগো ডাটের্টোর খোলাখুলি সমালোচনা করে সরকারি রোষাণলে পড়ে মারিয়া রেসা। সাইটটির বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছর জেল হতে পারে।

টাইম ম্যাগাজিনের তালিকায় আরও রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এছাড়া, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন এর নামও রয়েছে। এ বছরে তিনি সস্ত্রীক উত্তর কোরিয়া যান। পারমানবিক আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই ছিল তার তিন দিনের সফরের উদ্দেশ্য।
সাংবাদিক নির্যাতনের উদাহরণ হিসেবে টাইম ম্যাগাজিনে বাংলাদেশী ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ পরিবেষ্টিত অবস্থায় তার কোর্টে যাওয়ার একটি ছবি এতে প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শহিদুল আলম শতাধিক দিন জেলে ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় ঢাকায় গণ-বিক্ষোভ নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি মিথ্যা ও উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
