অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর ২৫ এপ্রিল পালিত হয় অ্যানজাক ডে। এই দিনটিতে স্মরণ করা হয় অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের সেই সব যোদ্ধাদের যারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তাদের জন্য স্মরণ সভা, প্যারেড, বিভিন্ন খেলাধুলা এবং জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-১৯১৮) শুরু এবং সমাপ্তির একশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে গত চার বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় অ্যানজাক ডে পালন করা হয় সাড়ম্বরে।

অ্যানজাক কী?
অস্ট্রেলিয়া এবং নিউ জিল্যান্ডের সেনাবাহিনীকে সংক্ষেপে অ্যানজাক বলা হয়। ১৯১৫ সালের ২৫ এপ্রিল তুরস্কের গ্যালিপোলিতে এই যৌথ সেনাবাহিনী অবতরণ করে এবং প্রথমবারের মতো যৌথভাবে লড়াই করে। আর, এভাবেই অ্যানজাক ডে-এর সূচনা হয়।
এই যৌথ বাহিনীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল জার্মানের কবল থেকে কনস্টান্টিনোপল (বর্তমানে ইস্তাম্বুল) দখল করা এবং তুরস্ককে যুদ্ধের ডামাডোল থেকে মুক্ত করা। কিন্তু, তারা এক্ষেত্রে প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। যুদ্ধে জয়-পরাজয় নির্ধারিত না হয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এই অচলাবস্থা চলে আট মাস পর্যন্ত।
অ্যানজাক ডে-তে গ্যালিপোলিতে অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যদের অবতরণের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি আরও স্মরণ করা হয় নাবিকদের, বিমান সেনাদের এবং যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীদেরকে।

যুদ্ধ ও যুদ্ধ-সম্পর্কিত নানা রকম সেবা দিতে গিয়ে এক লাখ দুই হাজার (একশ’ দুই হাজার) অস্ট্রেলিয়ান মারা যান। আর এদের প্রায় সবাই মারা যান প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে, অস্ট্রেলিয়ার বাইরে বিদেশের মাটিতে, বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে।
অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়ালের ডিরেক্টর ড. ব্রেন্ডান নেলসন এসবিএস নিউজকে বলেন,
“প্রতিটি জাতির নিজেদের গল্প রয়েছে আর অ্যানজাক ডে হলো আমাদের গল্প।”
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তুরস্কের গ্যালিপোলিতে যুদ্ধাভিযানে প্রায় আট হাজার অস্ট্রেলিয়ান সৈন্য নিহত হন। তবে, দেশের বাইরে এটাই অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যদের প্রথম যুদ্ধ নয়। ১৯০১ সালে ফেডারেশন গঠিত হওয়ার আগেও অস্ট্রেলিয়ান সৈন্যরা বিভিন্ন দেশে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছে। তারা ১৮৮৫ সালে সুদানে এবং ১৮৯৯ থেকে ১৯০২ সাল পর্যন্ত বোয়ার যুদ্ধে লড়াই করেছে। ফেডারেশন গঠিত হওয়ার পর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়েই প্রথম বারের মতো তারা নতুন ফেডারাল অস্ট্রেলিয়ার জন্য লড়াই করে।

অ্যানজাক ডে কীভাবে পালিত হয়?
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর অ্যানজাক ডে পালন করা হয় খুব ভোরে সূর্যোদয়ের আগে ‘ডন সার্ভিস’-এর মাধ্যমে। সবচেয়ে বড় আয়োজন করা হয় ক্যানবেরায় অস্ট্রেলিয়ান ওয়ার মেমোরিয়াল-এ। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সর্বত্র হাজার হাজার স্থানে এই ডন সার্ভিস পালন করা হয়।
ভোরের আলো দেখা যাওয়ার আগে, অন্ধকারের মাঝে অস্ট্রেলিয়ানরা সমবেত হয় এবং শোক সঙ্গীত গায় ও প্রার্থনা করে। এ সময়ে তারা পুস্প স্তবক অর্পণ করে এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করে ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে।
সূর্যোদয়ের পর মার্চ ও প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যানজাক ডে সম্পর্কে আরও পড়ুন এই লিঙ্কে।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
