Watch FIFA World Cup 2026™

LIVE, FREE and EXCLUSIVE

Australia Explained: অস্ট্রেলিয়ায় ছবি তোলার নিয়ম কী?

Woman taking photograph.jpg
For many people, photography is a favourite pastime. Credit: Pia Jessen

আপনি যদি নতুন ছবি তোলা শুরু করে থাকেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরি করেন, কিংবা পেশাদার আলোকচিত্রী হন, তাহলে কোথায় ছবি তোলা যায় আর কোথায় যায় না, সে সম্পর্কে জানা জরুরি। আইন মেনে নিখুঁত ছবি তোলার আগে যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত, সেগুলো জেনে নিন।


Published

Updated

By Phil Tucak

Presented by Melissa Compagnoni, Sujan Chakraborty

Source: SBS




Share this with family and friends


আপনি যদি নতুন ছবি তোলা শুরু করে থাকেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য কনটেন্ট তৈরি করেন, কিংবা পেশাদার আলোকচিত্রী হন, তাহলে কোথায় ছবি তোলা যায় আর কোথায় যায় না, সে সম্পর্কে জানা জরুরি। আইন মেনে নিখুঁত ছবি তোলার আগে যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত, সেগুলো জেনে নিন।


মূল বিষয়

  • রাস্তা, পার্ক বা সমুদ্রসৈকতের মতো জায়গায় সাধারণত মানুষের ছবি তোলা যায়। তবে সেই ছবি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হয়।
  • ব্যক্তিগত সম্পত্তি যেমন খামারের ছবি তোলার জন্য আপনাকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে।
  • সামরিক স্থাপনার ছবি তোলা নিষিদ্ধ।
  • আদিবাসী অঞ্চল বা গণস্মৃতিসৌধের ছবি তোলার ক্ষেত্রে যেকোনো নির্দেশিকা চিহ্ন বা স্থানীয় পরামর্শ মেনে চলা সবচেয়ে ভালো।

ছবি তোলা সব বয়সের মানুষের একটি জনপ্রিয় শখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য সুন্দর ছবি দেখা যায়। তবে কাদের ছবি তোলা যায় এবং কোথায় ছবি তোলা যায়, সে বিষয়ে সচেতন থাকাও জরুরি।

রাস্তা, পার্ক বা সমুদ্রসৈকতের মতো জায়গায় সাধারণত মানুষের ছবি তোলা যায়। তবে সেই ছবি বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হয়।

অস্ট্রেলিয়ান ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি পিয়া ইয়েসেন বলছেন,

জনসমক্ষে কারও ছবি তোলা সাধারণভাবে বৈধ। তবে কেউ আপত্তি জানানোর পরও বারবার তার ছবি তোলা, কিংবা টয়লেট বা পোশাক বদলানোর কক্ষের মতো ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জায়গায় ছবি তোলা আইনবিরোধী হতে পারে।
People on Melbourne street.jpg
You can take photos of people in public spaces, but you can't use the images for commercial purposes without their consent. Credit: Pia Jessen

এ ছাড়া, কোনো ছবি যদি কাউকে অপমানজনক বা ক্ষতিকরভাবে উপস্থাপন করে, তাহলে সেই ব্যক্তি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন। বাণিজ্যিক ও সৃজনশীল শিল্পবিষয়ক আইনজীবী শ্যারন গিভোনির পরামর্শ, আপনি যেখানে ছবি তুলতে যাচ্ছেন, সেখানে কোনো নিয়ম আছে কি না, তা আগে জেনে নিন।

আপনি যদি গ্রামীণ এলাকায় ভ্রমণ করার সময় কৃষিজমির ছবি তুলতে চান — যেমন পুরোপুরি ফুলে ভরা একটি ক্যানোলা ক্ষেত — তাহলে মিস গিভনি বলেন,

সবচেয়ে নিরাপদ ও আইনসম্মত উপায় হলো বেড়ার বাইরে থাকা, যদি না আপনার সেখানে প্রবেশের অনুমতি থাকে।

A canola field.jpg
Always seek permission before entering a paddock or field. Credit: Agustin Gunawan / Unsplash

ভিক্টোরিয়ার ব্যালারাট এলাকার কৃষক জাস্টিন হবসন বলেন,

অনেক মানুষ ছবি তুলতে গিয়ে খামারে ঢুকে পড়েন। এতে শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকিই নয়, জীবাণু, আগাছার বীজ বা ক্ষতিকর পোকামাকড়ও খামারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জীবনিরাপত্তা বা বায়োসিকিউরিটি ঝুঁকি তৈরি হয় যখন মানুষ অজান্তেই জুতা বা পোশাকের সঙ্গে মাটি, আগাছার বীজ বা ক্ষতিকর পোকামাকড় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যান। এর ফলে রোগ ছড়াতে পারে বা নতুন আগাছা বিস্তার লাভ করতে পারে।

তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হলো খামারের বেড়ার বাইরে থেকে ছবি তোলা। আর যদি ক্ষেতের ভেতরে যেতে চান, তাহলে আগে অবশ্যই জমির মালিকের অনুমতি নিন। বেশিরভাগ জমির মালিকই ভদ্র ও দায়িত্বশীল দর্শনার্থীদের স্বাগত জানান।

আইনজীবী শ্যারন গিভোনি জানান,

সাংস্কৃতিক কারণে কিছু জায়গায় ছবি তোলার অনুমতি নাও থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আদিবাসীদের পবিত্র স্থান এবং সংরক্ষিত এলাকা।

ধর্মীয় উপাসনালয় এবং স্মৃতিসৌধেও ছবি তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ বিধিনিষেধ থাকতে পারে।

এ ছাড়া, ব্যক্তিমালিকানাধীন খনি বা সরকারি প্রতিরক্ষা স্থাপনার ছবি তুলতে চাইলে আগে অনুমতি নিতে হবে। কারণ এসব স্থাপনার সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয় জড়িত।

শপিং সেন্টার বা বোটানিক গার্ডেনের মতো জায়গা সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকলেও, পেশাদারভাবে ছবি তুলতে চাইলে আগে অনুমতি নিতে হয়।

অর্থাৎ, কোনো জায়গা সবার জন্য খোলা বা ছবি তোলার জন্য আকর্ষণীয় দেখালেই সেখানে ছবি তোলা যাবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

বর্তমানে ছবি তোলার কাজে ড্রোনের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে।

আপনি যদি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন দিয়ে ছবি তুলতে চান, তাহলে ড্রোনটি নিবন্ধন করতে হবে এবং সিভিল এভিয়েশন সেফটি অথরিটি (CASA) থেকে লাইসেন্স নিতে হবে।

তবে শখের বশে ড্রোন ওড়ানোর জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই। কিন্তু নিরাপদে ড্রোন পরিচালনার সব নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে

-বলছেন পিয়া ইয়েসেন।

ড্রোন ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, ড্রোন মাটি থেকে সর্বোচ্চ ১২০ মিটার উচ্চতায় ওড়ানো যাবে। অন্য মানুষের কাছ থেকে অন্তত ৩০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া এমনভাবে ড্রোন ওড়ানো যাবে না, যাতে মানুষ, সম্পত্তি বা অন্য কোনো উড়োজাহাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়।

দাবানলের কাছাকাছি এলাকায় বা তিমির মতো কিছু বিশেষ বন্যপ্রাণীর আশপাশে ড্রোন ওড়ানোর ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

পিয়া ইয়েসেনের পরামর্শ,

ছবি তোলার সময় সব সময় স্থানীয় নিয়ম মেনে চলতে হবে। কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলে তা অনুসরণ করুন। মানুষ, প্রকৃতি এবং অন্যের সম্পত্তির প্রতি সম্মান দেখান।
Photographer in field.jpg
Keep in mind respect for people and nature when taking photos. Credit: Maureen Gilbert

শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, কোনো কিছু আপনার চোখে দেখা যাচ্ছে বা সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছে বলেই সেটির ছবি তোলার অনুমতি আছে, এমন নয়।

শ্যারন গিভোনি বলেন,

সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো, আগে অনুমতি নিন, তারপর ছবি তুলুন।

অস্ট্রেলিয়ায় আপনার নতুন জীবন গুছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আরও মূল্যবান তথ্য এবং পরামর্শ পেতে 'অস্ট্রেলিয়া এক্সপ্লেইন্ড' (Australia Explained) পডকাস্টটি সাবস্ক্রাইব বা ফলো করুন।

আপনার কি কোনো প্রশ্ন বা কোন আইডিয়া আছে? ইমেইল করুন-australiaexplained@sbs.com.au


Latest podcast episodes

Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Stream now