পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেউ লকডাউন বলবেন না, এটা বিধিনিষেধ। উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় ৩০ মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাংলায় কার্যত লকডাউন পরিস্থিতি জারি করা হয়েছিল। সেই মেয়াদ বাড়ানো হল ১৫ জুন পর্যন্ত। বর্তমান নিয়মই জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলায় করোনা কিছুটা কমেছে বলেও জানালেন মমতা। আর সে কারণেই বিধিনিষেধের মেয়াদ ফের বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বন্ধ থাকবে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস। শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দফতর খোলা থাকবে। সমস্ত লোকাল ট্রেন, মেট্রো, বাস, লঞ্চ পরিষেবা বন্ধ থাকবে। সমস্ত স্কুল-কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। মুদির দোকান, বাজার খোলা থাকবে সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। শপিং মল, সিনেমা হল, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, রেস্তরাঁ, স্পা, বিউটি পার্লার বন্ধ থাকবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, প্লিজ দয়া করে লকডাউন বা কার্ফু বলবেন না। লকডাউন আলাদা আইন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অতিমারি পরিস্থিতিতে বিধিনিষেধ জারি করছেন। কোভিড কিছুটা হলেও কমেছে। মানুষ সহযোগিতা করছে। তাই আমরা আর একটু সময় নিচ্ছি। এর জন্য ক্ষমা চেয়ে নেব। তবে অর্থনীতি সচল রাখতে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে সব চালু আছে। অনলাইন পরিষেবাও সচল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান,আগের বিধিনিষেধই বজায় থাকবে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কেউ বাইরে বের হবেন না। বাজার, মিষ্টির দোকান, শাড়ি, গয়নার দোকান নিয়ম মেনেই খুলবে। জুটমিলে কর্মীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। টিকা নেওয়া থাকলে কাজ করতে পারবেন নির্মাণ শ্রমিকরা। উল্লেখ্যে, গত ১৫ মে বিধিনিষেধ জারি করে রাজ্য প্রশাসন। জানানো হয়েছিল, ৩০ মে পর্যন্ত জরুরি পরিষেবা ছাড়া সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি দফতর বন্ধ থাকবে। তার আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল লোকাল ট্রেন। বাস, মেট্রো ও ফেরি পরিষেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে, শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বা যশ-এর ধ্বংলীলা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় যশ-এর ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে বৈঠক ডেকেছেন মোদী। ওড়িশা থেকে ফেরার পথে দিঘা হয়ে কলাইকুণ্ডায় নামবেন তিনি। সেখানেই রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হবে। এর আগে শুক্রবার ঘূর্ণিঝড় যশ-এর ধ্বংলীলা কোথায় কতটা ক্ষতি করেছে, এবার তা খতিয়ে দেখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার যশ-এর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আকাশপথে পরিদর্শন করে দেখবেন তিনি। প্রথমে ভুবনেশ্বরে যাবেন মোদী। সেখানে একটি রিভিউ মিটিং করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি আকাশপথে যাবেন বালাসোর, ভদ্রক এবং পূর্ব মেদিনীপুর। যশ কবলিত এলাকাগুলিতে কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখবেন তিনি। এরপর পশ্চিমবঙ্গে যশ-এর প্রভাবে কত ক্ষয়ক্ষতি তা নিয়ে একটি বৈঠক করবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালি, ধামাখালি, ঘুরে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
