জবসিকার এবং এ রকম অন্যান্য পেমেন্টগুলো হ্রাস করা হলে আগামী দু’বছরে অর্থনৈতিকভাবে ৩১.৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে এবং ১৪৫,০০০ পূর্ণ-কালীন কাজ হারাতে পারে মানুষ। একটি রিপোর্টে এ রকম তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার ডেলোয়েট অ্যাকসেস ইকনোমিক্স রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল অফ সোশাল সার্ভিসেস তাদেরকে এ জন্য নিযুক্ত করেছিল।
কর্মহীনদের জন্য আগে যে নিউস্টার্ট পেমেন্ট প্রদান করা হতো তার প্রায় দ্বিগুণ অর্থ প্রদান করা হচ্ছে গত মার্চ মাস থেকে, করোনাভাইরাসের এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে। ফেডারাল সরকার এর নাম পরিবর্তন করে জবসিকার নাম দিয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মরিসন সরকার করোনাভাইরাস সাপ্লিমেন্ট হ্রাস করতে যাচ্ছে। পাক্ষিক ৩০০ ডলার করে জবসিকার পেমেন্ট কমানো হবে।
এ বছরের শেষ নাগাদ এই সাপ্লিমেন্ট পুরোপুরিভাবে বন্ধ করা হবে। মানুষ তখন জবসিকারের প্রতি নির্ভর করবে। তখন এটির হার হবে পুরনো নিউস্টার্ট ভাতার সমান, দিন-প্রতি মাত্র ৪০ ডলার করে।
রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে, যেভাবে দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে, এই কাট যদি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে ৩১.৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে এবং ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১৪৫,০০০ পূর্ণকালীন কাজের সমান কর্ম-হ্রাস হবে এবং রিজিওনাল কমিউনিটিগুলোতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হবে।
ACOSS এর সিইও ক্যাসান্ড্রা গোল্ডি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিদ্যমান করোনাভাইরাস সাপ্লিমেন্ট সম্প্রসারিত করার জন্য এবং একটি স্থায়ী জবসিকার হার নির্ধারণ করে আইন করার জন্য, যার মাধ্যমে মানুষ তাদের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে পারবে।
তিনি বলেন,
“এই বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো আমাদের আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। তবে, একটি বিষয় যার উপরে সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা হলো সবার কাছে যেন জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটানোর জন্য যথেষ্ট উপায়-উপকরণ থাকে তা সুনিশ্চিত করা। এর মধ্যে বসবাসের জন্য নিরাপদ স্থানও অন্তর্ভুক্ত।”

ডেলোয়েট অ্যাকসেস ইকনোমিক্স পার্টনার নিকি হাটলি বলেন, জবসিকারে সরকারের বিনিয়োগকৃত প্রতিটি ডলার তাৎপর্যপূর্ণভাবে অর্থনৈতিক প্রতিদান দেয়।
তিনি বলেন,
“পেইড-ওয়ার্ক বিহীন লোকদেরকে তাদের চলার জন্য পর্যাপ্ত যোগান দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত কার্যকর অর্থনৈতিক প্রণোদনা। কারন, তাদের খুব বেশি বিকল্প থাকে না, তারা নিত্য-প্রয়োজনীয় ব্যয়গুলো মেটাতে খরচ করেন।”
“উচ্চ আয়কারী ব্যক্তিরা সঞ্চয় করতে পারেন। এই বৈশ্বিক মহামারীর কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার জন্য অনেকেই এখন তা করছেন।”
“এ কারণেই অন্যান্য উদ্যোগগুলো, যেমন, আয়কর হ্রাস, অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে এতোটা কার্যকরী হবে না।”
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
