আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বিশ্বে আমরা এখন একে অপরের সাথে বেশি যুক্ত আছি। ইন্টারনেটের আশীর্বাদে মানুষ এখন সহজেই বিনোদন, তথ্য, শিক্ষা, ক্রয়-বিক্রয়সহ সব কিছুই নিজের হাতের মুঠোয় পাচ্ছে।

শিশুকিশোরদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে করণীয়
এখন শিশুকিশোরদের অনেকেই বাড়ি থেকে পড়াশোনা করছে, তাই ইন্টারনেট ব্যবহারে পিতামাতাদের কিছু ঝুঁকি বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি, বিশেষ করে সাইবারবুলিং, সাজপোশাক এবং চরমপন্থী গ্রূপগুলো দ্বারা প্রভাবিত হওয়া বিষয়ে।
অস্ট্রেলিয়ান মাল্টিকালচারাল ফাউন্ডেশন বাড়িতে নিরাপদ এবং সুষ্ঠভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য একটি এপ প্রবর্তন করেছে। CyberParent (সাইবার প্যারেন্ট) নামের ওই এপটি আরবি, সোমালি, চাইনিজ, হিন্দি, টার্কিশ এবং ভিয়েতনামিজসহ ১৭টি ভাষায় পাওয়া যাবে।
এএমএফ এক্সেকিউটিভ ডিরেক্টর হাস ডেল্লাল বলেন, এই এপটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বাবা-মায়েরা জানতে পারে তাদের সন্তানরা অনলাইন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কি করছে।
CyberParent (সাইবার প্যারেন্ট) তাদেরকে সন্তানদের নিরাপদ রাখার বিষয়ে ধারণা দেবে, এজন্য তাদের ইন্টারনেট সম্পর্কে ভালো ধারণার প্রয়োজন নেই।
৫০টি কমিউনিটি সংগঠন এবং ব্যক্তিদের সাথে আলোচনার পর এই এপটি তৈরী করা হয়েছে, এতে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার বিষয়ে কার্যকর টিপস রয়েছে।
অনলাইন স্ক্যাম বা প্রতারণা
শিশুকিশোরদের ঝুঁকি ছাড়াও পূর্ণবয়স্ক লোকদেরও ইন্টারনেট ব্যবহারে ঝুঁকি আছে।
অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন এন্ড কনজ্যুমার কমিশনের মতে ২০২০সালের প্রথম তিন মাসে অস্ট্রেলিয়ানরা ৩৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হারিয়েছে অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে, এর মধ্যে আছে ভুয়া বিলিং, অনলাইন শপিং এবং পরিচয় চুরি করে প্রতারণা।
থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের সাইবার সিকিউরিটি হাব ডিরেক্টর স্টাস ফিলসস্টিনস্কি মনে করেন সাইবার প্রতারণা ধরতে আপনার সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করুন।
যেকোন অনলাইন ডিল বা অফার সম্পর্কে ভালো করে পরীক্ষা প্রয়োজন।
অনলাইন পেমেন্ট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা আবশ্যক
প্রতিদিন ক্রেডিট কার্ডে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের লেনদেন হয়। অস্ট্রেলিয়ান পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সর্বশেষ রিপোর্টে দেখা যায় যে কার্ড প্রতারণা কমে গেলেও চুরি করা কার্ড তথ্য দিয়ে কেনা কাটা হচ্ছে এবং এসব প্রতারণার ৮৬ ভাগই হচ্ছে এভাবে।
এপিএন চিফ এক্সেকিউটিভ এন্ডি হোয়াইট বলেন, কার্ড প্রতারণা মোকাবেলা করতে এমন একটি ফ্রেমওয়ার্ক করা হয়েছে যাতে অনলাইন ক্রেতাসহ সকল ইন্ডাস্ট্রি স্টেকহোল্ডার জড়িত।
আপনি শুধু নিরাপদ এবং বিশ্বাসযোগ্য ওয়েবসাইটগুলোকে আপনার কার্ড তথ্য দেবেন। এজন্য লকড প্যাডলক আইকনটি দেখে নিন যা নিরাপদ সংকেত দেবে, সেইসাথে কোন বিক্রেতা অফার দিলে তা বিশ্বাসযোগ্য কিনা যাচাই করে নেবেন।
এন্ডি হোয়াইট বলেন, প্রতারণার কৌশল এখন আগের চেয়ে বেশি সুক্ষ, তাই অনাহূত ইমেইল এবং টেক্সট মেসেজ সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত। তিনি বলেন এ ধরণের কোন লিংকে ক্লিক করবেন না এবং কোন পাস্ওয়ার্ডের মত ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।

আপনার কম্পিউটার নিরাপদ রাখুন
আপনি আপনার সার্ভার বিশেষজ্ঞ পরামর্শক এবং বিশ্বাসযোগ্য সাপ্লাইয়ারের মাধ্যমে নিরাপদ রাখবেন, আপনি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন এবং সার্ভারের জন্য ফায়ার ওয়াল ব্যবহার করবেন।
নিয়মিত সার্ভার ডাটা ব্যাক আপ রাখবেন এবং সেগুলোকে নিরাপদ রাখবেন। শুধুমাত্র অথরাইজড লোকদের তা জানতে দেবেন।
আপনার ইন্টারনেট সংযোগ নিরাপদ রাখুন
আপনি যদি আপনার ইন্টারনেট সংযোগ পাসওয়ার্ড দ্বারা নিরাপদ না রাখেন তবে অন্য কেউ তা ব্যবহার করে আপনার তথ্য চুরি করে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডিফল্ট এডমিনিস্ট্রেটর পাসওয়ার্ডটি বদলে নিন এবং রিমোট ম্যানেজমেন্ট ডিজেবল করে দিন।
কখনোই নিজের পাসওয়ার্ডটি অন্যকে জানতে দেবেন না
প্রয়োজনে স্ট্রং পাসওয়ার্ড তৈরী করুন, সেটি যাতে নাম্বার, অক্ষর এবং পাঙ্কচুয়েশন দিয়ে অন্তত আট ক্যারেক্টারের হয়।

মনে রাখবেন একই পাসওয়ার্ড সব একাউন্টে ব্যবহার করবেন না, পাসওয়ার্ডগুলো নিরাপদ জায়গায় রাখুন।
সন্দেহজনক এবং অপরিচিত সাইট থেকে ফাইল ডাউনলোড করবেন না, যেকোন পপ-আপ উইন্ডো বা ইমেইল ডিলিট করে দিন।
আপনার মোবাইল ডিভাইসগুলো সুরক্ষিত রাখুন, এবং সবসময় নিজের কাছে রাখুন। আপনার মোবাইল ডিভাইসগুলো যদি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায় তবে তাতে থাকা আর্থিক কিংবা পরিচয় তথ্যও চুরি হতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখুন, ব্যক্তিগত তথ্যগুলোকে অর্থের (money) মতো বিবেচনা করুন।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যানবেরার সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট নাইজেল ফেয়ার বলেন, আপনার পরিচয় চুরি করে যে কেউ আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে ঢুকতে পারে, ক্রেডিট কার্ড, ঋণ নিতে পারে, অথবা ওয়েলফেয়ার বেনিফিট দাবি করতে পারে, এছাড়া তারা আপনার ক্রেডিট রেটিংও নষ্ট করতে পারে।
অনেক সময়েই মানুষ বুঝতে পারেনা তাদের একাউন্টে প্রতারণামূলক কিছু ঘটেছে, যতক্ষণ না তারা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে খারাপ ক্রেডিট রেটিং পায়।
কিভাবে সাহায্য পাবেন?
অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন এবং কনসিউমার কমিশন (ACCC ) এক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম জায়গা। আপনি যদি মনে করেন কেউ আপনার গোপনীয়তা লংঘন করেছে তবে আপনি অফিস অফ দা অস্ট্রেলিয়ান ইনফরমেশনে 1300 363 992 এই নাম্বারে সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
এছাড়া অস্ট্রেলিয়া সরকারের Stay Smart Online ওয়েবসাইটটিও ভিজিট করতে ভুলবেন না।
আরো পড়ুন:
