এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া। যার মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে সেতুবন্ধন তৈরি করে বহুসাংস্কৃতিক ও বহুমাত্রিক অস্ট্রেলিয়ান সমাজ ব্যবস্থায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রয়াস করছে সংগঠনটি।
"প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সেতুবন্ধন" এই স্লোগানকে সামনে রেখে মেলবোর্নের সাংস্কৃতিক সংগঠন পূরবী কালচারাল ফাউন্ডেশন (PCF) নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা তথাপি বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধশালী বাংলা-সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই অনুষ্ঠানটির আয়োজক, পূরবী কালচারাল ফাউন্ডেশন (PCF), একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যার আত্মপ্রকাশ হয়েছিলো ২০১৭ সালে, এটির মূল সংগঠন পূরবী কালচারাল একাডেমীর যাত্রার মধ্য দিয়ে।
মেলবোর্ন-এ বসবাসকারী সংস্কৃতিপ্রেমী বিভিন্ন ভাষাভাষী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।

পূরবী কালচারাল ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের কয়েকজন। Source: Supplied / Arnob
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইতালি, গ্রিস, চীন ও মালয়েশিয়ান ভাষাভাষী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ।
এই অনুষ্ঠানে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং ভাষার সাথে সংস্কৃতির মেলবন্ধন নিয়ে একটি "বৈঠকি" আয়োজন করা হয়। এছাড়াও থাকে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেটিতে অংশগ্রহণ করেন বাংলা ভাষাভাষীদের পাশাপাশি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার শিল্পীরা। বিগত বছরগুলোতে যেসকল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্নভাবে পিসিএফ এর মূল সংগঠন পূরবী কালচারাল একাডেমি-কে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদেরকে সম্মানসূচক প্রশংসাপত্র দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সকলের উদ্দেশে ডা. শরীফ আহমেদ শুভ বলেন, "আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও আচারকে আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আমরা যদি সঞ্চারিত করতে পারি, এবং তা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারি, তবেই প্রবাসে থেকে আমরা যে আচারাদি ও আয়োজনগুলো করি তার সার্থকতা হবে।”

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে পরিবেশিত হয় নৃত্যানুষ্ঠান। Source: Supplied / Arnob
১৯০০ সালের শুরুতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন এবং মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন 'বাঙালিকে শুধু বাঙালি হলেই হবে না, বিশ্বমানব হতে হবে'।
তাঁর এই দর্শনের উপর ভিত্তি করেই ১৯২১ সালে বিশ্ব-মানব তৈরির কারখানা শান্তিনিকেতন বা বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তাঁর প্রতিষ্ঠানেরই হাতে গড়া একজন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বুননের কারিগর। আমার স্বপ্ন কবিগুরুর দর্শনের আদলে একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যেখানে প্রবাসে বসবাসকারী আমাদেরই নতুন প্রজন্মের নবীনরা বাংলা ভাষার পাশাপাশি পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধশালী বাংলা সংস্কৃতি, কৃষ্টি, আচার ও এর সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এই দর্শনের ভিত্তিতেই পূরবী কালচারাল ফাউন্ডেশন এর জন্ম।”
সংগঠনের সম্পাদক মুনির চৌধুরী জানান, PCF-এর অধীনে মোট পাঁচটি অঙ্গসংগঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে বর্তমানে যে দু’টির কার্যক্রম চলমান, সেগুলো হলো – পূরবী কালচারাল একাডেমী ও একটি জুনিয়র ব্যান্ড দল - যার নাম "রংধনু"।

রংধনু ব্যান্ডের পরিবেশনা। Source: Supplied / Arnob
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
Share




