বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচে পদ্মা ব্যারাজ গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতিতে নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প তৈরি হবে। এর ফলে বাংলাদেশের ২৪ টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করা হবে।
এদিকে, ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় হাম এবং হামের উপসর্গ ক্রমেই বাড়ছে, ফলে বাড়ছে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সংক্রমণ ছড়ানোর পিছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষকে ডিজেল-পেট্রল খরচ কমানোর বার্তা দেওয়ার পরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর নিরাপত্তা বলয় এবং কনভয়ে ৫০ শতাংশ গাড়ি কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতাতেও যা কার্যকর করা হয়েছে।
সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি শুনতে উপরের অডিও-প্লেয়ারটিতে ক্লিক করুন।
এসবিএস বাংলার আরও পডকাস্ট শুনতে ভিজিট করুন আমাদের ওয়েবসাইট।
আপনি কি জানেন, এসবিএস বাংলা অনুষ্ঠান এখন ইউটিউব এবং এসবিএস অন ডিমান্ডে পাওয়া যাচ্ছে?
এসবিএস বাংলা এখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সকল জনগোষ্ঠীর জন্য এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেলের অংশ।
এসবিএস বাংলা লাইভ শুনুন প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এসবিএস সাউথ এশিয়ান-এ, ডিজিটাল রেডিওতে, কিংবা, আপনার টেলিভিশনের ৩০৫ নম্বর চ্যানেলে। এছাড়া, এসবিএস অডিও অ্যাপ-এ কিংবা আমাদের ওয়েবসাইটে। ভিজিট করুন www.sbs.com.au/bangla.
আর, এসবিএস বাংলার পডকাস্ট এবং ভিডিওগুলো ইউটিউবেও পাবেন। ইউটিউবে সাবসক্রাইব করুন এসবিএস সাউথ এশিয়ান চ্যানেল। উপভোগ করুন দক্ষিণ এশীয় ১০টি ভাষায় নানা অনুষ্ঠান। আরও রয়েছে ইংরেজি ভাষায় এসবিএস স্পাইস।
Read more about SBS’s use of AI
এসবিএস বাংলা। কলকাতা থেকে বাংলাদেশ এবং ভারতের সাম্প্রতিকতম খবরগুলো উপস্থাপন করছি আমি পার্থ মুখোপাধ্যায়। পদ্মা বারেজ বাংলাদেশের স্বার্থের ব্যাপার। ভারতের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদুদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, গঙ্গা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন, সেটা চলছে। ঢাকায় জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা বারেজ প্রকল্প অনুমোদনের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেছেন। বিবিসি বাংলা এবং বাংলাদেশের অন্য সংবাদ মাধ্যমের খবর, জলসম্পদ মন্ত্রী বলেছেন, পদ্মা বারেজ দেশের মোট আয়তনের এক তৃতীয়াংশ চব্বিশটি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ এর উপকার পাবেন। পাঁচ বছরে প্রতি বছর সাত হাজার কোটি টাকা করে সম্ভাব্য চৌত্রিশ হাজার চারশ চুরানব্বই কোটি টাকা ব্যয়ে দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে প্রকল্পটি। বাংলাদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী শহীদুদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল খননের মাধ্যমে জল আনা প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে জল মজুদের কারিগরি দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা চুক্তি বাস্তবায়নে কারিগরি দল কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেছেন মন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে সেটা কাটিয়ে উঠতে রাজবাড়িতে ব্যারেজের যে অংশ হবে সেখানে জল মজুদ করা হবে। কিন্তু চুয়ান্নটি নদীর হিস্যা এখানে নয়।
ফারাক্কা ব্যারেজের কারণে যেই ক্ষতিটা আমাদের উনিশশ ষাট সাল থেকে এখন পর্যন্ত হয়ে আসতেছে, আমরা চুক্তি করে পানিটাকে নিয়ে আসতেছি।
চুয়ান্নটি নদীর
চুক্তির মধ্যে। সুতরাং এখন আমরা যেটা করব যে রাজবাড়ির ফাংশায় এখানে আমরা যে ব্যারেজটা তৈরি করব, এই ব্যারেজটা তৈরি করার অর্থ হলো এখানে একটা রিজার্ভার গড়ে ওঠা এবং অ্যা, পদ্মা এই পানি যেটা শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। তার আগেই আমরা একদিকে, অ্যা, খননের মাধ্যমে সেখানে পানি জমিয়ে রাখা, বৃষ্টির পানি, বন্যার পানি সেটাকে জমিয়ে রেখে বিভিন্ন নদীতে, নদী থেকে, নদীর সঙ্গে এই পদ্মার সঙ্গে, অ্যা, খালের সঙ্গে যে কানেক্টেড করে দিব। তাহলে তো আমরা এই রেজাল্টটা পাচ্ছি।
এদিকে বিবিসি বাংলা এবং বাংলাদেশের অন্য সংবাদ মাধ্যমের খবর, হামের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু মৃত্যু বাংলাদেশকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। কার্যত মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজধানী ঢাকা। পনেরই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সরকারি তথ্যেই হাম এবং উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গিয়েছে চারশ চব্বিশ জন শিশুর। শুধু তাই নয়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় হাম এবং হামের উপসর্গ এ এগারো জন শিশুর মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। হামের সংক্রমণকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে তদন্তের পর এই সংকটের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো হলেও সরকার এই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বেশিরভাগ জেলাতেই টিকাদান শেষ হয়েছে। বাকি শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে।
As you know the measles vaccine we are zero in any way with the help of the all donor organizations like UNICEF, World Health Organization, Gavi, ADB we have been able to collect the sufficient number of measles vaccines and we have started the vaccination program all over the country and by this time we have achieved ninety eight percent of our targets. Now we are calling the unvaccinated babies if remains to have vaccination all over the country.
এদিকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের জেরে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পঁয়ষট্টি জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বাকিরা। বিবিসি বাংলা এবং বাংলাদেশের অন্য সংবাদ মাধ্যমের খবর, এই সময়ের মধ্যে নতুন করে এক হাজার পাঁচশ তিন জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যার জেরে সংক্রমণের শিকার প্রায় উনপঞ্চাশ হাজার একশ উনষাট জন। উল্লেখযোগ্য, ময়মনসিংহ, রংপুর এবং বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে হাম এবং উপসর্গ এ মৃত্যুর সংখ্যা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ওদিকে হামে শিশু মৃত্যুর জন্য নানা মহল থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমকে দায়ী করা হচ্ছে। অভিযোগ, দুই হাজার চব্বিশ সালে আটই আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ইউনিসেফের থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে ব্যক্তিগতভাবে টিকা কেনার ব্যবস্থা করেন। আর এই টিকা কেনার অব্যবস্থার কারণেই পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় বলে শাসকদল বিএনপির তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে। আর ভারতে দেশে বাড়তে থাকা জ্বালানি সংকট এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যে সংযমের বার্তা দিয়ে এবার নিজেই উদাহরণ তৈরি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাধারণ মানুষকে পেট্রোল ডিজেলের কম খরচ করার পরামর্শ দেয়ার পর এবার নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যায় এক ধাক্কায় অর্ধেক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তারপরেই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ সহ অন্য মন্ত্রী সচিবদের গাড়ির সংখ্যা মানে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা অর্ধেক করা হয়েছে। এদিকে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা পঞ্চাশ শতাংশ কমানো হয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছেন।
এই কাজ করেছি এবং আমি উনার টুইট দেখার পরে মানে খবরটা দেখার পরে হ্যাঁ আমিও আমার সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা লোকজনকে বলেছি অপ্রয়োজনীয় গাড়ি রাখার প্রয়োজন নাই।
পাশাপাশি বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বহরে এবার বাড়বে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যবহার, যা কার্যত দেশকে স্বাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব পথ দেখানোর নতুন উদ্যোগ। সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এসপিজিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়। তবে নিরাপত্তার নিয়ম যাতে কোনোভাবে ক্ষুন্ন না হয় তা দেখতেও বলা হয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার পরই এসপিজি পরিবর্তন কার্যকর করতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরও জানিয়েছেন, কনভয়কে ধাপে ধাপে ইভি নির্ভর মানে ইলেকট্রিক ভেহিকেল নির্ভর করতে হবে। তবে এজন্য নতুন গাড়ি কেনা চলবে না, বরং যে গাড়িগুলো রয়েছে সেগুলো দিয়েই রদবদল করতে হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের পর একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রকও জ্বালানি স্বাশ্রয়ের পথ খুঁজছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরাও কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাটিলও নিজের নিরাপত্তা বহরে এস্কর্ট ভেহিকেল বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরপরেই হায়দ্রাবাদ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বার্তা পাওয়ার পরই পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত মন্ত্রীদের জ্বালানি স্বাশ্রয়ী করার জন্য কনভয়ে গাড়ির বহর অর্ধেক করার জন্য নির্দেশ জারি করা হয়েছে। [নিদৃষ্ট শব্দ] এতক্ষণ বাংলাদেশ এবং ভারতের সাম্প্রতিক খবরগুলো শুনলেন। পরিবেশনায় ছিলাম আমি পার্থ মুখোপাধ্যায়।





