ভিসা আপিলের কেসগুলো পর্যালোচনা করে সরকারি ট্রাইবুনাল। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় সেখানে ৬০ হাজারেরও বেশি আপিল জমে আছে।
দি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাপিলস ট্রাইবুনালে (এএটি) জুলাই ২০১৬ থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত মাইগ্রেশন ও রিফিউজি কেসগুলোর সংখ্যা ২৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এখানে স্থায়ী এবং অস্থায়ী ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যাও বেড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সক্রিয় আপিল কেসের সংখ্যা ১৭,৪৮০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৭,৪৮০ তে দাঁড়িয়েছে।
এতোগুলো কেস জমে থাকার পক্ষে সাফাই গেয়ে মরিসন সরকার বলছে, সিস্টেমের বিশুদ্ধতা এবং মান নিশ্চিত করার জন্য এসব কাজ করা হচ্ছে।

কিন্তু, ম্যাকোয়েরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ড. ড্যানিয়েল ঘেজেলবাশ মনে করেন, আপিলকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি এর বিপরীত চিত্রই প্রকাশ করে।
এসবিএস নিউজকে তিনি বলেন,
“যখন আপনার কাছে একটি যথাযথভাবে কার্যকর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া থাকে না তখন এটি ভিসা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির বিশুদ্ধতার উপর আঘাত হানে।”
অভিবাসন এবং শরণার্থী ভিসা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার জন্য মরিসন সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক্ষেত্রে তারা বায়োমেট্রিক্স এবং ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলোর সহায়তা নিচ্ছে।
এ বছর জুলাই থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৪০,১৯০ টি মাইগ্রান্ট ভিসা অ্যাপিল এবং ২২,২৮৬টি রিফিউজি কেস তাদের হাতে রয়েছে।
এই সময়কালে এএটি-র কেসলোড রিপোর্ট-এ দেখা যায় এই মাইগ্রান্ট এবং রিফিউজিদের আবেদনের ২৭ শতাংশ কেস দাখিল করার পর ১২ মাসের মধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নতুন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পার্মানেন্ট মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রত্যাখ্যাত কেসের সংখ্যা বেড়েছে। পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ বছরে এই সংখ্যা ৪৬ শতাংশ বেড়েছে।
ইমিগ্রেশন মন্ত্রী ডেভিড কোলম্যান বলেন, তার সরকারের কঠোরভাবে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়ার কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
“লেবার সরকারের তুলনায় আমাদের ভেটিং প্রসেস (খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া) অনেক বেশি শক্তিশালী। সেজন্য অনেক বেশি সংখ্যক ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। আমরা এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি না”, বলেন তিনি।
“কোয়ালিশন সরকার সবসময়েই এমন একটি ইমিগ্রেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করবে যা বিশুদ্ধতা এবং মানের উপর জোর দিবে।”
খতিয়ে দেখার এই প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করার ফলে স্থায়ী এবং অস্থায়ী প্রোগ্রামের ভিসা-আবেদন প্রত্যাখ্যান করার হারও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ-বছরে ৩.৩ শতাংশ ভিসা-আবেদন প্রত্যাখ্যান বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ-বছরে এই হার ছিল ২.৫ শতাংশ।
এদিকে, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাপিলস ট্রাইবুনালে জমাকৃত নতুন আবেদনের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে দেখা যাচ্ছে, জুলাই মাসে যেখানে ১,৮৬৭ টি নতুন আবেদন করা হয়েছিল সেখানে গত মাসে এই সংখ্যা ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩,২৮৬ তে দাঁড়িয়েছে। আর, এই সময়কালে এএটি-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়েছে, ১,১৫৩ থেকে তা ২০২১ এ পৌঁছেছে।
অভিবাসীদের ক্যারেক্টার গ্রাউন্ডে ক্রিমিনাল হিস্টোরি খতিয়ে দেখার উপর জোর দিয়েছে মরিসন সরকার। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সাল থেকে তারা ৪,৭০০ বিদেশী অপরাধীর ভিসা বাতিল করেছে এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করেছে।

বিদেশী অপরাধীদেরকে আরও সহজে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কার করার জন্য আরও আইন প্রণয়ন করার জন্য কোয়ালিশন সরকার সিনেটে উদ্যোগ নিয়েছে।
ভিসা আবেদনকারীদের ক্যারেক্টার টেস্ট আরও কঠিন করতে একটি বিল পাশ করে আইনে পরিণত করার সুপারিশ করেছে একটি সংসদীয় কমিটি।
শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি অনশোর প্রটেকশন ভিসা কেস প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
এ সম্পর্কে ইংরেজিতে আরও পড়ুন এই লিঙ্কে।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
