অস্ট্রেলিয়ার গ্রান্ড মুফতি ড. ইব্রাহিম আবু মোহাম্মদ বলেন, মুসলমান অভিবাসীদের অস্ট্রেলিয়ায় আসা বন্ধ করতে বলেছেন সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং। এটি তার ‘বর্ণবাদী এবং অপরিণামদর্শী’ আচরণ।
গত মঙ্গলবার ক্যাটার’স অস্ট্রেলিয়ান পার্টির (কেএপি) আপার হাউজ এমপি ফ্রেজার অ্যানিং অস্ট্রেলিয়ায় মুসলমানদের অভিবাসন বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি ‘ইওরোপিয়ান-অনলি ইমিগ্রেশন সিস্টেম’-এর জন্যও প্লেবিসাইট বা গণভোটের আয়োজন করতে বলেন।
সংসদে তার প্রথম ভাষনে তিনি দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ান মুসলমানদের একটি বড় অংশ কাজ করে না, তারা সোসাল ওয়েলফেয়ার ভাতা গ্রহণ করে থাকে।
“সব মুসলমান সন্ত্রাসী না হলেও এটা নিশ্চিত যে, বর্তমান যুগের সব সন্ত্রাসীই মুসলমান”, বলেন সিনেটর অ্যানিং।

অস্ট্রেলিয়ার গ্রান্ড মুফতি ড. ইব্রাহিম আবু মোহাম্মদ এসবিএস অ্যারাবিক২৪-কে বলেন,
“কোনো ঘটনার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি করে দেওয়াটা আমার কাজ নয়, বরং উত্তেজনার প্রশমন করাটাই আমার কাজ। কিন্তু, সিনেটর অ্যানিং যদি সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনা করতে চান, তাহলে আমি তাকে অমুসলিমদের সন্ত্রাসের পরিসংখ্যান দেখাতে পারি।”
“ইরাকে কী ঘটেছে সেজন্য মুসলমানরা দায়ী নয়। আফগানিস্তানে কী ঘটেছে তার জন্যও মুসলমানরা দায়ী নয়।”
সিনেটর অ্যাংনিংয়ের এই মন্তব্যের কী রকম প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত মুসলমান সম্প্রদায়ের, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
“আমরা এ রকম মন্তব্য উপেক্ষা করে অভ্যস্ত। মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাফল্য লাভ করার মাধ্যমে এর জবাব দিচ্ছে। সমাজে সফল পেশাজীবি সরবরাহের মাধ্যমে তারা এর জবাব দিচ্ছে। এটি আমাদের দেশও বটে।”

কেএপি নেতা বব ক্যাটার তার দলের এমপির এই মন্তব্যের শতভাগ সমর্থন করেছেন। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“এটি একটি অসাধারণ বক্তৃতা ছিল। একেবারে নিখাদ সোনা।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যা বলছি তা হলো, কারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে? অস্ট্রেলিয়ানরা।”
“গত তিন বছরে আটটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, বোর্ক স্ট্রিট এ খুনের ঘটনায় আল্লাহু আকবর স্লোগান দেওয়া হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকাতেও দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আল্লাহু আকবর স্লোগান দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে, গ্রান্ড মুফতি ড. ইব্রাহিম আবু মোহাম্মদ বলেন, সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিং “হঠকারিতার সঙ্গে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে। আর সে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ভূমিকা সম্পর্কে ভালভাবে অবহিত নয়।”
“আমি ভোটারদের সম্মান করি যারা তাকে ভোট দিয়েছে, আমি তাদের ইচ্ছা-স্বাধীনতারও সম্মান করি। তবে, আমি তাকে পরামর্শ দেই, সিনেটরের উচিত আরও একটি ক্ষেত্রে মনোযোগ দেওয়া। কারণ, তার ভাষা সেকেলে।”
ড. আবু মোহাম্মদ আরও বলেন,
“অস্ট্রেলিয়ান জনগণের উপর আমি বিশ্বাস রাখি। তারা বুদ্ধিমান। তাদের দয়া ও সচেতনতার উপরও আমি বিশ্বাস রাখি। তারা এই বহু-সাংস্কৃতিক সমাজের ব্যাপারে সচেতন।”
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল গ্রান্ড মুফতির নিয়োগ দেয়।
Follow SBS Bangla on FACEBOOK.
