গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো
- শুরুতেই একজন ভবন পরিদর্শককে দিয়ে বিল্ডিং ইন্সপেকশন করালে পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানো যায়।
- কাঙ্ক্ষিত বাড়ির প্রতিবেশ ভবিষ্যতে দেখতে কেমন হবে- তা বুঝতে হলে চলমান এবং পরিকল্পনাধীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দিকে লক্ষ্য রাখুন।
- পরিকল্পনাধীন কোন প্রোপার্টি কেনার সময় "সূর্যাস্ত নীতির" কথা খেয়াল রাখতে হবে। এই ধারা বলে পরিকল্পনার ব্যতিক্রম কিছু হতে পারে।
গত কয়েক মাস ধরে প্রোপার্টি ক্রয়ে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। সর্বনিম্ন সুদের হার-সহ প্রোপার্টি ক্রয়ের এমন সুযোগ-সুবিধা আগে কখনো দেখা যায় নি। এসব আর্থিক উদ্দীপনার কারণে প্রোপার্টির বাজার এখন চড়া।
কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে প্রোপার্টির দাম কমে গিয়েছিল। তবে আবাসন বাজার আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এর জন্য ফেডারেল সরকারের গৃহনির্মাণ সহায়তা স্কিমের অবদান আছে বলে ধারণা করা হয়।
"গত বছরের আর্থিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে সরকার নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ করেছে।"
ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্নের ফাইন্যান্সের এমিরেটাস প্রফেসর কেভিন ডেভিসের মতে ক্রেতাদের মধ্যে সুযোগ হারানোর ভয় কাজ করছে। এর প্রভাবে বাড়ির দাম বাড়ছে।
তিনি বলেন, "কেউ সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না। বাড়ির দাম বাড়ার আগেই বাজারে ঢুকতে হবে, এমন একটা উদ্দীপনা সবার মধ্যে দেখা যাচ্ছে।"

আবাসন বাজারের অস্থির অবস্থার মধ্যে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি কিনতে গিয়ে জরুরি বিষয়গুলো অবহেলা করলে চলবে না।
যেমন, নির্মাণ কাঠামোয় ক্ষয়, মরচে পড়া ফিটিং, বাজে ইন্সুলেশন এমনকি এসবেস্টোস ক্রেতাদের সহসা চোখে নাও পড়তে পারে। তাই বাড়ি কেনার শুরুতেই একজন দক্ষ বিল্ডিং ইন্সপেক্টরের সাহায্য় নিয়ে এসব দিকে সতর্ক দৃষ্টি দেয়া যায়।
এইসব ক্ষেত্রে শুরুতেই সামান্য কিছু খরচ করলে ভবিষ্যতে বড় রকমের খরচ থেকে বাঁচা যায়।
"একটা আধ-মিলিয়ন ডলারের বাড়ি কেনার আগে যে দামটা আপনারা পরিশোধ করেন, তা আসলে সেটার ভগ্নাংশ মাত্র।"
শুধু প্রোপার্টির ভেতরে নয়, বাইরের দিকেও সমান নজর রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশে ভবিষ্যতে কোনো পরিকল্পিত উন্নয়ন কাজ হবে কিনা, বাড়িটা বন্যা বা বুশফায়ারের ঝুঁকিতে আছে কি না, প্রধান সড়ক, ফ্রিওয়ে এবং রেলওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত বা লাগোয়া কি না এমন সব বিষয়ের দিকেও লক্ষ রাখা দরকার।
তবে বাড়ি কেনার সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে চুক্তিপত্র। যদি চুক্তিপত্র বুঝতে সমস্যা হয় তবে কনভেয়েন্সার নিয়োগ করতে পারেন, যারা সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল সম্পাদন করে থাকেন।
জর্ডান ল্যাম ওয়েলথ সোর্স কনভেয়েন্সিং এর প্রতিষ্ঠাতা। এসবিএসকে তিনি জানান যে, যদিও কনভেয়েন্সার নিয়োগে কোন আইনী বাধ্যবাধকতা নেই তবু শুরুতেই কনভেয়েন্সার নিয়োগ দিলে আপনার বাড়িটি কাঙ্ক্ষিতরূপে পেতে পারেন।

তিনি বলেন যে, কখনো কখনো ক্লায়েন্টরা আমাদের সেবা ছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলেন। সেক্ষেত্রে প্রোপার্টি হস্তান্তরকালীন সময়ের অবস্থাতেই গ্রহণ করতে হয় তাদের।
"অনেক ক্রেতা প্রোপার্টি কেনার পর তবেই তা খুঁটিয়ে দেখা শুরু করেন। যদিও আইনী দৃষ্টিতে, একজন বিক্রেতা বিক্রয়কালীন সময়ে যেমন অবস্থায় প্রোপার্টির ডেলিভারি দেন, শুধু ঐ সময়কালীন অবস্থার জন্যই তারা দায়বদ্ধ।”
থাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি কেনা নাকি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে বাড়ি কেনা
উচ্চ মূল্যের আবাসন বাজারে কিছু ক্রেতা বসবাসের জন্য প্রথম বাড়ি কেনার বদলে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য থেকে বাড়ি কেনেন। মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর কেভিন ডেভিস অবশ্য মনে করেন কার্যকর ট্যক্সের প্রশ্নে বিনিয়োগের জন্য বাড়ি কেনার বদলে বসতবাড়ি কেনাই ভালো।
যদিও বসতবাড়ি কেনা বা বিনিয়োগের বাড়ি কেনা- দুই ক্ষেত্রে দুই রকমের ট্যাক্স বেনিফিট কাজ করে। কিন্তু থাকার জন্য ঘর কিনলে সেটা পরে বিক্রির সময় মূলধন প্রাপ্তি-জনিত ট্যাক্স থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
অন্যদিকে তাঁর মতে ভাড়া বাড়িগুলো ভালো দাম পায় না।
"সাধারণত দেখা যায় ভাড়া বাড়ির ক্ষেত্রে ঠিকমত যত্ন নেওয়া হয় না; অন্যদিকে গৃহস্থরা নিজে বসবাস করেন এমন বাড়ির ভালো দেখাশোনা করা হয়।”
বানানো বাড়ি কেনা নাকি নতুন বাড়ি বানানো
নির্মিত বাড়ি কিনবেন নাকি নতুন বাড়ি তৈরি করবেন, তা আবার ক্রেতার বাস্তবতার উপর নির্ভর করে। আনকোরা নতুন বাড়ি কিনলে বা নতুন বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রে আপনি সরকারের ফার্স্ট হোম ওনার আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।
মিস ল্যাম মনে করেন যারা "অফ দা প্লান প্রোপার্টি" বা পরিকল্পনাধীন বাড়ি কিনতে চান তাঁদের অবশ্যই চুক্তিপত্রের দিকে পুঙ্খানুপুঙ্খ লক্ষ রাখা দরকার। বিশেষ করে সূর্যাস্ত আইনের কথা বিবেচনায় রাখা দরকার; কেননা এই ধারা বলে ভবন নির্মাতারা প্রোপার্টি ডেলিভারি দিতে বেশি সময় নেওয়া-সহ ভবন নির্মাণে বড় রকমের পরিবর্তন করতে সমর্থ হন।
তাঁর মতে, "কেননা আপনার নির্মিত ভবনটি দেখার সুযোগ নেই আর নির্মাণের পর হয়তো এসে দেখবেন আপনার বাড়িটি আপনার আকাঙ্ক্ষার সাথে মিলছে না। "অফ দা প্লান কন্ট্রাক্টের” ক্ষেত্রে নির্মাতারা ভবন নির্মাণের সময় কিছু মাত্রায় পরিবর্তন সাধন করতে পারেন। এই পরিবর্তনের ফলে দেখা যায় ডিসপ্লে হোম বা চুক্তিপত্রে বর্ণিত বাড়িটির সাথে নির্মিত বাড়িটি হুবহু মিলে না।
ফার্স্ট হোম ওনার গ্রান্ট বা প্রথম বাড়ী কেনার অনুদান
আপনার প্রোপার্টি কোনো স্টেট বা টেরিটোরিতে অবস্থিত তার উপর নির্ভর করছে আপনি কী পরিমাণে প্রথম বাড়ি কেনার এই এককালীন অনুদানটি পাবেন।
নিউ সাউথ ওয়েলসে সাড়ে সাত লক্ষ ডলারের প্রোপার্টির জন্য দশ হাজার ডলার পর্যন্ত অনুদান দাবি করা যায়। কিন্তু যদি আপনার প্রোপার্টি ভিক্টোরিয়ার রিজিওনাল এলাকায় হয়ে থাকে, তবে, ১ জুলাই ২০১৭ থেকে ৩০ জুন ২০২১ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি বলে প্রথম বাড়িট কিনতে আপনি বিশ হাজার ডলার পর্যন্ত অনুদান পেতে পারেন।
ফার্স্ট হোম ওনার গ্রান্ট নিয়ে আরও জানতে এখানে ক্লিক করুন
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.





