বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর শেষ হলেও রয়ে গেছে এ নিয়ে বিতর্কের রেশ।
মহেন্দ্র সিং ধোনির ‘বলিদান’ ব্যাজ বিতর্ক
২০১১ সালে হোম গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপ জেতার পর তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকে সম্মানসূচক কর্নেলের পদ প্রদান করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এর পরে কিছু দিন তিনি প্যারা রেজিমেন্টের সঙ্গে প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচে সেনাবাহিনীর বলিদানের প্রতীক দেওয়া গ্লাভস পড়ে মাঠে নামেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলে বিসিসিআইকে আইসিসি চিঠি দিয়ে অনুরোধ করে ধোনির গ্লাভস থেকে সেই প্রতীকটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য। পরে নিয়ম মেনে ধোনি সেই প্রতীকটি সরিয়ে ফেলেন কিপিং গ্লাভস থেকে।

আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শাহজাদ বিতর্ক
আফগানিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে রানের মালিক মোহাম্মদ শাহজাদকে বাদ দেওয়া হয় বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে। ইনজুরির কারণ দেখিয়ে তাকে বাদ দেয় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তার স্থলে দলে নেওয়া হয় ১৭ বছর বয়সী ইকরাম আলী খিলকে। আইসিসির অনুমতি নিয়ে এ রদবদল করা হয়।
বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেন নি আফগানিস্তানের এই উইকেট-রক্ষক ব্যাটসম্যান। দেশে ফিরে গিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে আসেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে তিনি চক্রান্তের অভিযোগ করেন।
তিনি নিজেকে ফিট দাবি করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে বাম হাঁটুতে চোট পেলেও ইনজুরিমুক্ত হয়ে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রী লঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপের মূল আসরে আফগানিস্তানের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
কাবুলে ফিরে গিয়ে শাহজাদ ভারতীয় গণমাধ্যম পিটিআই-কে বলেন, ‘আমি খেলার জন্য সম্পূর্ণ ফিট ছিলাম। তারপরও বুঝতে পারছি না কেন আমাকে বিশ্বকাপ দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। শুধুমাত্র আফগান দলের ম্যানেজার, ডাক্তার ও অধিনায়ক জানতেন এ ব্যাপারে। এমনকি কোচকেও (ফিল সিমন্স) এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয় নি। এটি সত্যিই হৃদয়বিদারক।”
পরবর্তীতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে খেলা ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেন শাহজাদ।

ক্রিস গেইলের ব্যাটে ‘ইউনিভার্স বস’ লোগো
‘দ্য বস’ লোগোযুক্ত ব্যাট নিয়ে খেলতে নেমে বিপাকে পড়ে গিয়েছিলেন স্বঘোষিত ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইল। তার এই প্রচেষ্টায় বাদ সাধে আইসিসি। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ব্যক্তিগত বার্তা বহন করে এমন কোনো ক্রীড়া সামগ্রী বিশ্বকাপে ব্যবহার নিষিদ্ধ। এরপর এই লোগো নিয়েই বিশ্বকাপ খেলে যান গেইল। আইসিসি এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় নি।

ক্রিকেট মাঠে রাজনৈতিক ব্যানার নিয়ে বিমান
হেডিংলিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে তখন ম্যাচ চলছিল। মাঠের ওপর দিয়ে সে সময়ে উড়ে যায় একটি বিমান। সেখানে লেখা ছিল “জাস্টিস ফর বেলুচিস্তান” এবং “হেল্প এন্ড ডিজ্যাপিয়ারেন্স ইন বেলুচিস্তান”।
আইসিসি পরে এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ক্রিকেট মাঠে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বার্তাকে প্রশ্রয় দেবে না।
এর পরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিনও রাজনৈতিক বার্তাবাহী একটি বিমানকে উড়ে যেতে দেখা যায়।

ফাইনাল ম্যাচে ওভার-থ্রো বিতর্ক
ইংল্যান্ড ও নিউ জিল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে রান নেওয়ার সময় বাউন্ডারি লাইন থেকে গাপটিলের ছোঁড়া বল বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে চার হয়ে যায়। আম্পায়র এই চারের সঙ্গে দৌঁড়ে নেওয়া দুই রান মিলিয়ে মোট ছয় রান ঘোষণা করেন। এ নিয়ে পরবর্তীতে প্রশ্ন উঠেছে।
সমালোচকরা দাবি করেন, যখন বল থ্রো করা হয়েছিল তখন দুই ব্যাটসম্যান একে অপরকে অতিক্রম করে যান নি। তাই হিসেব মতো এটি পাঁচ রান হওয়ার কথা। কিন্তু, ফিল্ড আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা ইংল্যান্ডকে ৬ রান প্রদান করেন। ৩ বলে ৯ রানের সমীকরণ থেকে তখন ২ বলে ৩ রানের সহজ সমীকরণে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড দল।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
