পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় আনতে ৫৬ বছর সময় লাগতে পারে

ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসার জন্য অপেক্ষার সময়কাল অনেক বেড়ে গেছে। সরকার বাৎসরিক অভিবাসনের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ায় অপেক্ষাকাল বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Australian visas : new migrant visas

Australian visas : new migrant visas Source: Digital Vision/Getty Images

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত নাগরিক কিংবা স্থায়ী অভিবাসীরা যদি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে নিয়ে আসতে চান সেক্ষেত্রে কোনো কোনো “ফ্যামিলি রিইউনিয়ন” ভিসার জন্য অপেক্ষার সময়কাল অনেক বেড়ে গেছে। একটি সিনেট এস্টিমেট কমিটির সভায় জানা গেছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর জন্য ৫৬ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এ রকম পরিস্থিতিতে অভিবাসনের সমর্থক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো অসন্তুষ্ট হয়েছে।

গত সপ্তাহে সিনেট এস্টিমেটের একটি সভায় অংশগ্রহণকারী ইমিগ্রেশন ও ভিসা সেবাদানকারী একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সিনেট এস্টিমেট শুনানিতে ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পেটা ডান বলেন, ৭৫ শতাংশ পার্টনার এপ্লিকেশন প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে সময় লাগে ১৪ থেকে ২১ মাস। আর, ৭৫ শতাংশ চাইল্ড এপ্লিকেশন প্রক্রিয়াকরণে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ মাস।

কন্ট্রিবিউটোরি প্যারেন্টস ভিসার ক্ষেত্রে ৪৭,৪৫৫ ডলার ফি দিতে হয়। এই ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য গড়ে ৪৫ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

আর, নন-কন্ট্রিবিউটোরি প্যারেন্টস ভিসার জন্য গড়ে ৩০ বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া, “আদার ফ্যামিলি” ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৫৬ বছর পর্যন্ত।

বর্তমানে ৪৯,৯৮৩ টি নন-কন্ট্রিবিউটোরি প্যারেন্ট এপ্লিকেশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আর, প্রক্রিয়াধীন “আদার ফ্যামিলি” এপ্লিকেশনের সংখ্যা ৮,১১১।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সিটিজেনশিপ সার্ভিসের অ্যাক্টিং ডেপুটি সেক্রেটারি লুক ম্যানসফিল্ড সিনেট এস্টিমেটসকে বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পেছনে সরকারের দ্বারা অভিবাসন সংখ্যা নির্ধারণের বিষয়টি দায়ী।

“ফ্যামিলি এন্ট্রির তুলনায় বিগত কয়েক বছর ধরে সরকার স্কিলড এন্ট্রির বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।”

Greens Senator Nick McKim.
Greens Senator Nick McKim. Source: AAP

“ভয়ানক সংখ্যা”

সিনেট এস্টিমেটস শুনানিতে ৫৬ বছর ধরে অপেক্ষা করার বিষয়টি উত্থাপন করেন গ্রিনস দলের সিনেটর নিক ম্যাককিম। তিনি বলেন, ৫৬ বছর অপেক্ষার বিষয়টি “একটি ভয়ানক সংখ্যা”।

“নন-কন্ট্রিবিউটোরি প্যারেন্টস-এর জন্য ৩০ বছরের বেশি অপেক্ষা করার বিষয়টিও একই রকম,” বলেন তিনি।

“পরিবারগুলো বছরের পর বছর অপেক্ষা করে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য কয়েক দশক লেগে যায়। … এই পদ্ধতি ভেঙ্গে পড়েছে।”

ফেডারেশন অফ এথনিক কমিউনিটিস কাউন্সিলস (FECCA)এর সিইও মোহাম্মদ আল-খাফাজি বলেন,

“খোলাখুলিভাবে বললে, বহু পরিবারের সদস্যরা তাদের ভিসা আবেদনের জবাব পাওয়ার আগেই মারা যাবে।”

“দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সিনেট এস্টিমেটস-এ যা প্রকাশিত হয়েছে, তা আমরা বহু আগে থেকেই জানি। ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসার জন্য পরিবারগুলোকে কঠোরভাবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।

Visa parents
Source: Getty Images

ফ্যামিলি ভিসার সংখ্যা কমানো হয়েছে

গত সপ্তাহের বাজেটে মাইগ্রেশন নীতিমালায় সরকারের আনীত বিভিন্ন পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

কোয়ালিশন এর আগে ঘোষণা করেছিল, ২০১৯-২০ থেকে আগামী চার বছরে তারা অস্ট্রেলিয়ার বার্ষিক অভিবাসন সংখ্যা ১৯০,০০০ থেকে কমিয়ে ১৬০,০০০ এ নিয়ে আসবে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুসারে, ফ্যামিলি স্ট্রিমে আগামী বছরে থাকবে ৪৭,৭৩২ টি স্থান। এই অর্থ-বছরে এই সংখ্যা ছিল ৬০,৭৫০।

সিনেটর ম্যাককিম বলেন,

“এ বছর ১৩,০০০ পরিবারের ক্ষেত্রে পুনর্মিলন ঘটবে না।”

“এটি অনেক বড় এবং অপ্রয়োজনীয় ‘কাট’ যা অভিবাসী পরিবারগুলোর উপর বড় প্রভাব ফেলবে। অবধারিতভাবে পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকবে। অথচ সরকারের উচিত যতো বেশি সম্ভব পরিবারগুলোর পুনর্মিলন ঘটানো।”

মিস্টার আল-খালাফ এই ‘কাট’ বা ভিসা প্রদানের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে বলেন,

“ফেডারাল সরকার এটা নিশ্চিত করেছে যে, আবেদনকারীদের জন্য কোনো স্বস্তি থাকবে না এবং অপেক্ষা করার সময় এবং দীর্ঘসূত্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

Follow this link for more information

Follow SBS Bangla on FACEBOOK.


Share

3 min read

Published

By Nick Baker

Presented by Sikder Taher Ahmad



Share this with family and friends


Follow SBS Bangla

Download our apps

Watch on SBS

SBS Bangla News

Watch it onDemand

Watch now