ভিক্টোরিয়ার ইস্ট গিপসল্যান্ডের ভয়াবহ বুশফায়ারে ১৭ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন শহরে প্রায় ৪,০০০ লোক আটকে পড়েছেন।
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ বৃহস্পতিবার রিপোর্টারদেরকে বলেন, ইস্ট গিপসল্যান্ডের ছোট ছোট কমিউনিটিগুলো থেকে ১৭ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বেইর্নসডেলে রিপোর্টারদেরকে মিস্টার অ্যান্ড্রুজ বলেন,
“ঐ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কিংবা লোকজন নিঃসন্দেহে কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে পারে কিংবা আমরা তাদেরকে পেতে পারি মোবাইল ফোন কভারেজের মাধ্যমে কিংবা সে-সব কমিউনিটিগুলোর লোকদের মাধ্যমে।”
“তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো নিরাপদ। কিন্তু এ সময়ে যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের জন্য আমরা শঙ্কায় আছি।”

আকাশ ও সমুদ্র-পথে ৫০০ লোক স্থানান্তরিত করে অগ্নি-কবলিত শহরগুলো খালি করার পরিকল্পনা করেছে ভিক্টোরিয়ার ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস। তবে তারা বলছে, কিছু লোক হয়তো কয়েক সপ্তাহের জন্য আটকে পড়তে পারেন।
ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট ভিক্টোরিয়ার ডেপুটি কমিশনার ক্রিস স্টেফানসন বলেন, উপকূলবর্তী শহর মালাকোটা থেকে লোকজন সরানোর কাজ বৃহস্পতিবার শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো কোনো ব্যক্তি যারা তাদের যান-বাহন ছেড়ে যেতে রাজি হন নি তারা কয়েক সপ্তাহের জন্য আটকে পড়তে পারেন। বৃহস্পতিবার রিপোর্টারদেরকে তিনি বলেন,
“এখন কেউ কেউ হয়তো যেতে চাইবেন না। তারা হয়তো তাদের ফোর হুইল ড্রাইভসের সঙ্গে এবং তাদের ক্যারাভানের সঙ্গে থেকে যেতে চাইবেন সেই সময় পর্যন্ত যতক্ষণ না তারা রাস্তা-যোগে বের হতে পারেন। এবং এই পর্যায়ে তা দুই থেকে তিন সপ্তাহ হতে পারে।”

“আমরা এই সুযোগ দিব যত বেশি সম্ভব লোকজনকে বের করে অধিকতর স্বস্তিদায়ক স্থানে নেওয়ার জন্য। এটি আসলেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি স্থানে আগুন জ্বলছে। মালাকোটাতে চার হাজারেরও বেশি লোক এখনও আটকে আছে।
ডেপুটি কমিশনার সতর্ক করে বলেন, ইস্ট গিপসল্যান্ডের আগুনের তীব্রতা হ্রাসের কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায় নি।
তিনি বলেন,
“আমরা আশঙ্কা করছি এই উইকএন্ডে, শনিবার আবহাওয়া আরও খারাপ হবে এবং আগুনের আকার বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি আবারও বৃদ্ধি পাবে।”
“এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। এ নিয়ে আমাদেরকে সত্যিকারভাবেই সচেতন হতে হবে। আমাদের কমিউনিটিগুলো বেশ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।”
ডেপুটি কমিশনার আরও বলেন, যেসব শহরে বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা ও ফোন যোগাযোগ বিনষ্ট হয়েছে সেগুলো পুনঃস্থাপনের জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন। তিনি বলেন,
“দূরবর্তী কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আমরা স্যাটেলাইট ফোন নেওয়ার চেষ্টা করছি। এর মাধ্যমে সেসব কমিউনিটিতে আমরা ফায়ারফাইটার, অ্যাম্বুলেন্স ভিক্টোরিয়া প্যারামেডিকস এবং পুলিশ নিয়ে যাব, যেন আমরা মানুষদেরকে সতর্ক করতে পারি।”
বুধবার থেকে মিলিটারি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারগুলোতে করে বয়স্ক এবং অসুস্থ্য লোকদেরকে শহর থেকে বাইরে বহন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নেভি বোট উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

গিপসল্যান্ড এমপি ড্যারেন চেস্টার টুইট করেন,
“আর্মি ব্ল্যাক হকগুলো ইস্ট গিপসল্যান্ডে এসেছে। প্রথম কাজ সজীব ফায়ারফাইটারদেরকে মালাকোটায় বহন করা এবং নাজুক রোগীরা, যারা শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অন্যান্য সমস্যায় ভুগছেন, তাদেরকে নিয়ে ফেরত আসা।”
“তারা আমার কমিউনিটিকে সহায়তা করবে এবং চলমান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কাজ করবে। আপনাদের সেবার জন্য ধন্যবাদ।”

নৌ-জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৭৬ মিটার লম্বা এইচ-এম-এ-এস চৌলস। এগুলো বৃহস্পতিবার মালাকোটায় পৌঁছানোর কথা। এগুলো থেকে খাবার, পানি, জ্বালানি এবং সাময়িক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন স্থানের আগুনগুলোর বেশিরভাগই বৃহস্পতিবার ‘ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট’ লেভেলে রয়েছে। কয়েক দিন পর এগুলোর সতর্কাবস্থা আরও উন্নীত করা হতে পারে।
রাজ্যটির বিভিন্ন স্থানে এখনও আগুন জ্বলছে।
প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল অ্যান্ড্রুজ বুধবার ইস্ট গিপসল্যান্ডে কাটান। তিনি বলেন,
“আজ আমি লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, এটা ছিল হারিকেনের মতো ভয়ানক এবং তাদের জীবনের সবচেয়ে আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতা।”
“পুনর্গঠনের কাজের জন্য এই কমিউনিটিগুলোকে সহায়তা করতে আগামী কয়েক দিন ধরে অনেক কাজ করতে হবে এবং আগামী কয়েক মাস অনেক দীর্ঘ হবে।”
বুধবার অগ্নি-কবলিত বাকান-এ (Buchan) এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে।
২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না মাইক রবার্টস-এর। বুধবার তার ভাতিজি লিহ পার্সন্স নিশ্চিত করেন যে, তাকে তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
ইস্ট গিপসল্যান্ড ফায়ার সিজন ২০১৯-২০২০ ফেসবুক পেজে মিজ পার্সন্স লিখেন, “তিনি আর নিখোঁজ নন।”
“তার দেহ তার বাড়িতে পাওয়া গেছে ... বছর শুরু করার জন্য আমাদের জন্য খুবই দুঃখের দিন। কিন্তু, আমরা অনেক শক্ত পরিবার আর আমরা আমাদের সাথীকে, আমার চমৎকার চাচাকে কখনই ভুলবো না।”
যতদূর জানা গেছে, বাকান (Buchan)-এ এ পর্যন্ত ২৪টি স্থাপনা বিনষ্ট হয়েছে, সার্সফিল্ড-এ ১৯টি, মালাকোটাতে ১০টি এবং কেজিউয়াতে (Cudgewa) ১৫ টি স্থাপনা বিনষ্ট হয়েছে।
সেই অঞ্চলের বেশিরভাগ স্থানে ফোন-সংযোগ নেই। লোকজন তাদের প্রিয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না এবং অগ্নি-ঝুঁকি সম্পর্কে সাম্প্রতিক তথ্য পাচ্ছে না।
