ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের আয়োজনে বহু ভাষা ও সংস্কৃতির ব্যক্তিরা ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (এসিটি) সরকারের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত-কূটনৈতিকসহ প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ক্যানবেরার তেলোপিয়া পার্কে মানুকা সার্কিট ও নিউ সাউথ ওয়েলস স্ট্রীটের ক্রসরোডে স্থাপিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রভাত ফেরী সকাল ৬.৩০ মিনিটে শুরু হয়ে মানুকা ওভাল ঘুরে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (এসিটি) সরকারের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত-কূটনৈতিক,অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের প্রতিনিধি, অষ্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী ও অভিবাসীগণ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণ ও তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ।
অংশগ্রহণকারীরা অস্থায়ী শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় ভাষা শহিদদের স্মরণে ০১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী, এসিটি সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাসেল স্টিফেন স্মিথ, পরিবেশ মন্ত্রী রেবেকা ভাসারত, বহুসংস্কৃতি বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী পিটার কেইন, অস্ট্রেলিয়ায় ভারতের রাষ্ট্রদূত মনপ্রিত ভোরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।

এম আল্লামা সিদ্দিকী এ সময় ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদশের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাধারণ নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ৭ হাজার ভাষার প্রতিটি জীবন্ত যাদুঘর এবং অনন্য জ্ঞানের আধার। প্রতিবছর এ ৭ হাজার ভাষার মধ্যে কমপক্ষে ১টি ভাষা বিলুপ্ত হচ্ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের হাইকমিশনার বিশ্বের প্রতিটি ভাষা সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় বক্তাগণ মহান শহিদ দিবস ও আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। ভারতের রাষ্ট্রদূতসহ বক্তারা ভাষার সম্মান রক্ষায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বহু সংস্কৃতিবাদ ও ভাষার অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।
একুশের ব্যাপারে সম্যক অবহিত করা এবং নৃ-তাত্ত্বিক ভাষাসহ সকল মাতৃভাষার সম্মানার্থে এই অস্থায়ী শহিদ মিনার তিনদিনব্যাপী খোলা রাখা হয়েছে।
সকাল ৮.০০ টায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকী জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন।
এসময় দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া নিজ নিজ ধর্মমত ও প্রথা মোতাবেক ভাষা শহিদদের উদ্দেশ্যে মৌন প্রার্থনা এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসটির প্রথম প্রহরের অনুষ্ঠান শেষ হয়।
সন্ধ্যায় দেড় শতাধিক অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী ও অভিবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ওপর এক আলোচনা সভা আয়োজন করা হয় যাতে হাইকমিশনারসহ অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা শেষে ভাষা শহিদদের স্মরণে ও বাংলাদেশকে উপজীব্য করে স্থানীয় বাংলাদেশি শিল্পীদের পরিবেশনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সিডনী কনস্যুলেটে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৩ পালিত
বিনম্র শ্রদ্ধা এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিডনীতে পালিত হলো অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৩। দিবসটি পালনে সিডনিস্থ কনস্যুলেট জেনারেল এক বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করে।
দিবসের শুরুতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
সন্ধ্যায়, কনস্যুলেটে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পর্বে ছিল পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ, ভাষা শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন, দিবসটি উপলক্ষে প্রেরিত বাণীসমূহ পাঠ ও কনসাল জেনারেলের স্বাগত বক্তব্য।
এছাড়াও, মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
কনসাল জেনারেল শুরুতেই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং "ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে বাঙ্গালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতার বলিষ্ঠ ও ঐন্দ্রজালিক নেতৃত্বের কথা কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করেন।"
তিনি বলেন পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের তাদের সন্তানদেরকে মাতৃভাষার উপর চর্চা অব্যাহত রাখা, গৃহে মাতৃভাষার ব্যবহার ও প্রয়োজনে স্কুলের মাধ্যমে ভাষা ধরে রাখার জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি এই বছরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য - "বহুভাষায় শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা" -এর উপরও আলোকপাত করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপস্থিত অভ্যাগতবৃন্দ। সিডনি-ভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন "কবিতার বিকেল" একুশের গান, আবৃত্তি এবং ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দিয়ে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। আমন্ত্রিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
- প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
এসবিএস বাংলার অনুষ্ঠান শুনুন রেডিওতে, এসবিএস বাংলা রেডিও অ্যাপ-এ এবং আমাদের ওয়েবসাইটে, প্রতি সোম ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত।
রেডিও অনুষ্ঠান পরেও শুনতে পারবেন, ভিজিট করুন: এসবিএস বাংলা।
আমাদেরকে অনুসরণ করুন ফেসবুকে।
