বাংলাদেশে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব

গত বুধবার দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। বৃহস্পতিবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু। ঢাকের বোল, কাঁসর ঘণ্টা আর শাঁখের ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠছে পূজামণ্ডপ। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পূজামণ্ডপের আয়োজন এবার অনেকটাই সীমাবদ্ধ থাকছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সন্ধ্যা আরতির পর মণ্ডপে দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।

A portait  of the Goddes Durga at Ramna Kali Mandir in Dhaka, Monday, 18 October 2004. Durga Puja, the largest Hindu religious festival, begins Tuesday 19 October 2004, across the country.  EPA/Mufty Munir

Source: EPA

মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা—এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর বোধন এই পূজার প্রধান একটি আচার। ‘বোধন’ শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্তি। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলগাছের শাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। সাধারণত শুক্লা ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বোধন হলেও এবার তিথি অনুযায়ী পঞ্চমীতেই বোধন পড়েছে। তাই গত বুধবার সন্ধ্যায় সব মণ্ডপে দেবীর বোধন হয়েছে। দেবী দুর্গা এবার দোলায় চড়ে আগমন ও গজে চড়ে গমন (প্রস্থান) করবেন। আগামী ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। সারা দেশে ৩০ হাজার ২২৫টি মণ্ডপে পুজো হচ্ছে। ঢাকা মহানগরে এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা ২৩৩, ঢাকা জেলায় ৭৪০। এ ছাড়া বিভাগওয়ারি ঢাকায় সাত হাজার ১৪টি, চট্টগ্রামে তিন হাজার ৯০৬, খুলনায় চার হাজার ৬৮৯, সিলেটে দুই হাজার ৬৪৬, ময়মনসিংহে এক হাজার ৫৮৪, বরিশালে এক হাজার ৭০১, রংপুরে পাঁচ হাজার ২৫০ ও রাজশাহীতে তিন হাজার ৪৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বর্গলোক কৈলাস ছেড়ে মর্তে আসেন দেবী দুর্গা। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নির্দিষ্ট তিথি পর্যন্ত বাবার বাড়িতে কাটিয়ে আবার ফিরে যান দেবালয়ে। দেবীর অবস্থানকালে পাঁচ দিন পৃথিবীতে ভক্তরা দেবী মায়ের বন্দনা করে। এই বন্দনাকে কেন্দ্র করে দেশবাসী মেতে ওঠে উৎসব আনন্দে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ সাদা পোশাকের পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী কাজ করবে।


2 min read

Published

Updated

By Ali Habib

Presented by Abu Arefin



Share this with family and friends


Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now