স্থান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের অনুদ্বৈপায়ন নামক ভবনের দোতলার টিভি কক্ষ। যা কিনা ঝুকিপূর্ণ ভবন হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
প্রকৃতি বুঝি আগে থেকেই বিপদ আঁচ করতে পারে। অঝোরে ঝড়ছিল বৃষ্টি। রাত পৌনে ন'টায় যখন সবাই নাটকের নাটকীয় মোড় দেখায় মজে আছে ঠিক সে সময় বিকট শব্দে ধসে পড়ে ছাদের মাঝ অংশ।
সঙ্গে সঙ্গে ধুলায় আরো অন্ধকার হয়ে উঠে পুরো কক্ষ। ঘটনাস্থলে মারা যায় ৩৪ শিক্ষার্থী। পরে মারা যান আরো ৬ জন, মোট ৪০ জন। নিহতদের মধ্যে ২৬ জন ছিলেন ছাত্র, ১৪ জন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও অতিথি। আহত হন আরো শ'খানেক।

দুর্গাপূজার ছুটিতে পরদিন বাড়ি যাবার কথা ছিল নিহতদের অনেকেরই ।
দিনটি ছিল ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর। যা পরিচিত জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি দিবস নামে। নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দিনটিকে শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দেশের গন্ডি পেড়িয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে সিডনিতেও। শোক দিবস উপলক্ষে রোববার স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়া।
এতে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনারের পক্ষে অংশ নেন, কাউন্সেলর ফরিদা ইয়াসমিন।
তিনি বলেন, "নি:সন্দেহে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসের কালো রাত্রি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এখনও মনের মধ্যে কষ্ট অনুভব করি।"
দিবসটি উপলক্ষে বাণী পাঠিয়েছেন, বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জগন্নাথ হল প্রভোস্ট।

এবছরই সিডনিতে নিবন্ধিত হয়েছে জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অস্ট্রেলিয়া শাখা। যার বর্তমান সদস্য সংখ্যা একশ'রও বেশী। অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশেও রয়েছে এ অ্যালামনাইয়ের শাখা সংগঠন।
অস্ট্রেলিয়া শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুরুতে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ ও সহায়তা প্রদান, শিক্ষাবৃত্তি চালু, জগন্নাথ হলের বর্তমান ছাত্রদের সহায়তার উদ্দেশ্য নিয়েই কাজ করবে সংগঠন।

"এবারই প্রথমবারের মত দিবসটি পালন করা হচ্ছে সিডনিতে। এখন থেকে প্রতিবছরই জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডি দিবস পালন করব আমরা," বলেছেন সংগঠনের সদস্য সুরজিৎ রায়।
সভায় আরো অংশ নেন বুয়েট অ্যালামনাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া চ্যাপ্টার এবং জগন্নাথ হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।
