টানা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো নিউ জিল্যান্ড। আর টানা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিল দু’বার বিশ্বকাপ জয়ী ভারত।
বৃষ্টিতে থমকে যাওয়া ম্যাচে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৯ রান করেছিল নিউ জিল্যান্ড। জবাবে ৪৯ ওভার ৩ বলে শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ১৮ রানে জয়ী হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে কিউইরা। ১০ ওভারে ১টি মেইডেনসহ ৩৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হন ম্যাট হেনরি।
ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মঙ্গলবার বিশ্বকাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে টসে জিতেছিল নিউ জিল্যান্ড। প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে তারা ৪৬ ওভার ১ বলে ২১১ রান করে। হাতে তখন ছিল ৫ উইকেট। এরপরই নামে বৃষ্টি।
নিয়ম অনুসারে বুধবার রিজার্ভ ডে-তে বাকি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে প্রাথমিক পর্ব শেষ করেছিল ভারত। প্রথম সেমি-ফাইনালে তারাই ছিল ফেভারিট। কিন্তু, কিউইদের লড়াকু ক্রিকেটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারলো না বিরাট কোহলির দল।

বিশ্বকাপে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের এই মাঠে আগের সব ম্যাচই জিতেছে প্রথমে ব্যাট করা দল। এরই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলো নিউ জিল্যান্ড।
আশানুরূপ রান করতে পারে নি কেন উইলিয়ামসনের দল। জাসপ্রিত বুমরাহ ও ভুবনেশ্বরের বোলিং আগুনে বেশ চাপের মধ্যেই ছিল নিউ জিল্যান্ড। প্রথম ৩ ওভারে রান ছিল মাত্র ১। চতুর্থ ওভারে বুমরাহের বলে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ তুলে দেন গাপটিল। শুধু তাই নয়, প্রথম ৭ ওভার শেষে নিউ জিল্যান্ডের রান ছিল ১০। ইনিংসের প্রথম বাউন্ডারি আসে অষ্টম ওভারে।
এরপর নিকোলস ও উইলিয়ামসন জুটি গড়ে ধীরে ধীরে রান বাড়াতে থাকেন। তাদের ৮৯ বলে ৬৮ রানের জুটি ভাঙ্গেন রবীন্দ্র জাদেজা। ২৮ রান করে বোল্ড হন নিকোলস।
৯৫ বলে ৬৭ রান করেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।
বৃষ্টিতে খেলা বন্ধের সময়ে টেইলরের রান ছিল ৮৫ বলে ৬৭।

বুধবার রিজার্ভ ডেতে বাকি খেলা শুরু হলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩৯ রান করতে সমর্থ হয় নিউ জিল্যান্ড। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং অর্ডারের জন্য এ রান টপকে যাওয়াটা কঠিন কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু, অসাধারণ বোলিং-ফিল্ডিং নিয়ে সেই রানকে জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ করে দিল কেন উইলিয়ামসনের দল।
ট্রেন্ট বোল্ট ও ম্যাট হেনরি শুরুতেই সাজঘরে পাঠান ভারতের টপ অর্ডারকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে এবারের আসরে রেকর্ড সংখ্যক (৫টি) সেঞ্চুরি করা রোহিত শর্মাকে কট বিহাইন্ড করে শুরুতেই ফিরিয়ে দেন হেনরি। আর, অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে এলবিডব্লিউ করে দেন বোল্ট। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে থেকে সুইং করে ভেতরে ঢোকা বলটি নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন কোহলি। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয় নি।

এরপর, হেনরির দ্বিতীয় ওভারে লোকেশ রাহুল ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। এরা তিন জনই করেছেন ১ রান করে। চার ওভারে তখন ভারতের স্কোর ৫ রানে তিন উইকেট। হেনরি পরে বিদায় করেন দিনেশ কার্তিককে। টানা সাত ওভারের স্পেলে ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ভারত শিবিরে কাঁপন ধরান এই বোলার।
প্রথম ১০ ওভার শেষে ভারতের স্কোর ৪ উইকেটে ২৪।
ভারত যখন ৯২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে সংগ্রাম করছিল তখন ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়ে আনে রবীন্দ্র জাদেজা ও মহেন্দ্র সিং ধোনির অসাধারণ জুটি। সপ্তম উইকেটে তারা বিশ্বকাপের রেকর্ড ১১৬ রানের জুটি গড়েন।

আট নম্বরে নেমে লড়াকু মেজাজে খেলতে থাকেন জাদেজা। আর এক প্রান্ত আগলে রেখে তাকে সহায়তা করেন ধোনি। ৩৯ বলে অর্ধ-শতকে পৌঁছেন জাদেজা। ততক্ষণে প্রয়োজনীয় রান রেট অনেক উপরে উঠে গেছে। তাই বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়ে যান ৫৯ বলে ৭৭ রান করা জাদেজা।
ম্যাচে টান টান উত্তেজনা দেখা যায় শেষ ২ ওভারে। ১২ বলে তখন দরকার ছিল ৩১ রানের। ধোনি তখনও আউট হন নি। লকি ফার্গুসনকে আপার কাটে ছক্কা মারেন তিনি। এর এক বল পরে একটি ডাবলস নিতে গিয়ে মার্টিন গাপটিলের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ব্যক্তিগত অর্ধ-শতক পূর্ণ হলেও দলকে উদ্ধার করতে পারেন নি ধোনি।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
