১৯৯১ সালে জন ম্যাককেইনের দ্বিতীয় স্ত্রী সিন্ডি ম্যাককেইন একটি মানবিক সহায়তা সফরে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। ওই সময় রাজধানী ঢাকায় একটি অনাথাশ্রম পরিদর্শন করেন তিনি। সেখান থেকে তিনি একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নেন। জন্মগতভাবে শিশুটির তালু-কাটা সমস্যা ছিল। সিন্ডি সেই শিশুটিকে আরিজোনায় নিয়ে আসেন এবং তার নাম রাখেন ব্রিজিত।
Dadmag এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে জন ম্যাককেইন বলেন, দত্তক নেওয়ার বুদ্ধিটি ছিল তার স্ত্রী সিন্ডির।
“সে তখন বাংলাদেশে ছিল। অনাথ শিশুদের সহায়তা করার জন্য সে কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে ঢাকার মাদার তেরেসোর অনাথ-আশ্রমে যায়,” বলেন তিনি।

”সেখানে দু’টি ছোট্ট মেয়ে শিশুর প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। তাদের মধ্যে একজনের জন্মগতভাবে তালু কাটা সমস্যা ছিল আর অপরজনের ছিল গুরুতর পর্যায়ের হৃদরোগ। তাদের অবস্থা এতোটাই গুরুতর ছিল যে, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হলে তাদের কাউকে হয়তো বাঁচানো যাবে না-- এ রকম আশঙ্কা থেকে সে দু’জনকেই সঙ্গে করে এখানে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। সে দু’জনের প্রতিই মমতা অনুভব করে। আমরা ব্রিজিতকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই।”
”আমাদের দু’জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু অপর শিশু মিকি-কে দত্তক নেয়।”

সিন্ডির সঙ্গে জন ম্যাককেইনের আরও তিনটি সন্তান রয়েছে। এরা হলো মেগান, জ্যাক এবং জিমি। তিনি তার প্রথম স্ত্রী ক্যারোলের দু’টি ছেলেকেও দত্তক নেন। এরা হলো ডোগ এবং অ্যান্ডি।
ব্রিজিতের বয়স এখন ২৭ বছর। শৈশবেই তার তালু কাটা ঠিক করা হয়েছে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে তার দত্তক মা যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অপারেশন স্মাইল-এর পৃষ্ঠপোষকে পরিণত হন।
২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক Scholastic News এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্রিজিত ম্যাককেইন বলেন,
”বাকি সবার মতোই আমাদের পরিবার একটি স্বাভাবিক পরিবার।”
”আমার বাবার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, একজন বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালনা করা এবং একই সময়ে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টি।”

ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ দিন লড়াই করার পর এই সাবেক সিনেটর অ্যারিজোনায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
