সোমবার নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠক চলাকালীন এই মৃত্যুর খবর পান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকে নির্দেশ দেন, যে ব্যক্তি মারা গিয়েছেন, তাঁর মৃতদেহ থেকে যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়, সে দিকে নজর দিতে হবে।ডাক্তারদের পরামর্শ মেনে গোটা প্রক্রিয়া যাতে সম্পন্ন হয়,তা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।দমদমের বাসিন্দা এই প্রৌঢ়ই রাজ্যের চতুর্থ করোনা আক্রান্ত।মৃত ব্যক্তির দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। নিয়ম মেনে সত্কার করা হবে বলে জানান হয়েছে।
এর মধ্যে করোনাভাইরাসের ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া যথেষ্ট উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতেও। কিন্তু এখনও অনেকেই লকডাউনকে গুরুত্ব সহকারে বিচার করছে না বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লকডাউন না মানলে এবার অভিযুক্তকে প্রয়োজনে জেলে ভরতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবারই রাজ্যগুলিকে লকডাউন না মানলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নিতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। হিন্দিতে একটি ট্যুইট করে তিনি বলেছেন লকডাউন নিয়ে প্রশাসনের যাবতীয় নির্দেশিকা যে মানা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে হবে সব রাজ্য সরকারকে।

প্রয়োজনে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন,অনেকেই এখনও লকডাউনকে সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না। দয়া করে নিজেকে রক্ষা করুন এবং নিজের পরিবারকে রক্ষা করুন। প্রশাসনের যাবতীয় নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন।
অন্যদিকে বিশ্ব জুরে করোনা ছড়াচ্ছে দ্রুত গতিতে। ভারতে এই মারণ রোগ আক্রন্তের সংখ্যা ৩৪৭। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। ভারতে এই মারণ ভাইরাস ঠেকাতে ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে প্রচুর পদক্ষেপ তবুও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা।
করোনা মোকাবিলায় ভারতে লকডাউন ৭৫টি এলাকা। কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে ২৩ মার্চ বিকেল থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন। এই অবস্থায় মার্কিন স্বাস্থ্য সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ ডায়নামিকস, ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিসি গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, এই মারণ রোগে ভারতেই আক্রান্ত হতে পারে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ। সংস্থার পরিচালক রামানান লক্ষ্মীনারায়ণ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, খুব দ্রুত করোনাভাইরাস সংক্রমণের সুনামি বয়ে যেতে পারে ভারতে। ভারতে ৩০ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ মানুষের অবস্থা সঙ্কটজনক হতে পারে।

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
